সঠিক সেবার জন্য প্রয়োজন সঠিক তথ্য আর পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সঠিক সংখ্যা কত? এ নিয়ে রয়েছে হরেক রকমের তথ্য আর পরস্পর বিরোধী পরিসংখ্যান। তবে সংখ্যা যাই হোক না কেন, এ সংখ্যা যে ক্রমাগত বাড়ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। প্রতিবন্ধিতার ধরনও বদলে যাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে সেবার নতুন নতুন চাহিদা। কোন একটি কর্মসূচির সফল ও অর্থপূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য সকল অংশগ্রহণকারিদের জন্য উপযোগী সেবা ব্যবস্থার আয়োজন। কিন্তু যদি জানাই না থাকে যে কার জন্য এবং কি ধরনের সেবা প্রয়োজন তাহলে কর্মসূচীটি এক সময় না এক সময় মুখ থুবড়ে পড়বেই।

এ ধরনের একটি অভিজ্ঞতা থেকেই সঠিক তথ্য উদ্ধারের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন বাসুপাড়া ও গনিপুর ইউপি কর্তৃপক্ষ। ওয়াটারএইড ও সেভ দ্যা চিলড্রেন এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভার্ক এর মাধ্যমে বাগমারায় বাস্তবায়িত হচ্ছে । একটি পাইলট উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রকল্পটি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় মোট তিনটি দেশে,  (ভারত ও নেপালে) বাস্তবায়িত হচ্ছে । এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় কমিউনিটি দলসমুহ, সিটিজেন একশন কমিটি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের মিলিত উদ্যোগে এলাকার সকল প্রতিবন্ধি ব্যক্তির একটি ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেন। এ ডাটাবেজে প্রতিবন্ধি ব্যক্তির যাবতীয় তথ্যের পাশাপাশি তাদের প্রতিবন্ধিতার ধরণ বিশ্লেষণ করে তার উপযোগী এবং সম্ভাব্য  একটি   সেবার সুপারিশ করে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এ দুটি ইউনেয়নে মোট প্রতিবন্ধি ব্যক্তির সংখ্যা ৫৯৯ জন।

সংগৃহীত তথ্যের আলোকে দেখা যায়, এখানে মানসিক প্রতিবন্ধিতা আছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা ৬০ জন, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা আছে ২৯১ জনের একাধিক বা বহুমুখী প্রতিবন্ধিতা আছে ৬৫ জনের, বাক ও ভাষা সংক্রান্ত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা আছে ১২০ জনের, শ্রবণ সংক্রান্ত  প্রতিবন্ধিতা আছে ৭ জনের এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আছেন ৫৬ জন। এ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে আবার শিশুর সংখ্যা ২২২ জন। দেখা যাচ্ছে, বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধি ব্যক্তির সংখ্যা আবার সর্বোচ্চ। ইউনিয়ন পরিষদ দুটি ইতোমধ্যেই ২০ জন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধি ব্যক্তির উপযোগী নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন সেবা প্রদান করেছে। সবার জন্য পানি ও স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করণেও উল্লেখিত ইউনিয়ন পরিষদ দুটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আশার কথা, দেরিতে হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে।

মাহফুজ-উর রহমান

ওয়াটারএইড