শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের সমস্যা সমাধানে কিছু পরামর্শ

24

দশ বছর আগের একটা সমীক্ষায় জানা যায় যে, বাংলাদেশে ২৪ লক্ষ শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের ঢল। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে দেশের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বিনিয়োগ না করলে সরকার যেমন অর্থনৈতিক চাহিদার মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগণের কর্মের মাঝে বেঁচে থাকার সংগ্রামও অবলুপ্ত হয়ে পড়বে। তাই এদের উপেক্ষা করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভবপর নয়। এই বিপুল জনশক্তিকে কর্মক্ষম করার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় (সকম) দেশের সকল ধরণের প্রতিবন্ধী জনগণের সেবার এক মহান আদর্শ নিয়ে গঠিত হয়েছে। দেশের সকল শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগণের জন্য সকমের মিশন হওয়া উচিৎ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মনৈতিক, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অধিকারসমূহের নিশ্চিতকরণ এবং ভিশন- এ সকল নৈতিক অধিকারসমূহের বাস্তবায়ন। এ লক্ষ্যে সকম নিম্ন লিখিত পদক্ষেপগুলি অবলম্বন করে দেশের সকল শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগণের সার্বিক কল্যাণে সুদূর প্রসারীর ভূমিকা পালন করতে পারে:-
১। সকমের অধীনে বাংলাদেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগণের একমাত্র জাতীয় সিভিল রাইটস প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ দ্যা ডেফ (বিএনএফডি) স্থায়ীভাবে অস্তিত্ব থাকবে এবং এর উন্নতি ও নিরাপত্তার সার্বিক ব্যবস্থাদি নিবে।
২। বিএনএফডি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ দ্যা ডেফ (ডব্লিউএফডি) এর বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং বিএনএফডি এর শাসনতন্ত্র ডব্লিউএফডি এর অনুমোদন সাপেক্ষ হতে হবে।
৩। সকম বিএনএফডি এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগণের আশা-আকাঙ্খার মূর্ত প্রতীক ইশারা ভাষার একত্রীকরণ ও প্রমিতীকরণের সম্ভাব্য যাবতীয় ব্যবস্থাদি নিবে এবং এ লক্ষ্যে একটি “বাংলা ইশারা ভাষা ইনস্টিটিউট” গঠন করবে যাতে ইশারা ভাষা সম্পর্কে গবেষণাদি শুরু করা যায়।
৪। বিএনএফডি বাংলাদেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগণের ভাষা ইশারা ভাষার সংরক্ষণ করবে। শ্রবণ প্রতিবন্ধী বলতে বুঝাবে বধির (Deaf), কানে খাটো (Hard of Hearing) এবং বয়ো বা পরবর্তী জীবনের বধির (deafened)।
৫। বিএনএফডি ইশারা ভাষার ইন্টারপ্রিটার, লিপস্পিকার, নোট-টেকার, ইলেকট্রনিক নোট-টেকার, ক্লোজড ক্যাপসনিং, ইন্টারনেট, ই-মেইল, দ্বি-পেইজার, টেক্সট টেলিফোন, টেলি কমিউনিকেশন রিলে সার্ভিস, ভিডিও ইন্টারপ্রিটিং সার্ভিস, ভিজুএল এলার্টিং ডিভাইস, ভাইব্রো ট্যাকটাইল ডিভাইস, হিয়ারিং এইডস, এম্পলিফিকেশন ডিভাইস, অডিও লুপ এবং লিসনিং সিস্টেম ইত্যাদির ব্যবস্থাদি করবে যাতে দেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধাদি গ্রহণকল্পে জীবন-যাত্রার মান উন্নত করতে পারে এবং এগুলির প্রতিটি সুযোগ-সুবিধাদি প্রতিটি জেলার “ডিপার্টমেন্ট অব রিহাবিলিটিশন সার্ভিস” এর মাধ্যমে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
৬। বিএনএফডি নন-প্রফিট সংস্থা হিসাবে এর অর্থনৈতিক চাহিদা মিটাতে বার্ষিক ফান্ড রাইজিং কার্যাবলী সূচনা করতে পারে। এ ব্যাপারে এন্ডাউনমেন্ট ফান্ড, ফিলানথ্রপি ফান্ড, চ্যারিটেবল ডোনেশান এবং গর্ভমেন্ট এজেন্সি বিএনএফডিকে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও ডব্লিউএফডি, গ্যালুডেট ইউনিভারসিটি এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন শাখা থেকে বিএনএফডি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সাহায্য পেতে পারে। এ ব্যাপরে বিএনএফডি এর প্রয়োজন একজন সার্বক্ষণিক ফান্ড রাইজিং এক্সপার্টের।
৭। সকম দেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগণের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করবে এবং সকল বৈষম্যের অবলুপ্তি ঘটিয়ে দেশের সকল কার্যাবলীতে পরিপূর্ণ অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিবে।
