পাঠকের চোখে অপরাজেয়

বিগত এক বছরে ‘অপরাজেয়’ নিশ্চিতভাবেই প্রতিবন্ধী মানুষের চাহিদা পূরণে অনেকাংশে সক্ষম হয়েছে কারণ বাংলাদেশে এটিই একমাত্র প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক পত্রিকা। নিঃসন্দেহে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টিতে তথ্যবহুল এই পত্রিকাটি চমৎকার ভূমিকা রাখছে। তবে একটা বিষয় আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি, যারা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী বা প্রতিবন্ধী মানুষের ব্যবহৃত সহায়ক উপকরণ (যেমনঃ হিয়ারিং এইড, হুইলচেয়ার, হুইলচেয়ার সহায়ক কমোড সিস্টেম চেয়ার, বহনযোগ্য র‌্যাম্প, গদি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহায়ক উপকরণ এবং সফটওয়্যারসহ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের সহায়ক উপকরণ যেগুলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ব্যবহার করে) যেখানে সহজে পাওয়া যায় তাদের ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য দেয়া হলে অনেকেই উপকৃত হবে।

তারেক কালাম,

প্রবাসী বাঙ্গালী, ম্যানচেস্টার।

 

 

 

ত্রৈমাসিক পত্রিকা “অপরাজেয়” সফলতার সাথে তার চারটি সংখ্যা প্রকাশ করে দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পন করেছে- নিঃসন্দেহে এটা একটা মাইল ফলক, যা সকল প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনধারায় যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। মিডিয়া জগতে অসংখ্য পত্রপত্রিকা অথচ প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে পর্যাপ্ত লেখা আমরা দেখতে পাই না, একটি স্বতন্ত্র পত্রিকা সেটা তো অনেক দূরের কথা। “অপরাজেয়” সে শূন্যতা পূরণ করে গত এক বছর ধরে গোটা সমাজকে ঝাঁকুনি দিয়েছে, জাতিকে জানান দিয়েছে বিভিন্ন ভাবে মানব সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার শিকার এক বিপুল জনগোষ্ঠীর কথা যারা এ সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সমর্থন পেলে তারাও সমাজে অন্যান্য সকলের মতো কর্মদক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিতে পারে।

বিগত এক বছরে আমরা অসাধারণ কিছু লেখা পেয়েছি যেমন “বৈষম্য ও নির্যাতনে প্রতিবন্ধী নারীর দিন যাপন”, “হুইলচেয়ার প্রবেশগম্য বাস, একটি স্বপ্নের ইতিকথা”। অদম্যের পাতায় জানতে পেয়েছি এবি ব্যাংকের অন্তরা আহমেদের সংগ্রামী জীবনের গল্প, ইতির আত্মকথন আর “ঝর্ণা মেশে সাগরে” এর মত  অসাধারণ কিছু গল্পের অবতারণা ছিল যা যুগিয়েছে অনুপ্রেরণা।

বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প সময়ের মধ্যে কাজগুলো সহজ ছিল না, সম্পাদনায় যাদের মেধা ও শ্রমে অপরাজেয় নিয়মিত আত্মপ্রকাশ করেছে তাদের জানাই সাধুবাদ, বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানাই সম্পাদককে ।

 

এখানেই থেমে থাকলে চলবে না, সংরক্ষণে রাখা যায় কিংবা পাশের বাড়ির প্রতিবন্ধী ভাইবোনটির জন্য যাতে স্টল থেকে পথিক ‘অপরাজেয়’টি তুলে নেয় সেই চেষ্টায় নবোদ্যমে আরও ব্যাপকভাবে পত্রিকাটি সাজাতে হবে।  সামনের দিনগুলোতে আঞ্চলিক তথা জেলা ভিত্তিক প্রতিবন্ধী সংগঠনের সংবাদ, অজপাড়াগায়ে বেড়ে উঠা প্রতিবন্ধী মানুষদের সংগ্রামী জীবন ইত্যাদি বিষয়গুলি পত্রিকার পাতায় স্থান পাবে আশা করি।

প্রতিষ্ঠিত লেখকদের লেখা দিয়ে বিশেষ সংখ্যাগুলো সাজাতে হবে যা পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিবে। সেই সংগে ভুলে গেলে চলবে না এটা প্রতিবন্ধী মানুষের একমাত্র মুখপত্র। এরা কোন প্রতিষ্ঠিত লেখকা নয়, তাদের হৃদয়ে রয়েছে উচ্ছ্বাস প্রকাশের অদম্য ইচ্ছা। তাই তাদের কচি মনের আঁচড়গুলো মূল্যায়ন করতে যেন কোন অবহেলা না করা হয়। মানের দিক দিয়ে প্রকাশের অযোগ্য হলেও তাদের সম্ভাবনাময় অপটু লেখাগুলো অপরাজেয়’র পাতায় স্থান দেয়ার চেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে।

সংবাদ আর প্রতিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত শহর ও আঞ্চলিক  প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রগুলোর পূর্ণ তথ্য তুলে ধরতে হবে এবং সেখান থেকে কি কি সেবা প্রদান করা হয় এবং তা কিভাবে সহজে পাওয়া যাবে তার বিবরণ তুলে ধরতে হবে। প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী শরীর ও মন সুস্থ রাখতে “স্বাস্থ্য বিষয়ক” পাতা দেখতে চাই।

 

আর অবশ্যই পত্রিকার কলেবর বাড়াতে হবে, ১৬ পৃষ্ঠার ফর্মেটে বাজারে আসতে হবে। আজকের ইন্টারনেট যুগে কিপ্যাড আর টাচস্কীন প্রেমীদের পিপাসা মিটাতে পত্রিকা প্রকাশের প্রথম দিনই হার্ডকপির পাশাপাশি ওয়েবভার্ষন উম্মুক্তের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রতিবন্ধী মানুষের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক ঊষার আলোকে। তাদের সম্ভাবনাময় প্রতিভা বিকাশে “বি-স্ক্যান” এর এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সফল হোক, সমাজের মূল ধারায় মিশে গিয়ে সার্থক হোক তাদের স্বপ্ন এই কামনা করি।

মেজর জহিরুল ইসলাম

সহ সভাপতি স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিস ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশ (এসসি আইডিএবি)

এবং সাধারণ সদস্য, বি-স্ক্যান।