আলাদা অধিদপ্তর দ্রুত বাস্তবায়িত হোক

বিশ্ব ব্যাংক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ অনুযায়ী পৃথিবীতে ১০০ কোটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বসবাস। সেই হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে মূল জনসংখ্যার ১৫ ভাগ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ। এদের মাঝে আছে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষ, তাদের নানান চাহিদা ও সমস্যা। স্কুল কলেজে ভর্তি সমস্যা, প্রতিবন্ধী কোটার যথাযথ বাস্তবায়ন বা মনিটরিং না হওয়া, সহায়ক যাতায়াত ব্যবস্থা ও প্রবেশগম্যতার অভাব। এক একটি বিষয়ের সাথে জড়িত এক একটি বিভাগ।

 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য নেই কোন নির্বাচিত সংসদ সদস্য। বিভিন্ন মন্ত্রাণালয় বিভিন্ন দিক দিয়ে জড়িত থাকলেও, প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি সমাজকল্যাণ মন্ত্রাণালয়েরই নিয়ন্ত্রাণাধীন, এমন কি শিক্ষা পর্যন্ত। যদিও এককভাবে সব সমস্যার সমাধান এই মন্ত্রাণালয় দিতে পারছে না, সেটা সম্ভবও নয়। মন্ত্রাণালয়গুলোতে নানান কাজের চাপে অস্বীকার করার উপায় নেই প্রতিবন্ধিতার বিষয়গুলো ইচ্ছে না থাকলেও কম গুরুত্ব পায়। আবার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা জানেন না কোন ধরনের অভিযোগ বা সহায়তার জন্য কোথায় যেতে হবে। তাই প্রায়শই তাদের হয়রানির শিকার হতে হয় এবং ফলে তারা দিশেহারা বোধ করেন।

 

বর্তমান সমাজকল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের অধীন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশেনকে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তরে রূপান্তর করতে জন প্রশাসন মন্ত্রাণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং বলা হচ্ছে আলাদা অধিদপ্তর গুরুত্ব সহকারে আমাদের বিষয়গুলো দেখবেন এবং সেটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের কাছে তুলে ধরবেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য এটা কাজ করবে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মত। যদিও ধীরে ধীরে সারা দেশব্যাপী প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্র গড়ে উঠছে। যেই সেবা কেন্দ্রগুলো অধিদপ্তরের সাথে সরাসরি কাজ করবে বলে আমরা মনে করছি। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী তথ্যসম্ভার ও নেটওয়ার্কও গড়ে উঠবে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সালে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আলাদা একটি অধিদপ্তরের কথা বলেছিলেন যা এবারের অর্থ বাজেটে ঘোষনা দেয়া হয়েছে। সেজন্য সাধুবাদ জানাই সরকারকে।  তবে এর জন্য কোন আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে কিনা সে বিষয়ে কিছু বলা হয় নি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা অধিদপ্তরের দাবী শুধুমাত্র আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বব্যাপী করা হচ্ছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে তা বাস্তবাায়িত হয়ে গেছে। আমাদের দেশে  এই উদ্যোগ যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না যায় সেদিকেও নজর দিতে হবে। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্র”তি অনুযায়ী এই কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।