মিরপুর স্টেডিয়ামে দেশের প্রথম ডিজেবল্ড এক্সেস টিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে প্রথমবারের মত প্রতিবন্ধী কোটায় (Disabled Access Ticket)  টিকেট ক্রয় করে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের নর্থ ক্লাব হাউজের শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ডে (ইউ ব্লক) হুইলচেয়ার সহায়ক স্থানে বসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ’১৪ এর ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগের উন্মাতাল আনন্দে মেতেছিল এতদিনের অধিকার বঞ্চিত প্রতিবন্ধী মানুষেরা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সহায়তায় টি-২০ বিশ্বকাপ’১৪ এর শেষ দিককার বেশ কয়েকটি ম্যাচ নির্বিঘ্নে উপভোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন তাদের বিনোদনের অধিকার প্রতিষ্ঠা পেল অপরদিকে এতদিনকার আন্দোলন এই প্রথম সফলতার মুখ দেখল।

 

বিসিবি’র এই প্রচেষ্টাকে আন্তরিক সাধুবাদ। মাঠে বসে খেলা দেখতে পেরে সত্যিই খুশি লাগছে। প্রত্যাশা করি ভবিষ্যতেও ডিজেবল্ড এক্সেস টিকেট সহজেই ক্রয় করার সুব্যবস্থা চালু থাকবে এবং আমাদের নিশ্চিন্তে এভাবেই খেলা দেখার সুযোগ অব্যাহত থাকবে – উচ্ছ্বসিত শারীরিক প্রতিবন্ধী নজরুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এভাবেই।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আশিকুর রহমান অমিত বলেন, এর আগে কোন স্টেডিয়ামেই প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য প্রতিবন্ধী বান্ধব সুব্যবস্থার কথা শুনি নি। মিরপুরে প্রতিবন্ধী মানুষ বিশেষত হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের জন্য এমন চমৎকার একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা ছিল, যা বিসিবি চাইলেই স্থানটি প্রচারের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী মানুষকে সচেতন করতে এবং বহিঃবিশ্বে প্রশংসা কুড়াতে পারত বলেই আমি মনে করি। তবে শুরুটা যেহেতু হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি ক্রিকেটপ্রেমী প্রতিবন্ধী মানুষকে এই জায়গাটি স¤পর্কে অবহিত করতে বিসিবির উদ্যোগ নেয়া দরকার। এছাড়া এই নির্দিষ্ট স্থানটি শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী মানুষের জন্যেই নির্ধারিত রাখার ব্যাবস্থা নিতে দাবি জানাই বিসিবির কাছে।

 

 

উল্লেখ্য, ২০১১ বিশ্বকাপের পর স্টেডিয়ামের ১নং গেটের বড় ডিজেবিলিটি লোগোটি খুলে ফেলা এবং প্রচারণার অভাবে এখানকার প্রবেশগম্য স্থানটি লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে যায়। এছাড়া ব্যাংকের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতিবন্ধী মানুষ এবং তাদের স্বেচ্ছাসেবী সহযোগীদের জন্য একত্রে উক্ত স্থানের টিকেট ক্রয়ও ছিল অসম্ভব। ইত্যাদি নানা সমস্যার মাঝেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ’১৪ নিয়ে প্রতিবন্ধী মানুষদের উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না। কিন্তু বিসিবির কাছে টিকেটের আবেদন এবং বিভিন্নভাবে চেষ্টার পরেও ১৬ মার্চ এর প্রথম টি-২০ ম্যাচের টিকেট ক্রয় করতে ব্যর্থ হন তারা।

 

ম্যাচ শুরু হয়ে যাবার পরে জানা যায় হুইলচেয়ার সহায়ক স্থানটিতে একটি কোমল পানীয় সংস্থার ভিআইপি বক্স বসানো হয়েছে। এ খবরে প্রতিবন্ধী মানুষেরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করলে, ওয়াটারএইড ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বি-স্ক্যান। কিন্তু তার আগেই ২০ মার্চ’১৪ দৈনিক কালের কন্ঠে “প্রতিবন্ধীদের জায়গাও বেদখল” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং পরিচালক মাহবুব আনামের অনুরোধে সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করে তাদের আমন্ত্রণে ২২ মার্চ’১৪ বি-স্ক্যান এর প্রতিনিধি দল এ সমস্যা সমাধানে আলোচনা করতে বিসিবি অফিসে যান। প্রসঙ্গক্রমে জনাব মাহবুব আনাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভিআইপি বক্সটি ছাদের উপর বানানোর কথা থাকলেও কিছু অব্যবস্থাপনার কারণে সেটি হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জায়গায় তৈরি করা হয়ে গিয়েছে। প্রতিবন্ধী বান্ধব একটি জায়গাকে ভিআইপি বক্স বসিয়ে তাদের বঞ্চিত করায় তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এই জায়গাটির অপব্যবহার হবে না এমন আশ্বাস দেন।

 

তবে কোমল পানীয় সংস্থার সাথে চুক্তি হওয়ার কারণে টুর্নামেন্ট চলাকালীন জুয়েল স্ট্যান্ডের হুইলচেয়ার সহায়ক স্থানটির ভিআইপি বক্সটি অপসারণ কোনভাবেই সম্ভব নয় জানিয়ে তার পাশেই ২৫ মার্চ থেকে পরবর্তী সবগুলো ম্যাচ উপভোগের সুবিধার্থে ১০ জন প্রতিবন্ধী মানুষ এবং তাদের সহযোগীসহ মোট ২০ জনের বরাদ্দকৃত টিকেট ক্রয়ের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া বিসিবির অনুরোধে শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি’১৪ টুর্নামেন্টের টিকেট ক্রয় করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বি-স্ক্যান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। পরবর্তী টুর্নামেন্টগুলোর জন্য বিসিবি ওয়েবসাইটে একটি যোগাযোগের নাম্বার দেয়া হবে, যেখানে ফোন করে আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে প্রতিবন্ধী মানুষেরা এখন থেকে টিকেট ক্রয় করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মাহবুব আনাম।

 

এছাড়া এই হুইলচেয়ার সহায়ক স্থানটি যেহেতু শুধুমাত্র হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের তাই পরবর্তী টুর্নামেন্টগুলোতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য (যারা সাধারণ সিটে বসতে সক্ষম) প্রতি গ্যালারীতে ২০টি করে টিকিটের কোটা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে বি-স্ক্যান এর পক্ষ থেকে।