অঞ্চলভিত্তিক শুমারির মাধ্যমে মূলধারার উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি

॥অপরাজেয় ডেস্ক॥

 

মূলধারার উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে অঞ্চলভিত্তিক শুমারির বিকল্প নেই, বলে মন্তব্য করেছে প্রতিবন্ধী অধিকার বিষয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে একশনএইড বাংলাদেশ ও ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন (ইপসা) আয়োজিত “মূলধারার উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের অঞ্চলভিত্তিক শুমারি” শীর্ষক এক প্রেস ব্রিফিং এ সরকারকে দ্রুত দেশের প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা এবং প্রতিবন্ধিতার ধরণ ও মাত্রা নির্ধারণ করে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে পরামর্শ দেন। এছাড়া, বক্তারা আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার পরামর্শ দেন।

জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক সঠিক পরিসংখ্যানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর জানান, একশনএইড বাংলাদেশ ও ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন (ইপসা) এর যৌথ উদ্যোগে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপরে একটি শুমারি পরিচালনা হয়েছে। এই শুমারিতে পাওয়া ৪৭৪০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য অনলাইন ডাটাবেইজে সংরক্ষন করা হয়েছে। ফলে এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারী অথবা অন্যান্য সংগঠনের জন্য সহায়ক হবে। তিনি আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান। রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকার করে আসার পরও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষায় সরকারের উদাসীন মনোভাবের জন্য হতাশা ব্যক্ত করেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ বিষয়ক জাতিসংঘ কমিটির সাবেক সদস্য বিশেষজ্ঞ মনসুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি একজন সক্রিয় প্রতিবন্ধী নাগরিক হওয়ার পরও ২০০১ এবং ২০১১ সালের আদমশুমারিতে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি আশা করেন বর্তমানে যে প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ চলছে তা যেন সঠিক তথ্য নির্ভর হয়, তা গণমাধ্যম নিশ্চিত করবে।

বর্তমানে চাঁদপুর ৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি মেজর(অব.) রফিকুল আলম, বীর উত্তম, এমপি, সরকারের উদ্দেশ্য প্রশ্ন রাখেন, বাজেটে এমন কোন ব্যবস্থা কি রাখা যায় যাতে করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এমন মানবেতর জীবন যাপন করতে না হয় আর? তাছাড়া সরকারের কাজের আগেই জরিপ সম্পন্ন হওয়াতে তিনি একশনএইড বাংলাদেশ ও ইপসাকে ধন্যবাদ জানান। আগামী নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিং এ আরো বক্তব্য রাখেন, একশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম, পলিসি এন্ড ক্যাম্পেইনের ডিরেক্টর আসগর আলী সাবরি এবং ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মোঃ আরিফুর রহমান ও ওয়েবপোর্টাল উপস্থাপন করেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার ভাস্কর ভট্টাচার্য।

একশনএইড বাংলাদেশ ও ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন (ইপসা) এর যৌথ প্রয়াসে সম্প্রতি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের একটি অঞ্চলভিত্তিক শুমারি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এর  মাধ্যমে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রতিটি গৃহস্থালীতে ৪৭৪০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, এই শুমারিতে উপজেলাটির প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থ সামাজিক তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রাপ্ত তথ্যের সহজলভ্যতার জন্য ছবি সংবলিত একটি অনলাইন ডাটাবেইজ তৈরী করা হয়েছে। ফলে এর মাধ্যমে যে কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সহজে পাওয়া যাবে।