প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী; ভাবনায় আসুক পরিবর্তন

17

 

সাবরিনা সুলতানা

 

বছর দু’য়েক আগের কথা! ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ফেরার পথে পেছন থেকে হুইলচেয়ার সমেতই আমাকে “মাল” আখ্যায়িত করে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের মতোন চমৎকার একটি ট্রেনকে “মাল টানা গাড়ি” বলেছিলেন এ সমাজেরই প্রতিষ্ঠিত এবং সুশিক্ষিত এক সাংবাদিক। সুবর্ণ এক্সপ্রেসের অনুভূতিতে কতটা আঘাত লেগেছিলো সে মূহুর্তে তা বোঝার অবকাশ পাই নি। গলার কাছে কুণ্ডুলি পাকিয়ে থাকা এক দলা ক্ষোভ, থর থর রাগ অপমানবোধের কম্পনে হাত পা ক্রমশ শক্ত হয়ে উঠছিলো আমার। যদিও ঐ দিনকার রাগটা পড়ে গেছে খুব দ্রুত কিন্তু অদ্ভুতুড়ে সে মূহুর্তটা সম্ভবত কখনোই ভুলতে পারবো না আমি।

 

একবার ট্রেনের টিকেট চেকার ঝাড়িমূলক উপদেশ দেবার চেষ্টা করেছিলেন, ‘আপনি একা চলাচল কেনো করেন! সাথে অবশ্যি কয়েকজন মানুষ রাখবেন।’

পরিবার বা সমাজ থেকে হরহামেশা আমাদের শুনতে হয়, ‘তুমি একা পারবা না।’ ‘তুমি এইটা পারবা না।’ ‘তুমি ঐটা পারবা না।’  ‘ঐখানে এই সমস্যা।’ ‘সেইখানে সেই সমস্যা।’ ‘তুমি সামলাতে পারবা না।’ ‘তুমি একা যেয়ো না।’ সন্দেহ নেই, প্রতিবন্ধী মানুষের যোগ্যতা নিয়েই অমূলক সন্দেহ!

অল্পদিন আগেই বোটানিক্যাল গার্ডেনে আচমকা বজ্রবৃষ্টির তোপের মুখে পড়ে একটা ছাউনিতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভাইয়া জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপু আপনার সমস্যা কি’? আমি দুই গাল হেসে উত্তর করি, “কই! আমার তো কোন সমস্যাই নাই রে ভাইয়া!” কখনো উল্টো আমার বোকা বোকা প্রশ্ন, “ভাইয়া কেনো মনে হলো সমস্যা, একটু বলেন তো প্লিজ!?” কিছুটা ভ্যাবাচেকা খেয়ে চোখ গোল করে আমার দিকে খানিক্ষণ তাকিয়ে থেকে আপন মনে কি যেনো বিড়বিড় করতে করতে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন। অনেকের অবাক দৃষ্টির ভাবনাও পড়তে পারি আমি। “ইশ! কি কষ্টের জীবন! এত দুঃখে কষ্টে কি আর মাথা ঠিক রাখা যায়”। মনের এই উচ্চারণ কখনো সখনো মুখ ফসকে বেড়িয়েও আসে। অনেকে আবার বলেন, “আফসোস করো না। কি আর করবা, আল্লাহ্ পরীক্ষা নিচ্ছেন। ধৈর্য্য রাখো।”

 

পথ চলতে গিয়ে প্রায়ই এমন অদ্ভুত সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় আমাকে। আমার কিন্তু কখনো মনেই থাকে না আমারো কিছু শারীরিক সীমাবদ্ধতা আছে। যাপিত জীবনের সমস্যাগুলোও খুব একটা ভাবায় না। তবে হ্যাঁ, সমস্যা বা কষ্টটা তখনই লাগে যখন আপনি, আপনারা আমাকে বারে বারে মনে করিয়ে দিচ্ছেন আমার এই সীমাবদ্ধতার কথা! আর তখনই ধৈর্য্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে আমার জন্য। নতুবা বিশ্বাস করুন আর না করুন আমি দিব্যি আনন্দে বেঁচে আছি। আমি বিশ্বাস করি, এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা আমার সমস্যা নয়। একটা অবস্থা মাত্র। যা নিয়েও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়।

প্রায় সময় দেখি অনেকেই বলছেন, “প্রতিবন্ধী শব্দটা না বললেই কি হয় না!” “কাউকে প্রতিবন্ধী বলতে ভালো লাগে না।” “তারা প্রতিবন্ধী নন তাই তাদের প্রতিবন্ধী বলা উচিৎ না।” ইত্যাদি ইত্যাদি হরেক রকমের মন্তব্য। অনেকেই আবার ‘প্রতিবন্ধী’, ‘প্রতিবন্ধিতা’ এবং প্রতিবন্ধকতা এই দু’টি শব্দার্থকে এক করে ফেলেন!

 

আজ চেষ্টা করতে চাই এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কিছু বলার মতোন দুঃসাহস দেখাতে। ভুল-ত্রুটি থাকলে বিজ্ঞজনেরা শুধরে দেবেন। কারণ আমার জানার গণ্ডি একেবারেই সীমিত। এখনো প্রতিদিনই নিত্যনতুন অনেক কিছু শিখছি। আমার বিশ্বাস শেখার কোন শেষ নেই। এখানে আমি কেবল চেষ্টা করবো, এতদিন যা কিছু শিখে এসেছি সেটুকু সম্পর্কে কিছু বলার। যা হোক, ভূমিকা বড় না করে মূল আলোচনায় ফিরে যাই।

 

 

প্রতিবন্ধী, প্রতিবন্ধিতা এবং প্রতিবন্ধকতাঃ 

 

Convention on the Rights of Persons with Disabilities (CRPD) এই সনদ অনুযায়ী সারা বিশ্বে আজ স্বীকৃতি পেয়েছে Person with Disability সম্বোধনটি। যাকে বাংলা করে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী মানুষ/ব্যক্তি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অনেকে আবার Differently Able People বলেন। তাকে বাংলা করা যায় ‘ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষ’। কিন্তু এ নিয়েও রয়েছে নানা দ্বিমত। যেমনটা আমাদের দেশের মানুষ ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ সম্বোধন করতে চান না।

 

বর্তমান অবস্থাদৃষ্টে আমার মত হলো, সামান্য নাম বা সম্বোধনে বৃথা তর্কে সময় নষ্ট না করে তাদের সামাজিক উন্নয়ন ও অধিকারের বিষয়গুলো সুনিশ্চিত এর লক্ষ্যে মাথা ঘামানো। তাদের সম্পর্কে, তাদের অধিকার, জীবন যাপনের সহায়ক ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে জানা-বোঝা। সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করা।

লক্ষ্য করুন, ‘প্রতিবন্ধী’, ‘প্রতিবন্ধিতা’ এই দু’টো শব্দের বানানে ছোট্ট একটি পার্থক্য আছে। তেমনি এর অর্থেও আছে কিছুটা ভিন্নতা। আর প্রতিবন্ধকতা একেবারেই ভিন্ন ব্যাপার।

 

এদেশে খোদ প্রতিবন্ধী মানুষ এবং তাদের পরিবারই অসচেতন নিজেদের মৌলিক অধিকারের বিষয়ে। শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিভিন্ন ধরণের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে সবার মনে একটি বদ্ধমূল ধারণা প্রচলিত। তা হলো, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা- অসুস্থ, রোগাক্রান্ত। আর রোগাক্রান্ত মানুষেরা কিছুই পারেন না। তাই তারা সমাজের বোঝা। শিক্ষা বিনোদনের সুযোগ, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে কর্মক্ষম স্বাভাবিক জীবন যাপন তাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। এই ভুল ধারণার বশঃবর্তী হয়েই তাদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।

আমাদের জানাটা জরুরী, মানুষ জম্মগতভাবে বা জম্মের পর বিভিন্ন দুর্ঘটনা বা শারীরিক, মানসিক সমস্যা বা অসমর্থতার কারণে স্বাভাবিক জীবন যাপনে কিছুটা বাধাগ্রস্থ হন। এক কথায় এ বাধাগ্রস্থ অবস্থাটিকে প্রতিবন্ধিতা এবং প্রতিবন্ধিতার সম্মুখীন সেই ব্যক্তিকে  প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সম্বোধন করা হয়।

 

অনেকে আবার এমন ভাবেন, কোন মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা মানেই মানুষটা প্রতিবন্ধী। এটিও ভুল ধারণা! শুধু মাত্র শারীরিক/মানসিক/ইন্দ্রিয়গত সীমাবদ্ধতা নয়, বিভিন্ন ধরণের নধৎৎরবৎ বা প্রতিবন্ধকতার কারণে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যখন এই মানুষগুলো সমাজের নেতিবাচক মনোভাব, অবকাঠামোগত বাধা/অসুবিধা ইত্যাদির কারণে বিভিন্ন কার্যক্রমে সমতার ভিত্তিতে পুরোপুরি অংশ নিতে পারেন না, তখন অংশ নিতে না পারা বা বিচ্ছিন্ন এই জনগোষ্ঠীকে ‘প্রতিবন্ধী’ সম্বোধন করা হয়।

আবারো বলছি, প্রতিবন্ধিতা কোন রোগ বা অসুখের পর্যায়ে পড়ে না। এটি মানুষের একটি অবস্থা মাত্র। একজন মানুষ তার প্রতিবন্ধিতা নিয়েও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন এটি আমাদের দেশের মানুষ বিশ্বাস করতে পারেন না বা জানেন না। যারা প্রতিবন্ধিতার সম্মুখীন তারা কিন্তু কখনোই এটা মনে রাখেন না যতক্ষণ না তাদের সামনে একটি বাধা এসে দাঁড়ায়। হতে পারে সেটা অবকাঠামোগত কিংবা মানুষের আচরণগত। যখনই অ-প্রতিবন্ধী মানুষ তাদের ‘প্রতিবন্ধী’ বলে বিদ্রুপ করেন, একটু অবাক দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তাদের অদম্য মনোবল ভেঙ্গে পড়তে থাকে। নিজেদের ভিনগ্রহের প্রাণী ভাবতে থাকেন তারা। যদিও প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব অসচেতনতার ফলেই তৈরি হয়। আর অবকাঠামোগত বাধা সরিয়ে সহায়ক ও সহজ চলাচলের পথ তৈরী বা দূর করার প্রধান কারণ পারিবারিক ও সামাজিক অসচেতনতাবোধ। এর ফলেই নানান ধরণের প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েই যায়। যারা এই ধরণের বৈরী পরিবেশকে সাহসের সাথে মোকাবেলা করার মানসিক শক্তির অধিকারী তারাই সফল কিন্তু তাদের সংখ্যা নিতান্তই কম।

 

আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, যারা জন্ম বা পরবর্তী সময়ে নানা কারণে বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধিতার সম্মুখীন হয়েছেন তারা তাদের এই অবস্থাটি সাথে নিয়েই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন। শুধু প্রয়োজন হয় সহায়ক কিছু ব্যবস্থার যা এদেশে নেইই বলতে গেলে। নিজের ভেতরের জেগে উঠা সচেতনতাবোধ ছড়িয়ে দিতে হবে আশেপাশে। দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে মানসিকতার পরিবর্তন হলেই সামাজিক অবকাঠামোগত পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী!

 

একটু ভেবে দেখুন, শুধু মাত্র সচেতনতা নেই বলেই এই দেশের অবকাঠামোগত বাধা সরিয়ে সহায়ক ব্যবস্থা তৈরির ব্যাপারটা গুরুত্বই পায় না।

 

অসচেতনতা বা অজ্ঞতার ফলে অসফলতা…ঃ

 

দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ডে দেখা যায় একজন অ্যাথলেটকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে “বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিউলি সাথী” বলে। কারো সীমাবদ্ধতা কিছুতেই তার পরিচয় হতে পারে না। বিশেষ করে যা তার ইচ্ছেকৃত নয়। সম্ভবত প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীও যে ভিন্নভাবে সক্ষম হতে পারে এই উৎসাহটি দিতে গিয়েই গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ অসচেতনতাবশত ভুলটি করে ফেলেছেন।

উৎসাহের ব্যাপারটি একটু ভিন্নভাবেও দেয়া যেতো! “শত বাঁধা পেরিয়ে” কিংবা “তারাও পারে” এর পাশাপাশি ‘অপরাজিতা কিংবা অদম্য’ শিউলি সাথী হিসেবেও তার পরিচয়টি আসতে পারতো।

 

টেলিকম কোম্পানী রবি সারাদেশের রেলওয়ে স্টেশনে পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট স্থাপন করেছে। যেখানে প্রতিবন্ধী মানুষের সহজে পৌছানোর জন্য র‌্যাম্প বসানো হয়েছে। কিন্তু র‌্যাম্পটি পার হবার পরে হুইলচেয়ার নিয়ে পানির কলের কাছ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে রয়েছে একটি বাধা যা সবার নজর এড়িয়ে গিয়েছে!

সত্যি কথা বলতে কি, সরকারি/বেসরকারি অনেক উচ্চ পর্যায়েও এমন ভুল হয়। এ কারণে প্রতিবন্ধী মানুষকে নিয়ে কোন কাজ করতে গেলে সব সময়ই তাদের সাথে আলাপ আলোচনা বা পরামর্শ করেই কাজটি করা দরকার। যাতে করে ছোটখাট এই ধরণের ভুলগুলো এড়িয়ে চলা যায়। প্রতিবন্ধী মানুষের সমস্যা একমাত্র তারাই ভালো বোঝে। তারাই জানে এ সমস্যা উত্তরণের উপায় কতটা সহজে কিভাবে নির্ণয় করে নেয়া যায়। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপারটি হলো এটি কারো মনে থাকে না বা এর কোন প্রয়োজন বোধ করা হয় না। একারণেই আমাদের দেশে বেশীর ভাগ কাজ হয় ঠিকই কিন্তু তাদের সম্পৃক্ততা থাকে না বলে, অজান্তেই এমনতর অসম্মানজনক ব্যাপারগুলো ঘটে যায়। অন্যদিকে প্রতিবন্ধকতাগুলো থেকেও পাওয়া যায় না মুক্তি।

 

 

‘প্রতিবন্ধী’ শব্দের অপব্যবহারঃ

 

ছোট বেলা থেকে শিখেছি কানাকে কানা, খোঁড়াকে খোঁড়া বলতে নেই। সেটা সে জমানার কথা! এ জমানায় ‘অন্ধ’ ‘কানা’ ‘ল্যাংড়া’ ‘খোঁড়া’ ‘আঁতুড়’ পঙ্গু এই জাতীয় সব শব্দ ব্যবহৃতই হয় না আর। এখন প্রতিবন্ধী শব্দটির পাশে সসম্মানের সাথে যুক্ত হয়েছে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ ‘প্রতিবন্ধী মানুষ’ ইত্যাদি সম্বোধন।

এই একবিংশ শতাব্দীতেও অবাক বিস্ময়ে মাঝে সাঝে দেখি, প্রতিবন্ধী তথা ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের সমাজের নিকৃষ্ট জীব হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশেষত আমাদের দেশে অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, কাউকে গালি দিতে, অপদস্থ বা ব্যঙ্গ করতে হলেই “প্রতিবন্ধী” “বুদ্ধি প্রতিবন্ধী” “বিবেক প্রতিবন্ধী” পঙ্গু মন মানসিকতা” এই ধরণের ব্যঙ্গাত্মক শব্দ ব্যবহারের। উঠতে বসতে কিছু হলেই দিয়ে দিলাম গালি ‘প্রতিবন্ধী’!

 

কারো প্রতি রাগ উঠলে ব্যঙ্গ করতেই পারেন। গালিও দিতে পারেন। কিন্তু ব্যঙ্গাত্মক ইঙ্গিতবাহী শব্দ উচ্চারণের সময় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সাথে তুলনা করে গালিটা দেয়া হলে প্রকারান্তরে নিরপরাধ এই মানুষগুলোকেই হেয় করা হয় এই সাধারণ ব্যাপারটা সবার মাথায় রাখা প্রয়োজন। যারা প্রতিবন্ধী তথা ভিন্নভাবে সক্ষম না হয়ে উঠতে পারা মানুষগুলোকে নিয়ে আফসোস করেন, তারা বুঝতে পারেন না তাদের এই জাতীয় অর্থহীন কথায় অবজ্ঞা নয়, করুণা বা ব্যঙ্গও নয় প্রবল এক মায়া কাজ করে আমাদের ভেতরে। আমরা জানি আমাদের দেশের মানুষগুলোর ভেতরে নিষ্পাপ এক শিশু মন লুকিয়ে আছে। অনেক গভীরে কোথাও। আমরা নিশ্চয় সেইখানে পৌঁছবো কোন একদিন!

 

তাদের অনুভবে এই উপলব্ধিটা আসবেই একদিন “আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী মানুষেরা বেড়ে উঠছে কিছুটা অবজ্ঞা, কিছুটা অবহেলা এবং সেই সাথে অনেকখানি করুণা নিয়ে। আর এই অবজ্ঞা বা করুণার কারণেই ভিন্নভাবে সক্ষম হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করাটা তাদের জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে।“

সেই দিন তারা বিশ্বাস করতে শুরু করবে, সামাজিক বাধাগুলো ডিঙ্গিয়ে বা নানা রকমের সহায়ক কিছু ব্যবস্থার সাহায্য পেলে খুব সহজেই এই সমাজে নিজেকে ভিন্নভাবে সক্ষম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে নিতে পারেন প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী। সেই দিন আর আলাদা নয়। এক সাথেই কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে চলবেন সকলে। সেই দিন আর তাদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকবে না। কারণ মানুষের মনুষত্ববোধের পুরোপুরি বিসর্জন গেছে এমনটা কখনোই হতে পারে না।