মা-বাবাই অটিস্টিক শিশুর উত্তম চিকিৎসক

12

 গোলাম কবির মজুমদার 

 

কবির ও হ্যাপির ঘর আলো করে সবার চোখ জুড়িয়ে ফুটফুটে প্রান্ত এল আর এই আনন্দের মাঝে হঠাৎ-ই ছন্দ পতন। সাত মাস বয়সে এক গভীর রাতে হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর। কালক্ষেপণ না করে রাত আড়াইটায় তারা প্রান্তকে ঢাকার আইসিএমএইচ ভর্তি করেন। পরীক্ষা নিরীক্ষায় জানা যায় মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত সে। দীর্ঘ দু’মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরা।

 

কিন্তু প্রান্ত অন্য শিশুদের মতো বাবা-মার আদর আহ­াদে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে না। মাঝে মাঝে অদ্ভুত কিছু আচরণ করে। নিজের জগতে বিভোর। বাবা মা ডাক তার মুখে আশা করাই বৃথা। জানা গেল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোগ বিন্যাসের মধ্যে শিশু-কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশজনিত শিশু রোগের অন্তর্ভুক্ত অটিজম এর সম্মুখীন সে। সোজা কথায় মস্তিষ্ক ও মনের বিকাশজনিত জটিল সমস্যা অটিজম। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে মূলত শিশুর আচরণ, সামাজিক ও পারস্পারিক যোগাযোগ, কথা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে। অটিজম সম্মুখীনের সংখ্যাও কম নয়। সচেতনতা নির্ণয় সক্ষমতার ফলে গত ৪০ বছরে অটিজম ধরা পড়েছে ১০ গুণ বেশী যার মধ্য মেয়ের চেয়ে ছেলে শিশুদের হার পাঁচগুণ বেশী। এর সঠিক কারণ এখনও নির্ণয় করা যায় নি, তবে গর্ভধারণের সময় পিতা-মাতার বেশী বয়স, গর্ভকালীন মাতৃত্বে জটিলতা যা শিশুর মস্তিষ্কে জন্মকালীন অক্সিজেন স্বল্পতা সৃষ্টি করে, রোগ প্রতিরোধের অক্ষমতা ইত্যাদি মিলে অটিজমের সৃষ্টি। যদিও এ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণার শেষ নেই। এমনকি শিক্ষিত এবং পেশাজীবীদের মধ্যেও বিতর্কিত বিষয় এটি। তবে বিতর্কের চেয়ে অটিস্টিক শিশুকে সাহায্য করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করাই শ্রেয়। অটিস্টিক অভিভাবকের সচেতনতাবোধ শিশুকে উন্নতির সোপানে নিয়ে যেতে পারে। তারাই পারেন প্রাথমিক পর্যায় থেকে যতেœর সাথে শিশুকে বাড়তি সময় ও ধৈর্য নিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে।