প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট ২০১৩-১৪; “নেই” এর হাহাকার!

 

তানজিদ শুভ

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব ব্যাংক এর পরিসংখ্যান বলছে এদেশে প্রায় পনেরো ভাগ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছেন। যা দেশের জনসংখ্যার হিসেবে একটি বড় অংশ এবং একটি বড় সমাজও। তবে দুঃখজনক হলো, এই বিশাল সম্পদকে কাজে না লাগিয়ে সমাজে বোঝা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে। বাইরের জগতটাকে জানার, বোঝার অথবা সমাজে সকলের সাথে মেলামেশার সুযোগই তাদের হয়ে উঠে না। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম বাধাটা আসে পরিবার থেকে। এখনো সেই পুরনো সামাজিক রীতি অনুযায়ী সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে পরিবার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিটিকে ঘরের চার দেয়ালের গন্ডিতেই সীমাবন্ধ রাখছেন। আসলে সমস্যাটা ঠিক কোথায় ? পরিবার, সমাজ তথা ব্যক্তি নাকি রাষ্টের? আমি অবশ্যই বলবো এই তিন সমষ্টিই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রতিতে বাধার সৃষ্টি করে।

 

নিরাপদ চলাচল, ভোটাধিকার প্রয়োগ, সুনিশ্চিত ভবিষ্যত এসব রাষ্ট্র কিংবা সরকারের মৌলিক কাজ। কিন্তু’ সর্বক্ষেত্রেই তারা তাদের ন্যায্য দাবি পাওনা থেকে বঞ্চিত। প্রতিটি সরকারের বাৎসরিক বাজেটেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আলাদা সুযোগ সুবিধার কথা বলা হলেও তার বাস্তব প্রতিফলন খুবই কম। মাঠ পর্যায়ে সরকারের পক্ষ হতে জরিপ চালানো হয় কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। কিছু জায়গায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এই কার্যক্রমের নামই শোনেনি। আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুবিধা বঞ্চিতদের কথা নাই বললাম। একথা অনস্বীকার্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকাংশই দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। সরকারি-বেসরকারি প্রচার প্রচারণার অভাবে নিজেদের অধিকার স¤পর্কেও নন তেমন সচেতন। নিজেদের সমস্যা বা অভিযোগের বিষয়গুলো তুলে ধরার লক্ষ্যে একটি আলাদা অধিদপ্তরের দাবি বহুদিনের। যদিও আজ পর্যন্ত সে দাবী আলোর মুখ দেখেনি। ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার ঠিক কিভাবে খোলা হয়েছে কিংবা পরিচালিত হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। বেশ কজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তারা এ ধরণের কার্যক্রম সর্ম্পকে কিছুই জানেন না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এসে যায় এ বিষয়ে অবগত করানোর দায়িত্ব কাদের ? তারা নিজের গরজে খোঁজ নেবে নাকি সরকারের প্রতিনিধির পক্ষে প্রচার প্রচারণা বা সেবাসমূহের খবরাখবর পৌছুবে!

 

সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন বিশেষ কার্যক্রমের। শিক্ষাক্ষেত্রে যে নূন্যতম কোটা ব্যবস্থা রাখা হয় তা এই বিশাল প্রতিবন্ধী গোষ্টির চেয়ে সত্যিই অপ্রতুল। এমনকি প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে অনেকেই ভালো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে পারলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থা না থাকায় নানান সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে প্রতিবন্ধী কোটা ছাড়াই মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এমন মেধাবীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। কিন্তু বিধিবাম মেধাতালিকায় স্থান পাওয়াটা যেন তাদের কাল হয়ে দাঁড়ায়। সকল শিশু বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক পেলেও ব্রেইল বই পাচ্ছে না দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা। যাও বা আছে তা পর্যাপ্ত নয়। নেই ইশারা ভাষার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক। নেই সহজ চলাচলের সুবিধার্থে নির্মিত ফুটপাত, র‌্যাম্প। “নেই নেই শুধু নেই।”

 

এতো এতো নেই এর মাঝে অর্থমন্ত্রীর সদ্য পেশকৃত বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ঠদের জন্যে যা বরাদ্দ হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে হয়। অথচ ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে সরকারের কাছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দাবী ছিলো বিভিন্ন খাতে ৫৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের। যদিও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকায় এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৯ হাজার ৬০০ জনের বাড়িয়ে তিন লাখ ১৪ হাজার ৬০০ উন্নীত করার লক্ষ্যে ১৩২.১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এবং একই সঙ্গে আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি প্রাপ্তদের সংখ্যা ১০ হাজার বাড়িয়ে ২৯ হাজারে উন্নীত করার জন্য ৯০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৯ কোটি ৭০ লক্ষ টাকাসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১৬৪.০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করার পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আরো কিছু প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু’ প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার মাঝে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই বললেই চলে। বাকি অন্যান্য খাতেও স্বল্প র্ধাযকৃত এই অর্থ অনেকটা মুখ ঢাকে তো পা ঢাকে না এর মতোই। প্রস্তাাবিত বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একীভূত করার অঙ্গীকার থাকলেও এবারের বাজেটেও নেই মন্ত্রণালয় ভিত্তিক বরাদ্দ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং বিনোদনে কোন প্রকল্পও প্রণয়ন করা হয়নি। এমনকি বিগত সময়ে প্রতিবন্ধী জনগণের উন্নয়নে সরকারের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কোন প্রতিফলনই নেই এই বাজেটে। নেই অধিকার বিষয়ক আইনের উল্লেখ। আবারও সেই নেই এর হাহাকার। এই অর্থের সবই যে অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে খরচ হবে তাও নয়। বরাদ্দের বড় অংশটি যাবে কর্মীদের বেতন ভাতা বাবদ। তাই বরাদ্দ কমলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নমূলক কাজের সুযোগ আরো সংকুচিত হয়ে পড়ে। যেহেতু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্ব-সংগঠনগুলোর কাঠামো দুর্বল তাদের সামাজিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘস্থায়ী জীবিকা কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভবপর হয়ে উঠে না। ফলে বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সকল উন্নয়ন খাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা যেমন উচিত। তেমনি জাতীয় ব্রেইল প্রিন্টিং প্রেস ও ইশারা ভাষার ব্যাপক ব্যবহার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্যতা যুগোপযোগী, সহায়ক উপকরণ উৎপাদন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যানবাহনকে উপযুক্ত করার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা যুক্তিযুক্ত। বাজেটের গণ্ডি শুধুমাত্র সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাঝেই সীমিত না রেখে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, মহিলা ও শিশু, যুব ও ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেটেও পৃথক বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। ২০১৩-২০১৪ বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দাবীর প্রতিফলন না ঘটায় পূনর্বিবেচনার দাবীও জানিয়েছে তারা সরকারের কাছে।

 

এদিকে বাজেট বক্তব্যে মাননীয় অর্থমন্ত্রী প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর পিছিয়ে পড়া এ অংশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি মূলস্রোতে সম্পৃক্ত করা বিকাশমান অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বলেন, “প্রতিশ্রতি ছিলো প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি বাজেট প্রণয়ন, একীভূত বাজেট সৃষ্টিসহ জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন এবং জেলাওয়ারি বাজেট প্রদান। পরবর্তী বছরগুলোতে এইসব বিষয়ে আমাদের অগ্রগতি মহান সংসদে বিবৃত করি এবং নতুন কিছু উদ্যোগেরও ঘোষণা দেই।” আরো উল্লেখ করেন “একীভূত প্রবৃদ্ধি অর্জনের নীতি কৌশলের আওতায় বাংলাদেশে দারিদ্র কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য হারে। সচরাচর কোন উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধনী-গরীবের মধ্যে একটি ব্যবধান সৃষ্টি করে।” তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রায় আলাদা একটি নীতিমালা গঠন, বাংলা ইশারা ভাষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ উন্নয়ন খাতে সরকারের আরো নানামুখী চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানান।

 

