বি-স্ক্যান ও এসাব আয়োজিত ডিজাইন প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীগণের অনুভূতি

ব্যক্তিগত জীবনে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের যাতায়াতের সমস্যা খুব কাছে থেকে দেখা। তাই এমন উদ্যোগ আজ অথবা ১০ বছর পর পূর্ণতা পাক এদেশে, এটাই আমার আন্তরিক চাওয়া। ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য মানবতাই প্রয়োজন, সচেতনতাই প্রয়োজন। সহানুভূতি বা করুণা নয়।

– আসিফ রেহান

লেকচারার ইউ আই টি এস

 

এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বুঝতে পারলাম যে বর্তমানে ভিন্নভাবে সম ব্যক্তিদের কত কষ্ট করতে হচ্ছে পরিবহনের জন্য। ভবিষ্যতে কোন কিছুর ডিজাইন করার সময় তাদের অবাধ প্রবেশের ব্যবস্থা সম্ভব কিনা তা দেখব।

– দেবব্রত কর্মকর

 কেমিকৌশল বিভাগ, বুয়েট

 

সমাজ-বঞ্চিত অথচ ভিন্নভাবে সম (differently able) মানুষদের সমাজে অবদানের ব্যাপারে আরো বিস্তাারিত জেনেছি। আমার অন্যান্য বন্ধুদের সাথেও আরো আলোচনা করেছি। এই ডিজাইন বাস্তবায়ন হলে অনেক মানুষ ইকোনোমিতে অবদান রাখতে পারবে।

 – সঞ্জয় রায়

(৩-১) বুয়েট সিভিল

 

এই প্রতিযোগিতায় এসে জীবনে প্রথমবারের মতো অনুভব করতে পারলাম, আমার যারা স্বাভাবিক ভাবে কাজকর্ম করতে সম তাদের খুব অল্প সহযোগিতায় ভিন্নভাবে সম ব্যক্তিরা দেশের কাজে এগিয়ে আসতে পাতে। প্রতিযোগিতায় অংশ হিসেবে CRP centre এ গমন, আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে ভিন্নভাবে সম ব্যক্তিদের কাছে থেকে পরিদর্শন করার, যা প্রকৌশলী হিসেবে পরবর্তী জীবনে কাজের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

– আহমদ শাফকাত মাসনুন

যন্ত্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট

 

অনেকটুকু, এই প্রতিযোগিতা আমাদেরকে বঞ্চিত মানুষদের প্রতি নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। আমরা এখন এই সমস্ত ব্যাপারে আরও উদ্যোগী আরও চিন্তিত। আমার এখন নিজেদের সাথে  সাথে সমাজের অন্যান্যদেরও পরিবর্তনে চেষ্টা করে যাব। শুধুমাত্র ডিজাইনিং-ই নয়, মানবিক অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

– মোঃ জিয়া উদ্দিন চৌধুরী

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়

 

নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে এই প্রথম কোন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি এবং প্রতিযোগিতার শেষে ঝুলি ভরে নিয়ে যাচ্ছি একরাশ অভিজ্ঞতা। এই প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলে হয়তো জানতেও পারতাম না বাস্তব জীবনে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদেরকে। আগে হয়ত জানতাম যে এই তাদের জীবন কষ্টের আর অন্যের উপর নির্ভশীল। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিশেষত ফিল্ড ট্রিপের অভিজ্ঞতা নিজের ভেতরে কিছু ভাবনা জাগিয়েছে ও তাদের যাতায়াত ব্যবস্থার সমস্যা সমাধানে নিজের প্রকৌশল বিদ্যা প্রয়োগের চেষ্টা করেছি। সব মিলিয়ে অসাধারণ ও অনবদ্য অনভূতি।

– এম সাব্বির পারভেজ

যন্ত্রকৌশল বিভাগ (লেভেল-১, টার্ম-২) বুয়েট

 

 

এই প্রতিযোগিতার নামভূমিকা থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ টাই একদম নতুন একটা বিষয় আমরা পেয়েছি। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পর বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয়ের মধ্য অন্যতম বিষয় উল্লেখ করা যায় সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা তাদের জীবনযাত্রা আমাদের পাশাপাশি স্বাভাবিক করার জন্য সকলের উপুর্যোপরি ভূমিকা।

– মোঃ আলভী নূর

 আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্ট, এম আই এস টি

 

 

