মাস্কুলার ডিস্ট্রফি চিকিৎসায় জিন থেরাপি

বংশগত রোগ মাস্কুলার ডিস্ট্রফির শাখা প্রশাখা রোগের মাঝে সবচেয়ে বেশী জটিল হলো ডিউশন মাস্কুলার ডিস্ট্রফি (ডিএমডি)। প্রতি ৩৫ হাজার নবজাতকের একজন এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগে আক্রান্তদের মাংসপেশিকে শক্তিশালী রাখার জন্য যে প্রোাটিন দরকার তা থাকে না। পরীক্ষায় জানা যায়, এই রোগে আক্রান্তদের মাংসপেশিতে ডিসট্রোাফিনের মাত্রা কম থাকে। ফলে ধীরে ধীরে মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে এবং এরা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী জীবনযাপনে বাধ্য হয়ে পড়ে। এ ছাড়া এদের হার্ট ও ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত এ রোগের সঠিক চিকিৎসা নেই। সম্প্রতি বিখ্যাত ‘ল্যানসেট’-এ একটি গবেষণালব্ধ ফল এ রোগের চিকিৎসায় আশার আলো দেখছেন গবেষকরা। এ গবেষণায় জানানো হয়, জিন থেরাপির মাসকুলার ডিস্ট্রফি রোগের চিকিৎসায় ব্যাপক সহায়তা করতে পারে। গবেষকরা একটি আর্টিফিসিয়াল নিউকিওটাইড আবিষ্কার করেন। ৫-১৫ বছর বয়সী এ রোগে আক্রান্ত ১৯ জনকে প্রতি সপ্তাহে ইনজেকশনের মাধ্যমে এ নিউকিওটাইড শরীরে পুশ করা হয়। ইনজেকশন দেওয়ার আগে ও পরে মাংসপেশির ডসট্রোাফিনের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। এতে দেখা যায় প্রায় সবারই এ মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। দু’জনের মাত্রা ০.৯% থেকে ১৭% ও ২% থেকে ১৮%-এ বৃদ্ধি পায়। এদের মাংসপেশির শক্তিও বাড়ে বলে জানান গবেষকরা। যদিও ক্ষয়ে যাওয়া মাংসপেশিকে আগের অবস্থায় আনতে পারে না এ ইনজেকশন কিন্তু সুস্থ মাংসপেশিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে বলে জানিয়েছেন গবেষক দলের ফ্রানসিস্কো মনটোনি। এই জিন থেরাপি যদি সত্যিই কাজ করে, কিছুটা হলেও মাংসপেশীর শক্তি বৃদ্ধি করে তাইলে মাস্কুলার ডিস্ট্রফি আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিয়ারের জন্য সুখবরই বলতে হবে।

 

তথ্য সৌজন্যেঃ আজাদুল কবির আজাদ