আমরা এমন একদেশে বাস করছি যেখানে কিনা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিজেদের সমস্যা সমাধানের পথ নিজেদেরই খুঁজতে হয়। তাদের সমস্যা দেখার যেন কেউ নেই। গণপরিহনে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে চাইলেও রয়েছে পদে পদে বাধা। হুইলচেয়ার আরোহীদের জন্য রাস্তায় নিরাপদে চলাচলের জন্য ফুটপাত এবং বাসে সহজে প্রবেশগম্য পথ/র‌্যাম্প একটি স্বপ্ন এবং বহুদিনের দাবি থাকলেও ক্ষুদ্র এ সমস্যা সমাধানের পথ না মিটিয়ে সরকারের অলাভজনক ৬৫৪ কোটি টাকার ডেমু ট্রেন, ৯০ লাখ টাকার আর্টিকুলেটের বাস এমনকি ২১ হাজার কোটি টাকার মেট্রোারেলের মত বিশাল বেহিসেবী প্রকল্পের দিকেই ঝুঁকছেন। এদিকে দারিদ্র দূরীকরণে সরকারের কর্মসৃজন, খাদ্যনিরাপত্তামূলক কার্যক্রম এবং সমতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের কর্মসূচী থেকে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সরকারী দিক নির্দেশনা না থাকার ফলে অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওএমএস, ভিজিডি, ভিডিএফ, টিআর (খাদ্য), জিআর (খাদ্য), খাদ্য সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) আওতায় প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দকৃত টাকায় হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কোন সুযোগ রাখা হয়নি। এবার নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও সরকার কাজ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তার বেশ কিছু বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে পেশাগত ক্ষেত্রে বেশীরভাগই নারীর পেশা কিংবা চাকরির নিশ্চয়তা খুবই কম। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির রাষ্ট্রায়ত্ব বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে সুযোগ সুবিধা সমূহ নারী প্রতিবন্ধীদের নগন্য রেখে পুরুষ প্রতিবন্ধীর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে বেশি। পুরুষের চেয়ে নারীর অধিকার বাড়তি নয় চাইছি নারী পুরুষের সমান অধিকার এবং কর্মসংস্থাানের সুযোগ প্রাপ্তি। এমনকি রাষ্ট্রীয় দিক দিয়ে অটিজমকেই বেশি প্রাধ্যন্য দেয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে অনেকাংশে অটিজমকেই প্রাধান্য দেয়া হয় সরকারি নির্দেশনাবলির অজুহাতে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা নিজের প্রচেষ্ঠায় ভাল ফলাফল করে নিজ উদ্দ্যোগে ভর্তি হতে গিয়ে এমন ভোগান্তিতে পড়লে আবারও প্রশ্ন জাগে ভর্তির সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধান রাষ্ট্রের দায়িত্ব!? এ বৈষম্যের ফলে সবার মাঝে যথেষ্ট বিভ্রান্তির সৃষ্টির হচ্ছে। অটিজম নিয়ে কোন বিদ্বেষ নেই। বৈষম্য না রেখে সকলেরই সমসুযোগ নিশ্চিত বরাবরেরই দাবি।

 

যা হোক এত কিছুর পরেও কিছু ক্ষেত্রে ধারণা করা যায় দেরীতে হলেও সরকারের সংলিষ্ট মহলের এ বিষয়ে সুনজর পড়েছে। তবে তা অতি মহ্নর গতিতে। সাম্প্রতিক বাজেটে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হুইলচেয়ার, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ঘড়ি স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অব্যহতির কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, হিয়ারিং এইড, ভিজ্যুয়াল টেস্ট, কাউন্সেলিং প্রশিক্ষণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও পূনর্বানকেন্দ্রের মাধ্যমে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছাত্র ছাত্রীদের ব্রেইল প্রেসে মুদ্রিত বই সরবরাহসহ বেসরকারিদ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ কোটা প্রবর্তনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

 

পাঁচ বছর মেয়াদি সরকারের প্রতিটা বাজেটেই নির্বাচনী বাজেট হওয়াটা সমিচিন। তবে আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে উন্নয়নমূলক কাঠামো বাস্তবায়নের তোড়জোর শুরু হয়। এতে করে নির্বাচনী ইশতেহার আর বাজেটের প্রতিশ্র“তি যাই বলুন না কেনো উভয়ই বাস্তবায়নের আলো দেখতে পায় কদাচিৎ। তারপরেও আশার কথা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পৃথক ও স্বতন্ত্র অধিদপ্তর দীর্ঘদিনের দাবীটি শেষ সময়ে এসে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন।  বর্তমান সরকারের মেয়াদের পর যেই সরকারই আসুক, একবছরের ঘোষিত বাজেটের বাস্তবায়নের দায় দায়িত্ব সম্পূর্ণই সেই সরকারের উপরে বর্তায়। তাই পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রটাও মজবুত করতে হবে।

 

প্রতিবন্ধী মানুষের সকল চাহিদা এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব কাঠামো বাস্তবায়নে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। কারণ আমরা তাদের সমস্যাকে নিজেদের মতো করে ভাবছি না। না! আমার কোন প্রতিবন্ধিতা নেই। সমাজের আর দশজনের মতই সুস্থ্য’ স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে পারছি এখনো আল্লাহ্র রহমতে। তবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই যে কোন একদিন আমিও হতে পারি প্রতিবন্ধিতার শিকার। এই ভাবনাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তাদের অকর্মণ্য কিংবা বোঝা হিসেবে না দেখে সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের বিশ্বাস করতে হবে তাদেরও যোগ্যতা আছে সমাজ, দেশ এবং পৃথিবী বদলে দেবার।