৮। সকম দেশের সকল শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের আইডি কার্ড প্রবর্তন করবে এবং তা সরকারী লাইসেন্স প্রাপ্ত অডিওলজিস্টদের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
৯। শাসনতন্ত্রে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইনসমূহে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জীবন, স্বাস্থ্য, চলনশীলতা, শিক্ষা, কর্ম, রাজনীতি, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও অন্যান্য প্রাইভেট বা পাবলিক সার্ভিসে যে সমস্ত অধিকারসমূহ প্রবর্তন করা হয়েছে, তা সকম সার্বক্ষণিক তদারক করবে এবং এ ব্যাপারে সকম ডিজএবিলিটি একশন কাউন্সিল ও ডিজএবিলিটি রাইটস এডমিনিস্ট্রেশন গঠন করতে পারে।
১০। পারস্পরিক মূল্যবোধ ও সমঝোতা রক্ষাকল্পে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও তাদের সম্পর্কে সুষ্ঠু ধারণার জন্য সকম জনসচেতনার ব্যবস্থা নিবে।
১১। সকম শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের বাস-ট্রেনে যাতায়াতের জন্য ডিসকাউন্ট কার্ড প্রবর্তন করবে এবং যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ড্রাইভার লাইসেন্স প্রাপ্তির ব্যবস্থাদি করবে।
১২। দেশের স্কুলগামী সকল শ্রবণ প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের জন্য ফ্রি এলেমেন্টারি ও হাই স্কুলের ব্যবস্থাদি থাকবে। বিশেষ শিক্ষা ও ক্লাসের জন্য স্পেশাল ট্রেনিং প্রাপ্ত টিচাররা থাকবেন এবং তাঁরা টোটাল কমিউনিকেশন বা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ এবং লিপ রিডিং এর মাধ্যমে শিক্ষা দিবেন। বাংলা ইশারা ভাষা হচ্ছে বাংলাদেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের ভাষার পরিচিতি এবং সোসাইটি অফ ডেফ এন্ড সাইন ল্যাংগুয়েজ ইউজারস (এসডিএসএল) ইতিমধ্যেই প্রবর্তন করেছে ইন্টারপ্রিটার ও সাইন ল্যাংগুয়েজ ট্রেনিং প্রোগ্রাম। স্পীচ থেরাপি সাহায্য করতে পারে শ্রবণ প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের কথা বলার শক্তি। যে সমস্ত এক্সপার্ট শ্রবণ বিশৃঙ্খলা পরীক্ষা করেন, তাঁদের বলা হয় অডিওলজিস্ট। তাঁরা শিশুদের শ্রবণ ক্ষমতা যে ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, তাকে বলা হয় অডিওমিটার। শব্দ শুনা ও স্পীচ বুঝার জন্য হিয়ারিং ইম্পিয়ার্ড স্টুডেন্টরা সাউন্ড আমপ্লিফাইয়ার ব্যবহার করতে পারে এবং তারা বিশেষ বা রেগুলার ক্লাস উভয়তে ভর্তি হতে পারে এবং রেগুলার ক্লাসে যদি প্রয়োজন হয়, তারা বিশেষ সাহায্য পেতে পারে।
১৩। হাই স্কুল গ্রাজুয়েশনের পর, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ বা উচ্চ শিক্ষার বিশেষ প্রতিষ্ঠানগুলিতে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারে এবং সেখানে অফিস অফ দ্যা সাপোর্ট সার্ভিস (ওএসএস) থাকবে এবং ওএসএস শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কারণযোগ্য বন্দোবস্ত করবে যেমন: ইন্টারপ্রিটার, নোট-টেকার এবং Xerox কপি মেশিন পাস ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে তাদের একাডেমিক লক্ষ্য সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ করবে। যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা সরকারী খরচে চার বছর পড়াশুনা করার সুযোগ পাবে। ওএসএস যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রবণ প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের ফুলব্রাইট স্কলারশীপের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি অবগত করবে। আমেরিকার সাইন ল্যাংগুয়েজ ট্রেনিং শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষার জন্য সাহায্য করবে এবং এ ব্যাপারে তারা ভিডিওতে আমেরিকান সাইন ল্যাংগুয়েজ শিখতে পারে।
১৪। পৃথিবীর সকল শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের কাছে অংক, এলজেবরা ও জ্যামিতি কঠিন বিষয়। সে জন্য প্রয়োজন দেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য গবেষণালব্ধো যুগোপযোগী জাতীয় শিক্ষানীতি। এ ব্যাপারে দেশের শিক্ষা মন্ত্রনালয় গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে।