সমাজে আমরা যারা একসাথে বাস করি, ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা শুধুমাত্র সঠিক সুযোগ সুবিধার অভাবে বিভিন্ন কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে না। তাদের মেধার সঠিক জায়গায় প্রয়োগ করার সুযোগ থাকে না। আমরা যদি তাদের জন্যে এসব সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারি। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারি তাদের মেধাগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য, তাহলে দেশ ও সমাজ উভয়ই অনেক লাভবান হবো এবং সমৃদ্ধশীল জাতি হিসেবে নিজেদেরকে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।

– মোঃ সফিক,

এম আই এস টি

 

ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা সামাজিক ভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতটা সুবিধা বঞ্চিত তা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার না করতে পারার মধ্যেই ফুটে ওঠে। বিভিন্ন সিস্টেমে এ সামান্য পরিবর্তনই তাদের সক্ষম করে তুলতে পারে। আমাদের যারা সক্ষম, তাদের প্রতি সাহায্য করার সামান্য মানসিকতাই তাদের জীবন যাপন অনেক সহজ করে দিতে পারে।

– মোঃ সাইয়েদুস সিফাত,

ট্রিপল ই, কুয়েট।

 

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে সমাজের বঞ্চিত অথচ ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষেরা কি ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হন এবং তাদের যোগ্যতাগুলো কিভাবে ব্যাবহার করা যায় সে সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা ছিল না। এ ব্যাপারে বর্তমানে আমার চিন্তার জগৎ প্রসারিত হয়েছে। তাছাড়া এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যে বাস্তবজ্ঞান অর্জিত হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি বড় কোন প্রজেক্টে থাকি  তবে সেখানে অবশ্যই কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।

– জি.এম.রাহিদ উজ জামান

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এম আই এস টি

 

প্রতিযোগিতা বড় ব্যাপার নয়। সচেতনতা সব সময় থাকে বরং এই প্রতিযোগিতা সচেতনতার মাত্রা আরও একটু বাড়িয়ে দিল। ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি সেটা অবশ্যই আমার জীবনের বড় ধরনের এক মাত্রা যোগ করবে। চেষ্টা করব এ ধরনের কাজে সবসময় লেগে থাকার।

– মো : রকিবুল হাসান

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এম আই এস টি

 

 

এই প্রতিযোগিতা ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যাক্তিদের জন্য নতুন করে ভাববার একটা জায়গা তৈরী করেছে। নতুন কাজের অনুপ্রেরণা হবে ওটা। এই সমস্ত মানুষের কাছ থেকে বড় স্বপ্ন দেখার শক্তি পেয়েছি যার জন্য ভবিষ্যত লক্ষ্য আরো দৃঢ় হল। পিছলে পড়ার কোন ভয় আর নেই।

– বি. এম সাদমান সৌমিক

যন্ত্রকৌশল, কুয়েট

 

 

 

সত্যি কথা বলতে কি আমরা সব সময় আমাদের নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকি। যার কারণে অন্যদের কথা তেমন চিন্তা করা হয় না। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আমি যথেষ্ট উদ্বিগ্ন সমাজের বঞ্চিত মানুষদের জন্য এবং তাদের জন্য অবশ্যই কল্যাণকর কিছু করার ইচ্ছে আছে।

– ফয়সাল মাহমুদ সোহান

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা সমাজে বঞ্চিত এই ব্যাপারে সচেতনতা কিছুটা হলেও ছিল নিজের মধ্যে, তবে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে আমার মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মেছে, আমিও পারবো তাদের জন্য কিছু করতে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে ভবিষ্যতে আমার সামনে যতটুকু সুযোগ আসবে, আমার সম্পূর্ন জ্ঞানটুকু কাজে ব্যবহার করবো তাদের জন্য। কারণ ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি হতে পারে আমারও কোন প্রিয়জন।

– হাসান মোঃ আশিকুর রহমান

যন্ত্রকৌশল বিভাগ, রুয়েট

 

 

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই তাদেরকে চিনলাম ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষ হিসেবে। ভবিষ্যতে জীবনের প্রতিটি কাজেই ডিজাইনের ক্ষেত্রে এই মানুষগুলোর প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার ব্রত রইল।

মোঃ জিহাদ জনি

যন্ত্রকৌশল বিভাগ, রুয়েট

 

 

এ প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন। এর আগ পর্যন্ত- আমি শুধু ভিন্নভাবে সম ব্যক্তিদের কষ্ট দেখেই গিয়েছি। কিš’ এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমি সত্যিকার অর্থে এ কষ্ট অনুভব করছি। তাই এরকম ব্যক্তিদের জন্য আরো কিছু করার ভবিষ্যত ইচ্ছা পোষন করি।

