উপকূলীয় অঞ্চলে একের পর এক জন্ম নিচ্ছে প্রতিবন্ধী শিশু

ধানখালী ইউনিয়নের উপকূলীয় অঞ্চলে মারাত্মক অপুষ্টির কারণে ও গর্ভাবস্তায় নিষিদ্ধ ওষুধ সেবনের ফলে একের পর এক জন্ম নিচ্ছে প্রতিবন্ধী শিশু।

জানা গেছে, উপকূলীয় কলাপাড়ার এসব অতিদরিদ্র গর্ভকালীন মায়েদের পুষ্টিজ্ঞানের অভাব এবং গর্ভকালীন কায়িক পরিশ্রমই এর মূল কারণ। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুর রহিম বলেন, গর্ভকালীন এসব নারী দুই হাজার ক্যালরির নিচে খাদ্য গ্রহণ করায় তারা অধিকাংশ অপুষ্টিতে ভোগে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে পুষ্টি বিভাগ চালুর তাগিদ অনুভব করে তিনি বলেন, কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে অপুষ্টিতে ভোগার কোনো তালিকা সংগ্রহ করে না।

শুধু কলাপাড়ায় নয়, দেশজুড়ে অপুষ্টির কারণে জন্ম হচ্ছে একের পর এক প্রতিবন্ধী শিশুর। মূলত অসচেতনতা, দুর্বল ওয়াটার স্যানিটেশন ব্যবস্থা, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অকার্যকারিতা, বিপুলসংখ্যক গরিব মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে থাকা, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়া, সরকারি পর্যায়ে পুষ্টি কার্যক্রমকে মূল হিসেবে না করে পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা এবং সর্বোপরি সম্মিলিত উদ্যোগের অভাব এর পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

অতি সম্প্রতি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, অপুষ্টির কারণে বাংলাদেশে ৩৬ শতাংশ শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে আর ৪১ শতাংশ শিশু বেড়ে ওঠে বিকলাঙ্গ হয়ে। এছাড়া দেশের মোট জনগোষ্ঠীর তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার এবং সবাইকে পুষ্টি সচেতনের উদ্যোগ গ্রহণ করে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালে পুষ্টিহীনদের বিশেষ চিকিৎসাসেবা চালু এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিচর্যায় নিয়ে আসতে হবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।