অবহেলিত চট্টগ্রামের বিশেষ শিক্ষা ব্যবস্থা

12

তোহফাতুর রাব্বি

 

৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার দৈনিক চাহিদা পূরণে সম্পদের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত। আর এই সীমিত সম্পদ নিয়ে বিশ্ব সভ্যতার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে গর্জিত বাঘ। উন্নত হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার মান।  কিন্তু যখন একটি উন্নয়নশীল দেশের কোন একটি গোষ্ঠীর কথা আলাদা করে বলা হয়, তখন একটু অন্য ভাবে ভাবতে হয়, আর সেই শ্রেণীটি যদি সমাজের প্রতিবন্ধী মানুষেরা হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে চিন্তার দাবী রাখে।

 

 

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০% মানুষ কোন না কোন ভাবে প্রতিবন্ধিতার সম্মুখীন। আর এই মানুষগুলো অধিকাংশ-ই বসবাস করে দারিদ্র-নিপীড়িত পরিবারে। ফলে সমাজের এই সব মানুষের সরকারি ও বেসরকারি পযার্য়ে সুযোগ সুবিধাগুলো একটু বেশি প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে এর বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। শিক্ষাক্ষেত্র থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার মান পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই তারা কোন না কোন ভাবে পিছিয়ে পড়েছে। যার একটি সুষ্পষ্ট বাস্তব চেহারা দৃষ্টিগোচর হয় চট্টগ্রাম দৃষ্টি ও শ্রবণ-বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত বিদ্যালয়ের সার্বিক চিত্র দেখে। চট্টগ্রাম নগরীর বসবাসকারী দৃষ্টি ও শ্রবণ-বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদফতর অধীনে, সরকারি তত্ত্বাবধানে মুরাদপুর এলাকায় ১৯৬৪ সালে “সরকারি অন্ধ ও মূক-বধির বিদ্যালয়” নামে নির্মিত হয় এই বিদ্যালয়টি।

 

 

সবচেয়ে অবাক বিস্ময়ের ব্যাপার হল, বেশ কয়েক বছর আগে কাগজে কলমে “সরকারি দৃষ্টি ও বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়” এই নামটি পরিবর্তিত হলেও সাইনবোর্ডে এখনও ঝুলছে পুরনো নামটি। প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের বর্তমান সার্বিক অবকাঠামোগত অবস্থা যে কোন বিবেকবান মানুষকে ভাবাবে। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য রয়েছে একটি দোতলা ভবন ও আবাসিক দুটি হোস্টেল একটি ছেলেদের ও আরেকটি মেয়েদের।

চট্টগ্রামে বসবাসকারী দৃষ্টি ও শ্রবণ-বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিতের জন্য সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনে মাত্র ৩টি বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে দুটি বিদ্যালয় যথাক্রমে বান্দরবান ও রাউজান উপজেলায় অবস্থিত হলেও শহরতলীতে আছে মাত্র এই একটিই বিদ্যালয়। ফলে অন্যান্য তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিবন্ধী মানুষদের এই বিদ্যালয়ে আবাসিক সুবিধা গ্রহণ করতে হয়। সমাজের অন্য পাঁচটি মানুষের মত শিক্ষা গ্রহণের আশায় অভিভাবকগণ হৃদয়ের সমস্ত আবেগ বিসর্জন দিয়ে নিজেদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করে নিশ্চিন্ত থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিধিবাম স্বাভাবিকভাবে অভিভাবকদের মনে প্রশ্ন জাগে, আদৌ  কি তার আদরের সন্তান সত্যিই ভালো থাকছে? তারা কি আসলেই বাস্তবমুখী শিক্ষার স্ত্রোতধারায় জ্ঞানে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে পারছে বা তারা কি ভোগ করতে পারছে সব মৌলিক অধিকারগুলো!

 

শুরুতেই দৃষ্টি দেয়া যাক বিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দিকে। তাদের দৃষ্টি শক্তির স্বল্পতার কারণে ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করতে হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সরকারি এই স্কুলটিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সবার জন্য স্বল্প পরিমাণে ব্রেইল বই থাকলেও  মাধ্যমিক স্তরের জন্য কোন ব্রেইল বই-ই ছিল না। দুবছর আগেও মাধ্যমিক স্তরের জন্য কোন ব্রেইল বই ছিল না। কিন্তু একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে এখন প্রত্যেক শ্রেণির জন্য মাত্র এক সেট করে বই রয়েছে, যা একাধিক শিক্ষার্থীর জন্য খুবই নগণ্য এবং এতে আবাসিক হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি আরো জটিল। ফলে শিক্ষকদের পাঠ দান, প্রশ্ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে পড়তে হয় নানান অসহনীয় বিড়ম্বনায়।

আবার ৬৫ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিপরীতে ৬ জন শিক্ষক থাকলেও ৫৫ জন শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র ২ জন শিক্ষিকা। নেই ইশারা ভাষায় অভিজ্ঞ কোন শিক্ষক। অন্যদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৬ জন শিক্ষক থাকলেও তার মধ্যে ৫ জনই দৃষ্টিহীন ফলে পাঠদান চলছে খুবই ধীর গতিতে। যার কারণে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ স্যারের সাথে কথা হলে তিনি বলেছেন, দেশটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং যেহেতু রাষ্ট্র অভিভাবক সেখানে জনগণের এ ভোগান্তিগুলো পোহানো উচিত না। আমাদের এখানে মূল সমস্যা সিটের স্বল্পতা। যেখানে ছেলেদের পঞ্চাশটা আর মেয়েদের মাত্র ত্রিশটা সিট রয়েছে যা বর্তমান জনসংখ্যার সাথে তাল রেখে যতজন দৃষ্টি ও শ্রবণ-বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে সে অনুপাতে একেবারেই অপ্রতুল। ফলে অনেক শিক্ষার্থীই বঞ্চিত হচ্ছে এবং পরবর্তীতে পরিবারের গলগ্রহ হয়ে পড়ছে। তিনি এ অবস্থার আশু পরিবর্তনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

 

এদিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দিক দিয়ে চিন্তা করলে আরো নাজুক অবস্থা চোখে পড়ে। বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সামনে দাঁড়ালে মনে হবে একটি পরিত্যক্ত ভবন যা অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা একটি প্রাক-ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকেও হার মানাবে। আশে পাশের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বর্ষা মৌসুমে মূল রাস্তা থেকে শুরু করে বিদ্যালয় হয়ে হোস্টেলে যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত পানিতে টইটুম্বর থাকে। তার ওপর আশেপাশের বদ্ধ নর্দমা থেকে আসা আবর্জনা যুক্ত হয়ে সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধ ও অসহনীয় যন্ত্রণা। কোন এক সময় রাস্তার পানি নেমে গেলেও বছরের প্রায় বেশির ভাগ সময়ে বিদ্যালয়ের নীচ তলা থাকে জলাবদ্ধ ও কাঁদাপানি আবর্জনায় ভরা। আর চলাচলের একমাত্র উপায় এক-দুই কদম পরপর থাকা ইটের সারি। রাস্তার পাড় ভেঙে মাটি সরে গিয়ে পুরো রাস্তার কাঠামোটাই পাল্টে গেছে তাতে করেও সৃষ্টি হয়েছে অনেকগুলো ছোট বড় গর্ত যা বিশেষ করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে উঠে বিপদজনক। তারপরও শিক্ষার আলোয় নিজেদের আলোকিত করার লক্ষ্যে ভাঙা ও গর্তযুক্ত পথ দিয়ে অনেক কষ্ট করেই তারা বিদ্যালয়ে আসে। মূলত উপরোক্ত সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর কোন পদক্ষেপও চোখে পড়ার মতো নয়।

 

 

বিদ্যালয়টির নীচ তলায় শ্রবণ-বাক এবং দোতলায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ। সময়ান্তে, নীচ তলায় পানি জমলে শ্রবণ-বাক শিক্ষার্থীদের উপরের তলায় অনেক কষ্ট করেও ক্লাস করতে হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ কক্ষের অভাবে প্রায় তাদেরকে নিয়মিত পাঠগ্রহণ হতে বিরত থাকতে হয়।

বিদ্যালয়ের এই অবস্থা থেকেই আবাসিক হোষ্টেলের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। বেঁচে থাকার জন্য একটি মানুষের যেটুকু মৌলিক চাহিদা পূরণ করা প্রয়োজন, তার কোন অংশই পুরোপুরি পূরণ করা হয় না তাদের জন্য। সমাজসেবার তত্ত্বাবধানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পুরো মাসের জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র ৩০০০ টাকা, যা বর্তমান যুগের জন্য খুবই সামান্য। প্রত্যেক বেলায় একজনের জন্য বরাদ্দ স্বল্প পরিমাণের খাবারের ফলে তাদের দৈহিক খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। তার ওপর রয়েছে খাদ্যের কাঁচামাল ও নানান অপব্যবস্থা। অধিকাংশ শিশু পুষ্টিহীনতা ও চর্ম রোগে ভুগছে। এরপর জীবনযাত্রার মান নিয়েও রয়েছে নানান সঙ্কট, ছেলে ও মেয়েদের হোস্টেলে বিরাজ করছে অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। বাথরুমগুলোও যথাযথভাবে পরিষ্কার রাখা হয় না। বিদ্যালয়ের জন্য নির্দিষ্ট একজন ঝাড়–দার থাকলেও, হোস্টেলের জন্য তা নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরা নিজেদের প্রয়োজনে প্রায় সময় পড়াশুনা বাদ দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় লেগে যায়। রান্না-বান্নায় সবজি কাটাকুটি থেকে শুরু করে চাল-ডাল ধুয়ে দেয়া, এসবের পর খাওয়া পরিবেশনের কাজটিও করতে হয় এই কোমল হাতে। ছোট ছোট শিশুদের জন্য এসব কাজ অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। দুর্ঘটনাক্রমে কোন ছাত্র-ছাত্রীর হাত পা কাটা গেলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেবার জন্য নেই কোন ব্যবস্থা। ছেলে শিশুদের হোস্টেলের একটি কক্ষে তিনজন মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে যাদের চিৎকার, চেঁচামেচিতে ভীত হয় শিশুরা।