–  আবিদ হোসাইন খান

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কুয়েট

 

 

সত্যি বলতে এই প্রথম তাদের সীমাবদ্ধতাগুলোকে অনুভব করতে পারলাম। আরও ভাল লাগছে এই ভেবে যে তাদের জন্য কিছু করতে না পারি অন্তত কিছু করার চেষ্টা তো করলাম। তাদের প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসার সৃষ্টি হলো এখান থেকে। তারা আমাদের সমাজেরই একটা অংশ এবং তাদেরকে অন্য সবার মতো করে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গী জাগ্রত হল, তার জন্য আয়োজকদের প্রতি অসংখ্য ধন্যবাদ।

– মোঃ ইয়াছিন আলী

যন্ত্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট

 

 

ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ব্যাপারে আমি আগে থেকেই সচেতন ছিলাম। তারা আমাদেরই একজন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান অনেক। এই অবদানটি আরও সহজে এবং অনায়াসে যাতে সম্পন্ন করতে পারেন তার জন্য সর্বজনীন গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল আরও আগে থেকেই। এ ধরনের একটি ব্যবস্থা পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এই উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।

– মুহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম

পুরকৌশল বিভাগ, বুয়েট

 

সমাজে অনেক মানুষ আছেন যারা কমর্ক্ষম কিন্তু সর্বস্তরে পৌঁছাতে পারার মত সুযোগ সুবিধা তারা পায় না। তারই প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে আমাদের এই প্রকল্পে আসা। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ফলে মনের গভীর থেকেই তাদের বিষয়গুলো তাদের মত করে উপলব্ধি করতে পারি। একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হিসেবে ভবিষ্যতে সমাজে এই বঞ্চিত  মানুষগুলোর জন্য সব রকম সুবিধা ও প্রযুক্তিগতভাবে তাদের সহায় হওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হব।

– মোঃ হাফিজুর রহমান সজল

 যন্ত্রকৌশল, কুয়েট

 

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সমাজে বঞ্চিত অথচ ভিন্নভাবে সম মানুষের ব্যাপারে আমার মাঝে আগের চেয়েও অনেক বেশী সচেতনতা তৈরি হয়েছে বলে আমি মনে করি। ব্যক্তিগত জীবনে একবার ¯পাইনাল কর্ড ইনজুরির কারণে ছয় মাস ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারি নি। বর্তমানে স¤পূর্ণ সুস্থ’। কিন্তু এই অসহায় সময়টা ভুলি নি। তাই ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড মানুষদের জন্য কিছু একটা কাজ করার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে। স্বপ্ন দেখি এমন দিনের যেদিন শারীরিক প্রতিবন্ধিতা স্বাভাবিক জীবনে কোন প্রভাব ফেলবে না।

– মোঃ সামিউর রহমান ভূইঞা,

স্থাপত্যকলা অনুষদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় (৩য় বর্ষ)

 

এখানে এসে ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের নিয়ে কিছু কাজ করার উৎসাহ পেলাম। অন্যের জন্য কোন কিছু করার মধ্যে যে আনন্দ আছে তা আসলে বহুগুণ বেড়ে যায় যদি কিনা তিনি বঞ্চিত অথচ ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি হয়ে থাকেন। তাদের জীবন আরও সহজ ও সৌন্দর্য্যমন্ডিত করার জন্যই কাজ করবো।

– মোঃ আল আমিন

যন্ত্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট

 

“Being human is given, keeping humanity is a change”

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রকৌশল বিদ্যাকে বৃহত্তর মানবতার সাথে কাজে লাগাতে যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে জীবনে এক শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে থাকবে।

-সাকিব মাহমুদ খান

সি.ই. বুয়েট (উত্তরণ)

 

এই প্রতিযোগিতায় এসে জীবনে প্রথমবারের মতো অনুভব করতে পারলাম, আমার যারা স্বাভাবিক ভাবে কাজকর্ম করতে সক্ষম তাদের খুব অল্প সহযোগিতায় ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা দেশের কাজে এগিয়ে আসতে পাতে। প্রতিযোগিতায় অংশ হিসেবে CRP centreএ গমন, আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে থেকে পরিদর্শন করার, যা প্রকৌশলী হিসেবে পরবর্তী জীবনে কাজের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

– আহমদ শাফকাত মাসনুন

যন্ত্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট