সিলেটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্তকরণ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা

8

আল আমিন (সিলেট প্রতিনিধি): প্রতিবন্ধী মানুষেরাও সমাজের অংশ। আইন প্রণয়ন ও সুবিধাদি প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। বিশেষত প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উপর জোর দেয়া হচ্ছে বেশী। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে র‌্যাম্প তৈরির পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হুইলচেয়ার প্রদানের বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া বিনা সুদে ঋণ প্রদানসহ প্রতিবন্ধী সন্তানরা পেনশনও পাচ্ছে।

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে গত ৯ অক্টোবর, ২০১৩ সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে ‘উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একীভূতকরণ এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলা প্রশাসক জনাব শহিদুল ইসলাম এ কথা বলেন।

দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রকাশের লক্ষ্যে সমাজের প্রত্যেকেই স্ব স্ব অবস্থানে থেকে পাশ্ববর্তী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখার ব্যাপারে এবং সমাজে একীভূতকরণ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে অংশগ্রহনকারীগণ মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। সকলের মতামতের আলোকে গৃহীত মতামত ও সুপারিশসমূহঃ

 

সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সরকারী পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকান্ডে প্রতিবন্ধী মানুষদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্তকরণ এবং শনাক্তকরণ জরিপ কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ, এছাড়া পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, উপজেলা উন্নয়ন কমিটিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা, সকল ক্ষেত্রে (শিক্ষা, পরিবহনে আসন সংরক্ষণ, চিকিৎসা) জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক  ঘোষণা সমূহ অনুসরণ করে নতুন আইন মোতাবেক জেলা, উপজেলা কমিটি গঠন, ইশারা ভাষার ব্যাপক প্রচার ও প্রসার বিশেষত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ব্রেইল পদ্ধতি ও ইশারা ভাষার সহায়ক উপকরণ বৃদ্ধি এবং কোটা ও ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বজন প্রীতি বন্ধের পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম এর সভাপতি জনাব রজব আলী খান বলেন, যেহেতু সিলেট সিটি কর্পোরেশনে প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রয়েছে সেহেতু গৃহীত সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এ্যাডভোকেসী ও লবিং করতে হবে।

 

এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন থেকে আগত প্রতিবন্ধী এবং অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মতামত প্রদান করেন।