দু’বছরেও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত হলো না জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে

 

তানজিদ শুভঃ আন্তর্জাতিক মানের হওয়া সত্বেও চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামসহ ও অন্যান্য স্টেডিয়ামগুলোতে নেই প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়ক প্রবেশগম্যতা ও অন্যান্য ব্যবস্থা।

এদিকে গত সেপ্টেম্বর’১৩, ক্রিস টেটলির নেতৃত্বে আইসিসির ভেন্যু পরিদর্শক দল, শেষ বারের মত ভেন্যু পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেই ফিরে গেছেন।

 

 

সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আন্তর্জাতিক মানের এ স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে প্রবেশ মুখেই রয়েছে হুইলচেয়ার সম সিঁড়ির পাহাড়। জাতীয় ইমারত নির্মান বিধিমালা ২০০৮ এর সর্বজনীন প্রবেশগম্যতার অংশ লঙ্ঘন করেই তৈরি হয়েছে স্টেডিয়ামগুলো। নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রতিবন্ধী মানুষের খেলা উপভোগের জন্যে নেই সহায়ক ব্যবস্থা সম্বোলিত উপযোগী গ্যালারী ও প্রবেশগম্য টয়লেট। এরই মাঝে বিশ্বকাপ ভেন্যুর তালিকায় থাকা অন্যান্য স্টেডিয়ামগুলোর প্রস্তুতি চূড়ান্তভাবে যাচাই করতে এসে পরিদর্শন শেষে আইসিসির ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট টিম চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামকে নিয়ে সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করায় অসন্তুষ্ট চট্টগ্রামের প্রতিবন্ধী মানুষেরা।

খবরটি স্থানীয়দের কাছে আশাব্যঞ্জক শোনালেও সেখানকার প্রতিবন্ধী ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে সে আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। এ ব্যাপারে ডিজেবিলিটি ডেভলাপমেন্ট এন্ড রিসার্চ সেন্টার (ডিডিআরসি) এর নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদ কাউসার অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, “ক্রীড়া ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পৃক্ত করা আমাদের অধিকার। আমরা যারা হুইলচেয়ার ব্যবহার করি সর্বক্ষেত্রে প্রবেশগম্যতা তাদের প্রত্যেকেরই নাগরিক অধিকার। এখানে অবকাঠামোর সামান্য কিছু পরিবর্তন করলেই গ্যালারীতে বসেই খেলা উপভোগ করা যায় যা কোন ব্যাপারই না।“

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি চিটাগাং এর ছাত্র আজিজুর রহমান নাবিল বলেন, “ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সময় মূল প্রবেশপথের রাস্তাগুলোতে অনেক দূর থেকেই গাড়ি চলাচল বন্ধ করা দেয়ার ফলে এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমার জন্য ওয়াকারের সাহায্যে অতটা পথ হেঁটে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করাটা ভয়াবহ যন্ত্রণাময়। ক্রাচ ও ওয়াকার ব্যবহারকারী মানুষের এবারেও বুঝি ঘরে বসেই টিভিতে দেখতে হবে পুরো বিশ্বকাপের আসরটি!” প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলের সমস্যাটির গুরুত্ব বিবেচনায় উপযুক্ত পরিচয় পত্র সাপেক্ষে বিসিবি এই সমস্যাটি নিরসনেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন নাবিল। এর আগে ২০১১ সালে শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ হুইলচেয়ার প্রবেশগম্য র‌্যা¤প এবং আলাদা সহায়ক গ্যালারীর ব্যবস্থা নিলেও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বহুবার আবেদন করেও কোন সুফল পাওয়া যায় নি। প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বি-স্ক্যান এর পক্ষ থেকে ভেন্যু কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দাবি বাস্তবায়নে বিগত দু’বছর ধরে কেবলই আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন তারা। জহুর আহমেদ স্টেডিয়াম ভেন্যু ম্যানেজার ফজলে বারী খান রুবেল এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, মাত্র র‌্যাম্প ও প্রবেশগম্য টয়লেটের কাজ শুরু হয়েছে। জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহ নাগাদ নাগাদ শেষ হবে তা। এছাড়া ওয়েস্টার্ন ব্লক এর ১৫ নং গ্যালারীর সামনেই হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষ নিজস্ব চেয়ারে বসেই খেলা উপভোগ করতে পারবেন। তবে শুধুমাত্র তাদের জন্য আলাদা গ্যালারী নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ এর মার্চে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর বসছে এবার বাংলাদেশেই। একক ভাবে পুরো সিরিজটির আয়োজক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ঢাকার শের ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ছাড়াও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী এবং সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামসহ আরো বেশ কয়েকটি বিশ্বকাপ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছে।