জেদ্দার একটি মসজিদে ইশারা ভাষা চালু

অপরাজেয় ডেস্কঃ জেদ্দার একটি মসজিদ শুক্রবারের খুতবা ইশারা ভাষায় প্রদান এবং তা ইউটিউবে প্রচার আপলোড শুরু করেছে যা সামাজিক গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আল-নাসিমে অবস্থিত খদিজা বাঘালিফ মসজিদে প্রতি শুক্রবার ২৫০ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আসেন যারা তাঁদের জন্য বিশেষ ভাবে নেয়া ব্যবস্থাগুলো থেকে সুফল লাভ করেন।

 

মক্কা ডেইলির প্রতিবেদনে প্রকাশিত সামাজিক গণমাধ্যমে প্রচারিত এই ব্যবস্থা ৭০টি দেশের হাজারও মানুষ অনুসরণ করছে। মসজিদের ইমাম শেখ আব্দুল্লাহ আল ঘামদি জানান, মসজিদে বহু শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নামাজ পড়তে এবং তাঁর সাথে কুশল বিনিময় করতে দেখেছেন তিনি। তাদের সাথে কথা বলে তিনি জানতে পারেন যে, তারা নামাজের প্রার্থনা এবং শুক্রবারের খুতবায় কি বলা হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারেন না। তাই, মসজিদের শ্রবণ প্রতিবন্ধী প্রার্থনাকারী ব্যক্তিদের জন্য কিছু ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি শুরু করা হয় এবং মসজিদে ইশারা ভাষার প্রশিক্ষণও দেয়া হয় কয়েকজনকে। শিক্ষণীয় উদ্যোগটি সামাজিক গণমাধ্যম এবং ইউটিউবের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আল-ঘামদি বলেন, প্রকল্পটির লক্ষ্য শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ, স্বজনদের এবং ইশারা ভাষা শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষক, পাশাপাশি মুয়াজ্জিন (যিনি আজান দেন) এবং অফিসিয়াল কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে জানানো।

 

“মসজিদে শ্রবণ প্রতিবন্ধী প্রার্থনাকারীদের সাথে কথা বলতে গিয়ে আমি সেসব মানুষের দুর্ভোগ ও তাদের সেবায় ঘাটতি ছাড়াও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষদের সাথে তাদের পরিবারের ভালভাবে যোগাযোগের অক্ষমতার বিষয়টি অনুভব করতে পেরেছি। তাই আমরা এমন একটি প্রকল্পের কথা ভেবেছি, যার মাধ্যমে এইসব মানুষদের প্রশিক্ষণ দেয়া যায়।”

 

এই শ্রেণিভুক্ত মানুষদের সাথে মসজিদের স¤পর্কের কথা বলতে গিয়ে আল-ঘামদি বলেন, মসজিদ জীবনের একটি গুরত্বপূর্ণ বিদ্যালয় এবং এটি একটি বৃহৎ সামাজিক ভূমিকা পালন করে। যারা কথা  বলতে এবং শুনতে পারে না তারা খুব বেশি সহযোগিতা পায় না । তারা একটি বিস্মৃত শ্রেণির মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের বেদনা কেউ বুঝতে পারে না, কেবল তাদের ঘনিষ্ঠজন ছাড়া। তিনি বলেন, প্রকল্পের তত্ত্বাবধানকারীদের লক্ষ্য, যারা শ্রবণ প্রতিবন্ধী তাদের মাঝে শরীয়াহ শিক্ষা প্রদান করা এবং তাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা। এছাড়াও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং তাদের ক্রীড়া, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং কারিগড়ি প্রতিভার বিকাশও এর অন্যতম লক্ষ্য।