সামজিক বাধা , আর্থিক প্রতিকূলতাকে পিছে ফেলে শুরু হলো মিনার নতুন জীবন

যে স্বপ্নকে আজীবন বুকের ভিতরে লালন করে চলেছিল কিন্তু বলা হয়নি কাউকেই, আজ তা পূরণ হতে চলেছে। রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের একডালা আকন্দপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমান আর যমুনা বিবির ২য় সন্তান মিনার বয়স ১৬। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাবার পরিবারে আর্থিক অনটনের কারণে তার পরিবারের কারুর পড়াশোনাই বেশিদূর এগুতে পারেনি। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে বাল্যকালেই, আবার শারীরিক ভাবে কিছুটা ভিন্ন ধারার সক্ষম হওয়ার ফলে মিনাকেও সইতে হয়েছে নানা অবহেলা, উপেক্ষা ..।  বাড়ির পাশেই ব্রাক প্রাইমারী স্কুলে ৪র্থ শ্রেণীতে পাঠরত অবস্থায় হঠাৎই একদিন বিনা নোটিশে তা বন্ধ হয়ে যায়।  সেই সাথে থেমে যায় মিনার লেখাপড়া। একদিকে অর্থের অভাব, অন্যদিকে পিতামাতার অসচেতনতা, মিনাকে স্কুল বিমুখ করে দেয়। এর ফলে লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় মিনা। বাড়ীতে বাবা মায়ের কাজে সাহায্য করে, ফুটফরমাইশ খেটেই চলতে থাকে মিনার জীবন। মুখ থুবড়ে পড়ে স্বপ্ন।

এরই মাঝে খেলার সাথী ও গ্রামের শিশুদলের সদস্যদের সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। খেলায় খেলায় নানা বিষয়ে আলোচনা হয়, সে বুঝতে শুরু করে এখনও তার সময় ফুরিয়ে যায়নি।

 

ওয়াটার এইড বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিল্ড্রেন এর সহায়তায় ভার্ক এর মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন শিশু অধিকার ভিত্তিক ওয়াস প্রকল্পের আওতায় শিশুদলের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাম সংগঠন ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সাথে শিশু অধিকার বিষয়ক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি তারা উত্তর বঙ্গের ৩ টি জেলা ( দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট) সফরে যায়। সেখানে শিশুদের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেশ কিছু কার্যক্রম তাদের ভীষণভাবে আন্দোলিত করে।  তারা সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের এলাকায় যে সকল শিশু এখনও স্কুলে যায় না তাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফিরে গিয়ে কাজ করবে। সেখানে মিনাকে নিয়েও আলোচনা হয়। মিনা স্কুলে যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু তার পরিবারে যে সমস্যা সেগুলোও বন্ধুদের সাথে আলাপ করে। বন্ধুরা ঠিক করে ফিরে গিয়ে মিনার বাবা মার সাথে মিনার স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলবে। মিনার বন্ধুরা তার বাবা মায়ের সাথে মিনার লেখা পড়ার বিষয়ে আলোচনা করলে মিনার বাবা মা তাকে স্কুলে ভর্তি করতে রাজি হয়।

 

মিনা এখন: তাকে তার মতামত নিয়ে ভর্তি করা হয় ইসমাইলপুর দাখিল মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণীতে। সে এখন নিয়মিত মাদ্রাসায় যায়। তার স্বপ্ন লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করবে এবং বাবা মায়ের অভাবের সংসারে সহযোগিতা করবে।