চাই সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির পরিবেশ

60

সমাজের মূলধারায় শুরু হোক ইশারা ভাষার ব্যবহার   

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে দেশব্যাপী পালিত হল বাংলা ইশারা ভাষা দিবস যদিও আজও মন্ত্রী পরিষদের অনুমোদনের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে দেশের অগুনতি শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষেরা। এমনকি ইশারা ভাষাও আজ অবধি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায় নি। শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ইশারা ভাষা ইন্সটিটিউট নির্মাণের সরকারি ঘোষণা এসেছে গেল ৭ ফেব্র“য়ারির ইশারা ভাষা দিবসে। এছাড়াও ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন আদালতে অভিজ্ঞ দোভাষীদের এখন থেকে যাতায়াত ভাড়া দেয়া হবে। যদিও আদালত কর্তৃক ইশারা ভাষা ব্যবহারের নির্দেশনাসহ দোভাষীর তালিকা প্রকাশ এবং তাদের পারিশ্রমিক ইত্যাদি নানা বিষয় দাবীতেই আটকে আছে। দেশের প্রতিটি সমাজসেবা বিভাগীয় কার্যালয়গুলোতে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগ করাও অত্যন্ত জরুরি। তাছাড়াও সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন পরিসেবার ক্ষেত্রে ইশারা ভাষার ব্যাপক প্রসার প্রয়োজন। বিশেষত মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইশারা ভাষার ব্যবহারের অভাবে সেখানে শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইশারা ভাষার প্রচলন শুরু হয়ে গেলে বলা যায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি তাদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

প্রতিবন্ধীবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার দাবীতে
মৌলিক অধিকারের মধ্যে শিক্ষা, চাকুরী, বাসস্থান, চিকিৎসা ও বিনোদন ইত্যাদি পূরণে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রয়োজন তাদের সহায়ক চাহিদা অনুযায়ী প্রবেশগম্যতা ও যাতায়াত ব্যবস্থা। উন্মুক্ত চলাচলে যেখানে অ-প্রতিবন্ধী মানুষের সিঁড়ি প্রয়োজন তাদের সেখানে র‌্যা¤প, ব্রেইল ব্লক, টেকটাইল দিকনির্দেশনা ইত্যাদি দরকার। যদি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ব্রেইল পদ্ধতি, শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ইশারা ভাষা ব্যবস্থা এবং অন্য সবার চাহিদা অনুযায়ী সব ধরণের অবকাঠামোগত ব্যবস্থার পাশাপাশি উপযুক্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিযুক্ত থাকেন তাহলে সকল অ-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাথেই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের একত্রে পড়ালেখা অর্থাৎ একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত হতে পারে যা জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ তেও বলা হয়েছে প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা নিশ্চিত করতে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য করা তো যাবেই না উপরন্তু জবধংড়হধনষব অপপড়সসড়ফধঃরড়হ বা সর্বক্ষেত্রে সঙ্গতিপূর্ণ বন্দোবস্ত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু চারিদিকেই অবহেলার ছড়াছড়ি। এদেশে অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষেরা। সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তিতে প্রতিবন্ধীবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার সরকারি ঘোষণার দীর্ঘ তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দাবী পূরণ হয় নি। বিআরটিসির পরীক্ষামূলক র‌্যা¤পযুক্তকরণের কাজ দীর্ঘসূত্রিতার জালে আটকে রয়েছে সরকারি অন্যান্য কার্যক্রমের মতই।

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বিআরটিসির নিজস্ব নকশা অনুযায়ী নির্মিত পরীক্ষামূলক এই কাজটি প্রতিবন্ধী মানুষের কতটা সহায়ক হবে তা নিয়ে খোদ বিআরটিসি কর্তৃপক্ষেরও রয়েছে সংশয়। বাইরে থেকেও এই ধরণের বাস আমদানী করতে পারেন তারা তবে তা প্রতিবন্ধী মানুষের অনুরোধের প্রেক্ষিতে। যদিও বাস আমদানীর এই দাবী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বেশ কয়েক বছর আগেই উঠেছিল। তখন আমদানীকৃত বাস এদেশের রাস্তার উপযোগী নয় বিআরটিসির এহেন অজুহাতে সারা দেশব্যাপী প্রকৌশলের ছাত্রদের নিয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দেশীয় রাস্তা উপযোগি প্রতিবন্ধীবান্ধব বাসের বেশ কিছু নকশা জমা দেয়া হলেও সেই কাজ এগোয় নি নানা অজুহাতে। এদিকে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষগণ যাতায়াত বিড়ম্বনার স্বীকার হয়ে ধীরে ধীরে হতাশ হয়ে পড়ছেন। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এটাই প্রত্যাশা ।