 

তাদের কোমল মনে কী প্রভাব পড়ছে তা নিয়ে কি আদৌ ভাবনা রয়েছে কারো? সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে বিদ্যালয়ের ভবনগুলোর অবস্থা যাচ্ছেতাই। নালাগুলো পুরোই বদ্ধ, আশেপাশে আবর্জনার স্তুপের ফলে মশা ও মাছির উৎপাত হোস্টেলগুলোতে অনেক বেশি। রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির যথেষ্ট অপ্রতুলতা। বিছানাগুলোও পুরাতন, অপরিচ্ছন্ন এবং নোংরা। সামান্য বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলেও লোডশেডিং-এ ভবনগুলো পুরোই ভুতুড়ে বাড়ি বলে মনে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আছে কি নেই তা বলা দুষ্কর, তার ওপর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই করুণ। এমনকি বিদ্যালয়ের নানান আসবাবপত্র জানালা দরজাও খোয়া গেছে। ফলশ্র“তিতে সন্ধ্যা নেমে এলেই এলাকার উঠতি বয়সী বখাটেদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাদের নানান অনৈতিক কর্মকাণ্ডে মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ। রয়েছে যৌন নিপীড়নের অভিযোগও। পাশেই সমাজসেবা কার্যালয় থাকলেও সরকারি প্রদত্ত সকল সুযোগ সুবিধা যেন কাগজে কলমে আবদ্ধ। এদিকে শিক্ষার্থীদের নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে চলার জন্য নেই কোন হাউজ মাষ্টার। খেলাধুলার মাঠটিও অধিকাংশ সময়ে কর্দমাক্ত ও অপরিচ্ছন্ন থাকায় খেলাধুলা ও চিত্ত বিনোদনের অভাব থেকে যায়। সাংস্কৃতিক চর্চা ও কারিগরি পরীক্ষার জন্য দুই জন পরীক্ষক থাকলেও পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে তাও চলছে সীমিত আকারে। বিদ্যালয়ভিত্তিক স্কাউট, অন্যান্য দিবস ও সামাজিক অনুষ্ঠানেরও কোন কার্যক্রম নেই বিদ্যালয়ে।

 

 

প্রতি হোস্টেলে টিভি রয়েছে কিন্তু ডিশ কানেকশন নেই। ছেলেদের জন্য একজন দাবা প্রশিক্ষক থাকলেও মেয়েদের জন্য তা নেই। এক কথায় বলা যায়, এই বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী বর্তমান যুগের আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সমাজের আর পাঁচটা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মতো তারাও মনের কোনে ছোট্ট একটা স্বপ্নের জাল বুনে। কিন্তু ওটুকু পূরণে তারা চায় সমাজের সকলের ভালোবাসা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা। আর তা অপূরণীয় থাকলে তাদের ছোট্ট চাওয়াগুলো অকালেই ফিকে হয়ে যাবে এবং সমাজ কতগুলো কার্যকরী হাতিয়ার হারাবে তা আজ ভাববে কে?

 

 

একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যখন একটি শিশু ডিজিটাল বাংলাদেশের রঙিন ক্যানভাসে তার স্বপ্নের তুলির আঁচড় কাটবে তখন দৃষ্টির অগোচরে সমাজের এই সমস্ত শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত স্বপ্নগুলো মিশে যাচ্ছে কালের গহ্বরে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও এদের মধ্যে কিছু মানুষ নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখলেও তা নিতান্ত নগণ্য। অথচ সঠিক পরিচর্যা আর উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এরাও জাতি ও সমাজে রাখতে পারে অসামান্য অবদান। হতে পারে সভ্যতার দুর্জয় কান্ডারী।