১৫। শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের যোগাযোগের জন্য শক্তিশালী মাধ্যম রয়েছে এবং সেগুলি হলো টেলিফোনে যোগাযোগ টিডিডি (টেলিকমিউনিকেশন ডিভাইস ফর দ্যা ডেফ) বা টেলিটাইপরাইটার (টিটিওয়াই), ভিডিও ফোন (ভিপি) ও রিলে কলের মাধ্যমে এবং এগুলি বাংলা বা ইংরেজীতে যোগাযোগ করা যেতে পারে এবং টেলিভিশনে যোগাযোগ ক্লোজড ক্যাপসন প্রোগ্রামের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে। ক্লোজড ক্যাপসন প্রোগ্রাম শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের সমর্থ করে টেলিভিশন প্রোগ্রামগুলির উপভোগ্যের। কারণ প্রিন্টকৃত ডায়লগগুলি টিভি পর্দায় দৃষ্টিগোচর হয়। ক্লোজড ক্যাপসন বাংলা বা ইংরেজীতে হতে পারে এবং একে ”সাবটাইটেল টেলিভিশন” বলে। সকম দেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য এ সমস্ত আধুনিক টেলিকমিউনিকেশনসমূহ প্রচলন করে তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নত করতে পারে।
১৬। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এমপ্লয়াররা যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দিবে এবং এ ব্যাপারে তারা টেক্স ক্রেডিট পেতে পারে। দেশে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য টেলিকমিউনিকেশন হলে এমপ্লয়াররা তাদের বিজনেস যোগযোগের জন্য টিডিডি প্রদান করতে পারে।
১৭। শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের উচ্চ কারিগরি শিক্ষার সুযোগ প্রতিষ্ঠাকল্পে সকম “ন্যশনাল ইনস্টিটিউট ফর দ্যা ডেফ” গঠন করে দেশে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের স্বর্ণযুগের সূচনা করতে পারে।
১৮। বধিরতা বা শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা (Deafness) এথলেটদের স্পীড হ্রাস করে না, উঁচুতে জাম্প করার শক্তি ম্লান করে না, ক্রিকেটে ব্যাট ও বোলিং এ দক্ষতা কমায় না, টেনিসে রাকেট সুইং এ অসুবিধা ঘটায় না এবং সাঁতারে পুলের শেষ লেনে পৌঁছতে কাহিলাবস্থা করে না। অতএব শ্রবণ প্রতিবন্ধী এথলেটরা এবল বডি স্পোর্টসের সাথে প্রতিযোগিতা করার যোগ্য। তাইতো বিশ্ব অলিম্পিকে দেখতে পাই শ্রবণ প্রতিবন্ধী এথলেটদের শুধু অংশগ্রহণ নয়, এমন কি অলিম্পিকের সোনার মেডেল ছিনিয়ে আনার উদাহরণ। বাংলাদেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধী এথলেটদের শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের দেশে ও আন্তর্জাতিক খেলাধূলায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি এবল বডি স্পোর্টসের সাথেও প্রতিযোগিতা করতে হবে। আজকাল শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা যেমন হিয়ারিং স্টুডেন্টদের সমভাবে পড়াশুনা করতে পারে, তেমনি এবল বডি স্পোর্টসের সাথেও খেলতে পারে। ইউনেস্কো খেলাধূলার জগতে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের অবদান স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই বাংলাদেশের মিনিস্ট্রি অফ স্পোর্টস – ডেফ ¯েপার্টসকে শুধু তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা দেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের খেলাধূলার নব জাগরণের জন্য “বাংলাদেশ ডেফ স্পোর্টস ফেডারেশন” গঠন করতে পারে।
১৯। শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না। দেশের স্থানীয় সরকারের সকল স্তরে যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য আসন সংরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় সংসদে ন্যূনতম ১৫টি আসন দেশের মোট জনসংখ্যার ১০% যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী প্রতিনিধিদের মধ্যে ২% যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলির সকল পর্যায় কমিটিতে একটি শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিষয়ক পদের সৃষ্টি করতে হবে এবং তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সকম শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের রাজনৈতিক অধিকার কার্যকরী করার যাবতীয় পদক্ষেপ নিবে।
২০। সকম শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মাসিক ম্যাগাজিন “শ্রবণ প্রতিবন্ধী পৃথিবী” অথবা “বধির বিশ্ব” প্রকাশ করে দেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।
২১। দেশের সকল শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্মান ও স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর ৭ ফেব্র“য়ারি জাতীয়ভাবে বাংলা ইশারাভাষা দিবস উদযাপন করতে হবে।

ইফতু আহমেদ
অরোরা, ইলিনয়, আমেরিকা