বিআরটিসি গণপরিবহনে পরীক্ষামূলক র‌্যাম্প সংযুক্তির কাজ চলছে

20

তানজিদ শুভঃ যোগাযোগ মন্ত্রীর ঘোষণার প্রায় দু’বছর পরে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের বহুল আকাঙ্ক্ষিত প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিগ্যিরই ঢাকার রাস্তায় নামতে পারে র‌্যাম্পযুক্ত গণপরিবহন। বিআরটিসি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিগত প্রায় পাঁচ মাস ধরেই বিআরটিসি এর গাজীপুর কারখানায় পরীক্ষামূলক ভাবে বাসে র‌্যাম্পযুক্ত করার কাজ চলছিল যা প্রায় শেষের পথে।

 

উল্লেখ্য, দেশের যোগাযোগ ব্যাবস্থায় প্রভূত উন্নতি সত্ত্বেও এর সুবিধা পৌঁছুচ্ছে না প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্বারপ্রান্তে। গণপরিবহনে প্রবেশে বাধাই এর প্রধান অন্তরায়। বাসের খাঁড়া সিঁড়ি, নির্দিষ্ট উচ্চতায় স্টপেজ না থাকা, আসনের অপরিকল্পিত বিন্যাস ইত্যাদি বিশেষত বিরূপ প্রভাব ফেলছে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের উপর। অথচ গণপরিবহনে নারী ও শিশুদের সাথে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির আসন নির্দিষ্ট করা থাকলেও সে আসন পর্যন্ত নেই নিরাপদে পৌঁছানোর সঠিক এবং সহজ কোন উপায়।

এ সমস্ত বাধা নিরসনে সর্বত্র প্রবেশের সুবিধা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার দাবীতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বি-স্ক্যান এর উদ্যোগে, সিআরপি এর সহযোগিতায় ২০১২ সালে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে এদেশের হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষেরা রাস্তায় নেমে আসে। র‌্যালী শেষে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে অসংখ্য হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের সামনে যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের বাসে র‌্যা¤পযুক্ত করণের এই ঘোষণা দিয়েছিলেন।

 

এর প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের শুরুর দিকে দেশের সরকারি বেসরকারি ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিন মাস ব্যাপী এক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ডিজাইন কন্টেস্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেয় বি-স্ক্যান। দেশীয় প্রেক্ষাপটে বাস্তবধর্মী এবং প্রয়োগযোগ্য সমাধান বের করে বিআরটিসি বাসে হুইলচেয়ার প্রবেশগম্য র‌্যাম্পের ডিজাইন তৈরির এই প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে অংশ নেন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তি এবং বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষকগণ। প্রতিযোগিতা শেষে বাছাইকৃত সেরা ৬টি ডিজাইন বিআরটিসির চেয়ারম্যান জনাব জসিমউদ্দিন আহমেদ সাহেবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে আশানুরূপ কোন ফল না পেয়ে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষেরা যখন হতাশ হতে শুরু করেছে সে সময় বিআরটিসির টেকনিক্যাল জিএম মেজর আশরাফ  অপরাজেয়’কে জানিয়েছেন, বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর একটি বাসে র‌্যা¤পযুক্ত করার কাজটি তাদের গাজীপুরের কারখানায় প্রায় শেষের পথে। সম্পূর্ণ নিজেদের ডিজাইনে তৈরির চেষ্টারত এই প্রবেশগম্য বাসটির কাজ দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

 

গণপরিবহনে হুইলচেয়ার প্রবেশগম্য বাস এর ডিজাইন কন্টেস্টে বিচারক হিসেবে অংশ নেয়া মেজর জহিরুল ইসলাম জানান, অনেক আলোচনা পরামর্শের পরে হুইলচেয়ার সহায়ক কিছু ডিজাইন আমরা বাছাই করেছিলাম। বিআরটিসি এই কাজটি শুরু করেছে জানতে পেরে সে সময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বি-স্ক্যান এর উদ্যোগে মাধ্যমে আমরা বেশ কয়েকজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তি গাজীপুরে তাদের কারখানায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম কাজটি দেখার জন্য। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হয় ।  প্রতিবারই জানিয়েছেন আমাদের যাওয়ার তারিখ তারাই জানাবেন। কিন্তু আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় আমরাও যেতে পারি নি।

 

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে জানান, এই কাজে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানষকে সম্পৃক্ত করা খুব প্রয়োজন ছিল। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রতিবন্ধী মানুষের চাহিদা পূরণের কাজে তাদের সম্পৃক্ততা বা পরামর্শ অনুযায়ী কাজ না করার ফলে কিছু না কিছু বাধা রয়েই যায়। আর তার ফল ভোগ করতে হয় আমাদেরই।