স্পেশাল অলিম্পিক সামার গেমসে সিলভিয়ার কৃতিত্ব

এই বিশ্বে কতরকম বিচিত্র ফুলই না ফোটে সব ফুল কি প্রস্ফুটিত হয় ? সব কলি কি পাপড়ি মেলে? সব ফুল সুবাসও ছড়ায় না। ঠিক মানুষের এই পৃথিবীটাকেও আমার তেমনই মনে হয়। কেউ ফোটে কেউ ফোটে না, কেউ সুবাস ছড়ায়, কেউ ছড়ায় না। ঠিক তেমনই আমাদের জীবন বাগানে একটি অপ্রস্ফুটিত, অবিকশিত ফুল ফুটেছিল ১৯৮৬ সালের ২৭ জুলাই। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সেই অপ্রস্ফুটিত, অবিকশিত ফুল আজ ঠিকই তার পাপড়ি মেলতে শুরু করেছে, সুবাস ছড়াচ্ছে দেশে বিদেশে। তেমনই একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়ের কথাই বলছি। মেয়েটির সমাজে মেলামেশার ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার প্রাপ্ত! এছাড়াও বাংলাদেশ স্কাউট, জাতীয় জাদুঘর, শিশু একাডেমী, লায়েন্স ক্লাব এরকম অসংখ্য প্রতিষ্ঠান থেকে সে অসংখ্য বার পুরস্কার অর্জন করেছে সে। নাম তার সিলভিয়া। এখন আমি বিশ্বাস করি উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে পৃথিবীর সব ফুলই বিকশিত হতে পারে। তাকে এ পর্যন্ত নিয়ে আসতে আমাকে অপরিসীম ধৈর্য্য, ত্যাগ আর অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। যার ফলে সে এ পর্যন্ত এগুতে পেরেছে।

 

আমার এবারের প্রসঙ্গ স্পেশাল অলিম্পিক সামার গেমসে তার কৃতিত্ব। স্পেশাল অলিম্পিকসে তার সর্ব প্রথম পদযাত্রা শুরু হয়েছিলো ২০০৩ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে। সেখানে সে এথলেট হিসাবে অংশগ্রহণ করে একটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জয়লাভ করেছিলো। বিজয়ের স্বর্ণমুকুট পড়ে দেশের মুখ উজ্জল করে ফিরেছিলো। এরপর স্পেশাল অলিম্পিক সামার গেমস ব্র“নাই ২০০৫ এ বৌচি খেলায় ২টি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্য পদক অর্জন করে সিলভিয়া। বিজয়ের এই ধারাবাহিকতায় সিলভিয়া আবারও ব্র“নাই ২০০৮ এ বৌচি খেলায় ২টি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্য পদক এবং গ্রিসের এথেন্স ২০১১ তে ২টি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। ২০১২ এর ২৫ ডিসেম্বর ব্র“নাই স্পেশাল অলিম্পিকে সিলভিয়া ৩টি স্বর্ণপদক জয়লাভ করে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দূর্লভ সুযোগ এনে দেয়।

 

একটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে এ ধরনের অর্জনের প্রতিভা তৈরি করে ভিন্নভাবে সক্ষম হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে যে কি পরিমাণ পরিশ্রম আর ধৈর্য্যের প্রয়োজন হয় তা কেবল একজন ভুক্তভোগী অভিভাবকই বলতে পারবেন। হ্যাঁ আমি তাকে বিশেষ শিশু বলে আলাদা করতে চাই না। সে আর দশজনের মতোই মানুষ তবে ভিন্নভাবে সক্ষম। স্পেশাল অলিম্পিকস শুধুমাত্র ভিন্নভাবে সক্ষম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের জন্য। অথচ পরিতাপের বিষয় হল এখানে সুযোগ পায় কেবল শ্রবণ প্রতিবন্ধী বাচ্চারা। এ কথাটি কেবল আমিই নই, আমার মত অসংখ্য মা উচ্চঃকন্ঠে বলবেন, ‘এতে আমাদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাচ্চারা তাদের প্রাপ্য অধিকার ও সুযোগ হারাচ্ছে।’ এটা দেখার কেউ নেই। যেসব কর্তাবাবুরা এই সংগঠনের সাথে জড়িত তারা সবাই এটা জেনেও সজ্ঞানে এই সকল বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাচ্চাদের দিনের পর দিন বঞ্চিত করে যাচ্ছেন জানি না আদৌ তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে কিনা ? এরপরও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ আপনারা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকারের এই বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে বিবেচনা করবেন।

 

-শামীমা শিখা

সিলভিয়ার মাতা