পাঠকদের চোখে অপরাজেয়

10

ত্রৈমাসিক অপরাজেয় এর ১ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বি-স্ক্যান এর সকল উদ্যোগী সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও পৃষ্ঠপোষকদের তরী ফাউন্ডেশন ও আমার পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। অপরাজেয় প্রকাশনা বি-স্ক্যানের একটি সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। যা অনেকের জন্য শিক্ষনীয়। আমার বিশ্বাস গত এক বছরে প্রতিবন্ধিতা বিষষয়ক এই প্রকাশনাটি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে সফল করার লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনেকাংশেই সফলকাম হয়েছে।

ভবিষ্যতে এই প্রকাশনাটি দেশব্যাপী বিস্তৃত করতে বি-স্ক্যান আরো কার্যকর কর্মসূচী গ্রহন করবে বলে প্রত্যাশা।

আশফাক-উল-কবির

নির্বাহী পরিচালক

তরী ফাউন্ডেশন

 

 

 

*আমি অপরাজেয় যতটুকু দেখেছি তাতে মনে হয়েছে এদেশে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক একটি পত্রিকা বের হচ্ছে, এটা সত্যিই খুব আনন্দের। এ পত্রিকার মাধ্যমে সকল ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমস্যাগুলো খুজে বের করে সমন্বয় সাধন করে সমাধান এবং পরবর্তীতে একসাথে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আমি আশাবাদি।

*আমি চাই এ পত্রিকাটি প্রতিবন্ধী মানুষের অনুপ্রেরণা দানের একটি ক্ষেত্র হোক। যেন তারা হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। নানা ক্ষেত্রে সফল এবং এখনো সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এমন উদাহরণগুলো পত্রিকায় প্রকাশ করা যেতে পারে। এভাবেই ধীরে ধীরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য একীভ’ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে অপরাজেয়।

মীর মোশারফ হোসেন,

কালের কন্ঠ। 

 

 

 

সত্যি কথা বলতে কি, এমন একটি পত্রিকার অভাব অনুভব করছিলাম যেন। বিগত এক বছরে অপরাজেয় আমার এ চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছে। তবে আগামীর অপরাজেয় তে আরো তথ্যবহুল লেখা ও তার সাথে বেশী বেশী ছবি দেখতে চাই। সেই সাথে আরো যা দেখতে চাই তা হলো-

  •  প্রতিবন্ধী মানুষদের মানসিক, শারীরিক স্বাস্থ্য সেবার উপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং কাউন্সিলরদের উপদেশ, পরামর্শমূলক প্রবন্ধ/লেখা।
  •  বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায়/এলাকায় প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবার বিশেষ ব্যবস্থা কোথায় কোন স্থানে আছে এবং তার ব্যয়ভার এর উপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। ফোন নং, বিস্তারিত ঠিকানা যাতে মানুষ ফোন করেই সব প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে পারেন।
  • প্রতিবন্ধী সন্তানদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে গিয়ে অভিভাবকদের কি কি বাঁধা অতিক্রম করতে হয়েছে/হচ্ছে, ঘরে/বাইরে প্রতিনিয়ত সৃষ্ট সমস্যাগুলোর মোকাবেলা তারা কিভাবে করছেন, কিংবা নেতিবাচক পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গি এসব নিয়ে সফল অভিভাবকের সাক্ষাৎকার।
  •  প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা মাতা হিসেবে শ্বশুড় শাশুড়ী, পরিবার পরিজনের কাছ থেকে যদি নেতিবাচক দৃষ্টিভংগীর সম্মুক্ষীন হয়ে থাকেন তাহলে এই মানসিক অত্যাচার থেকে কি করে তারা বেরিয়ে এসেছেন তার বর্ণনা।
  •  যারা এদের নিয়ে কাজ করছেন- জিও, এনজিও এর বিশিষ্ট মানুষদের সাক্ষাৎকার। সমস্যা উত্তরণে নীতি নির্ধারকসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত ও দিকনির্দেশনা।
  •  প্রতিবন্ধী মানুষদের চলাচলে যে ধরণের বাধার সম্মুক্ষীন হতে হয়, এক্ষেত্রে ভূক্তভোগীদের মতামত, বাধা অতিক্রমে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ/উদ্যোগ ইত্যাদির উপর প্রতিবেদন।
  •  দেশের বাইরের কাজ সমূহ ও ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী সহায়ক ব্যবস্থাগুলোর ছবিসহ বর্ণনা এবং সর্বত্র প্রবেশগম্যতার উপর বিভিন্ন ধরনের উৎসাহমূলক প্রবন্ধ।
  •  প্রতিবন্ধী মানুষদের অবকাঠামোগত ও সহায়ক ব্যবস্থা সম্বোলিত বাসযোগ্য বাংলাদেশ গঠনে দেশের বরেণ্য, গুণীজনদের মতামত।
  •  ক্ষীণ এবং সম্পূর্ণ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য অপরাজেয় অনলাইন এডিশনে অডিও এর ব্যবস্থা নেয়া।
  •  বাংলাদেশের হুইলচেয়ার প্রবেশগম্য স্থানগুলো, যেমনঃ স্মৃতিসৌধ,  কবরস্থান, শপিংমল, রেস্তোরা, ব্যাংক, স্টেডিয়াম এর উপর প্রতিবেদন।
  •  প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য ভাতা বা প্রয়োজনীয় সুবিধা পেতে হলে কি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে সে বিষয়ে তথ্যমূলক প্রতিবেদন।

সেলিমা শারমিন ফারজানা রুমা,

পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) তে কর্মরত।

 

 

 

আমার দারুন লাগছে অপরাজেয় এর অনলাইন ভার্সনটি দেখে। গেটআপটা খুব আকষর্ণীয়। কনটেন্টও প্রচুর। এ প্রকাশনা লাইনটা এমনই কেউই শতভাগ তৃপ্ত হন না। বলা যায়, আমার চাহিদা পূরণে অনেকটা সক্ষম হয়েছে ত্রৈমাসিক অপরাজেয়।

এতে আরো বেশি বেশি প্রতিবন্ধী মানুষের সাফল্যগাথা তুলে আনার অনুরোধ করছি। কেবল বাংলাদেশ নয় বহির্বিশ্বেরও। এতে পরিবার তথা সমাজ অনুপ্রাণিত হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধী মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকারের চাহিদাগুলো দারুণ দারুণ সব কার্টুন আঁকিয়েদের মাধ্যমে তুলে ধরা যায়। আমার ইচ্ছে আছে অপরাজেয়র জন্য কানাডায় সকলের জন্য যেসব প্রবেশগম্যতা এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা রয়েছে তা নিয়ে ফটো স্টোরি লেখার। অপরাজেয়র জন্য শুভকামনা।

মাহমুদুল হাসান রুবেল,  

সভাপতি, ফটোফি এবং ডাইরেক্টর (সেলস এন্ড মার্কেটিং), আর.সি. ইন্ডাস্ট্রিজ।

 

 

 

বি-স্ক্যান বাংলাদেশের এমন একটি ভিন্নধর্মী সংগঠন যেটি দেশের প্রতিবন্ধিতার সর্বক্ষেত্র নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে এবং প্রতিবন্ধী মানুষদের দাবি, অধিকার ইত্যাদি নানান সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট। আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরে।

গর্বের সাথেই বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিবন্ধিতা সংশ্লিষ্ট ত্রৈমাসিক ‘অপরাজেয়’ বঞ্চিত এই মানুষদের অধিকার এবং সচেতনতা সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে তারা সচেতন হচ্ছে, তেমনি অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও প্রতিবন্ধী মানুষের নানান সমস্যা প্রতিকূলতা সম্পর্কে জানতে পারছে। তাই আমি বলবো, প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক তথ্য এবং খবরাখবর পাওয়ার জন্যে ধীরে ধীরে অপরাজেয় দেশের অন্যতম প্লাটফর্ম হতে যাচ্ছে। এই তো সেদিন অপরাজেয়’র পথচলার শুরু। বিগত এক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখেছি। ছাপার পাশাপাশি অনলাইন সংস্করনও বেরুচ্ছে। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে পত্রিকাটি। সময়ের আবর্তে প্রতিবন্ধী মানুষদের নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষিতে অপরাজেয় সেসবের সাথে সংগতি রেখে এগিয়ে যাবে। সর্বোপরি, তাদের না বলা কথা, অধিকার, সামাজিক বাধা প্রভৃতি বিষয়ে অপরাজেয় ভবিষ্যতে আরো পরিব্যপ্ত হয়ে কাজ করবে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অপরাজেয়’র জন্য আমার অশেষ আশির্বাদ রইলো। সেই সাথে আমি বি-স্ক্যান এর নিবেদিত প্রাণ স্বেচ্ছাসেবী কর্মীসহ গুণগ্রাহী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পৃষ্ঠপোষক সকলের সুদীর্ঘায়ু কামনা করছি।

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী,

প্রধান উপদেষ্টা, বি-স্ক্যান ও পরিচালক, ল্যাবোরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম।