প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতে শিক্ষাঙ্গনে ম্যানুয়েল লিফট

তানজিদ শুভঃ “বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ঘটনা প্রথমবারের মত ঘটেছে, যা দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য হতে পারে অনন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”

 

গত ৯ মার্চ, ২০১৪ সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ মাধ্যমিক বালক বিদ্যালয়ে প্রবেশগম্য দুটি হুইলচেয়ার র‌্যাম্প ও একটি ম্যানুয়েল লিফট উদ্বোধনের পর বিদ্যালয় মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় স্বনামধন্য লেখক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগীয় প্রধান ও বি-স্ক্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত এমন একটি লিফট তৈরিতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয় কিন্তু এক লক্ষ টাকারও কম খরচে লিফটটি নির্মাণ এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি তৈরিতে কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী ব্যক্তি নিজেই একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী। সত্যিই অভাবনীয়!

 

শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা লাভের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে এমন আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ছাত্রের শিক্ষার পথ সুগম করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশী সিস্টেমস চেঞ্জ এ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক (বি-স্ক্যান) এর উদ্যোগে দোতলা পর্যন্ত হুইলচেয়ার পৌছানোর সুবিধার্থে একটি ম্যানুয়েল লিফট এবং সে পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রতিবন্ধকতা দূর করতে দুটি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হয়। সেরিব্রাল পালসির সম্মুখীন (হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী) শিক্ষার্থী কে এম সিয়াম ফারজিন অনয় এর পিতা কে এম মোবারকউল্লাহ শিমুলের আর্থিক সহায়তায় ম্যানুয়েল লিফটটি নির্মাণে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছেন মহিউদ্দিন বাবুল যিনি এ ধরনের ম্যানুয়েল লিফট আগেও নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে তিনি স্পাইনাল কর্ড ইঞ্জুরিস ডেভেলপমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিডাব) এর সভাপতি। র‌্যাম্প দুটি নির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন কানাডার টরেন্টো প্রবাসী বাংলাদেশী সাংস্কৃতিক সংগঠন সঞ্চারী।

 

জনাব মোবারক উল্লাহ শিমুল এ অনন্য উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, এই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত অনয় নিচ তলাতেই পড়েছে। কিন্তু ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে উঠার পর দোতলায় হুইলচেয়ার প্রবেশগম্যতা না থাকায় সন্তানের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম দেখে তিনি দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যান। কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এবং বি-স্ক্যান এর এই উদ্যোগের ফলে অনয়ের  শিক্ষা গ্রহণের পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু লিফট নির্মাণের এই ব্যয়ভার বহন করতে পেরেছি আমি। তাদের কথা ভাবছি, যাদের আর্থিক সঙ্কটের মোকাবেলা করতে হয়! এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনয়ের মত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার পথ সুগম করার আহ্বান জানাই আমি।

অধ্যক্ষ জনাব ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, উদ্যোগটি সারা দেশের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করেছে। পরবর্তীতে কোন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয় থেকে ফিরে যাবে না। তাদের জন্য আমাদের বিদ্যালয়ের দরজা সবসময়ই খোলা।

আরও বক্তব্য রাখেন, স্পাইনাল কর্ড ইঞ্জুরিজ ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিডাব) সভাপতি মহিউদ্দিন বাবুল, সঞ্চারী সদস্য অনন্ত আহমেদ ও বি-স্ক্যান সভাপতি সাবরিনা সুলতানা এবং সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে বি-স্ক্যান এবং চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ আয়োজনে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সচেতনতা সৃষ্টিতে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর ম্যানুয়েল লিফটটি কিভাবে উঠা-নামা করে তা একটি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়।