হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হবার স্বপ্ন ভেঙ্গে দিলেন কলেজ উপাধ্যক্ষ;

 

প্রতিবন্ধিতা কি সুমাইয়ার অভিশাপ!

 

 

সুমাইয়া বিনতে শফি; দুই বৎসর বয়স থেকে ‘মাস্কুলার ডিস্ট্রফি’ সাথে নিয়েই সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন যিনি। সমস্ত বেড়াজাল ভেদ করে, মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হবার স্বপ্নে বিভোর সুমাইয়া ২০১৩ সালে ‘নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ’ এর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন। সেই স্বপ্ন পূরণের পথের নানা বাধা-বিপত্তি এবং এ পর্যন্ত তাদের যাত্রার সেই প্রতিকূল দুর্গম পথের অভিজ্ঞতা জানতে অপরাজেয় মুখোমুখি হয়েছিল সুমাইয়ার বাবা মোঃ শফি উদ্দিন মিয়া এবং মা হেলেনা আক্তার এর।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন খলিলুর রহমান, অনুলিখন সাজিয়া আফরিন তন্বী। 

 

 

ছোট্ট সুমাইয়া যখন গুটি গুটি পায়ে হাঁটতে গিয়ে একদিন পড়ে গেলো, প্রথম প্রতিবন্ধিতার সম্মুখীন হবার সেই সময়কার কথা মনে করে বাবা মোঃ শফি উদ্দিন মিয়া কিছুটা আবেগমন্ডিত হয়ে পড়েছিলেন। জন্মের দুই বৎসর পর সবাই বুঝতে পারলেন সুমাইয়ার শারীরিক দুর্বলতা। চলাফেরা ও অন্যান্য দিক দিয়ে পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে তার শরীরে। সুমাইয়ার বাবা একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হওয়ার সুবাদে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিলেন। ‘মাসল বায়োপসি’ পরীক্ষাতে ধরা পড়লো মাংসপেশীজনিত দূরারোগ্য ‘মাস্কুলার ডিস্ট্রফি’।

 

তখনও তারা বুঝে উঠতে পারছিলেন না যে, সুমাইয়া শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সম্মুখীন হয়ে পড়েছে চিরজীবনের জন্য। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে এমনই ভাবতেন তারা। কারণ সে একটু একটু হাঁটতে পারত। হয়ত এভাবেই চলতে পারবে। কিছু কাজ করতে পারবে। কিন্তু এই ধারণা ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে যখন বুঝতে পারেন তার শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। হাঁটাচলায় সমস্যা বাড়ছে। এক সময় হাঁটার শক্তি সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে সে। মেয়ের খুব অল্প বয়সে এমন অবস্থায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন বাবা মা সবাই। কিন্তু হাসপাতালের চাকরির সুবাদে সুমাইয়ার বাবা বুঝতে পেরেছিলেন, মেয়ের এই রোগের কোন প্রতিকার নেই। এটি স্থায়ীভাবে মেনে নিয়েই জীবন চালিয়ে নিতে হবে। হয়ত নিয়মিত ঔষধ সেবন বা শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টাটা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। যদিও সুমাইয়ার দাদা কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছিলেন। তাতেও কোন লাভ হয় নি।

 

সুমাইয়ার এই অবস্থা মেনে নিয়ে তারা যখন স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরে আসার চেষ্টা করছিলেন তখন শুরু হল সমাজের বিভিন্ন ধরণের কটু কথা, কুসংস্কার। সুমাইয়ার বাবা বললেন, “আমার মেয়েটা তখন সমাজের চোখে তথাকথিত প্রতিবন্ধী হিসেবে পরিচিত। নারায়ণগঞ্জ শহরে ওর জন্ম ও বেড়ে ওঠার ফলে এখানে পাড়া-প্রতিবেশীর আচরণ কিছুটা সহনীয় ছিল। সামান্য প্রতিকূলতা থাকলেও তা কাটিয়ে ওঠা গেছে। কিন্তু গ্রামের মানুষেরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনোভাবের কারণে ভাবতেন প্রতিবন্ধিতা কোন পাপের ফল এবং মাটি পড়ালে তা ঠিক হয়ে যাবে। ঈদে কিংবা অন্যান্য ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে গেলে গ্রামের লোকজনের মুখে এসব কথা শুনে সুমাইয়ার মন খারাপ হয়ে যেত। সবাই উৎসুকভাবে তাকে দেখতে আসত এতে অস্বস্তিবোধ করতো সে।”

 

বাবা মা দুজনেই নিজেকে সব সময় বোঝাতে চেষ্টা করেছেন মেয়ের এই অবস্থার জন্য কখনোই মন খারাপ করবেন না। সকল প্রতিবন্ধী মানুষই এক আল্লাহর সৃষ্টি এবং রাষ্ট্র-সমাজ-পরিবারের একটা অংশ। এদের বঞ্চিত করা মানে নিজেদের প্রতি অবহেলা। যে কারো সাথেই যে কোন সময় এমন হতে পারে। সেজন্য তারা কখনও মন খারাপ করেন নি বরং সন্তানকে নিয়ে গর্ববোধ করেছেন। গ্রাম্য প্রচলিত কুসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন না তারা। প্রতিবন্ধিতায় কোন ভূত-প্রেত-জ্বিন-দেব-আত্মার হাত নেই বরং এটি একটি মানব বৈচিত্রের অংশ। মেডিকেল সায়েন্স অনুসারেও এটা হতেই পারে তাই বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়াকেই সমীচিন মনে করেছেন। সুমাইয়ার পা বেঁকে যাওয়া শুরু করলে তারা ঢাকায় এসে ডাক্তার দেখান এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সাপোর্ট জুতার ব্যবস্থা করেছেন ও বিভিন্ন রকম ফিজিওথেরাপি দিয়েছেন।

 

সুমাইয়ার মা জানালেন, ছোটবেলায় সুমাইয়ার আইকিউ টেস্টের ভালো ফলাফল তাকে সমাজের মূলধারায় পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উৎসাহ অনেক বাড়িয়েছে। যেখানে ঢাকা শিশু হাসপাতালে অন্যান্য শিশুদের আইকিউ সাধারণত ৮০-৯০ হয়ে থাকে সেখানে সুমাইয়ার ফলাফল ছিল ১৩৪। সুমাইয়ার মেধাবিকাশ দেখেই তারা অন্যান্য অ-প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতামাতাদের মতই তাদের সন্তানকেও মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, বিশেষত শিক্ষা জীবন স¤পূর্ণ করতে প্রত্যয়ী হন। এরপরেই তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। একটি শিক্ষিত পরিবার হিসেবে তারা মনে করতেন, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং অ-প্রতিবন্ধী মানুষ সকলের জন্যই শিক্ষা অনিবার্য।

 

যদিও পারিপার্শ্বিকতার কারণে সুমাইয়া এবং তার পিতামাতার অনেক স্বপ্ন ভেঙ্গে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। সুমাইয়ার হোমিওপ্যাথি পড়ার অনেক ইচ্ছা ছিল। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর গত ডিসেম্বর’২০১৩ তে ‘নারায়ণগঞ্জ তানজিম হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ’ এর ভর্তি ফর্ম পূরণ করে জমা দেয় সে। যেখানে হোমিওপ্যাথি ভর্তি হওয়ার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ সেখানে সুমাইয়ার উচ্চমাধ্যমিকেও ভালো ফলাফল (জিপিএ ৪.২০) করা স্বত্বেও শুধুমাত্র ‘শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী’ এই অজুহাতে কলেজটিতে তাকে ভর্তি নিচ্ছে না। সুমাইয়ার বাবা জানান, যেদিন সুমাইয়াকে নিয়ে ভর্তি ফর্মটি জমা দিতে যাওয়া হয় সেদিন কলেজের অধ্যক্ষ অনুপস্থিত ছিলেন। উপাধ্যক্ষের সাথে কথা হলে তিনি সেই দিনই সুমাইয়াকে কলেজে ভর্তি করাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

 

সুমাইয়ার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার নম্বরপত্র দেখার জন্য অনুরোধ জানাই উপাধ্যক্ষ স্যারকে এবং সরকার প্রণীত ‘একীভূত শিক্ষা আইন’ সম্পর্কেও অবগত করানো হয়। তবুও তিনি কোনভাবেই সুমাইয়াকে ভর্তি করাতে রাজি হন নি বরং তার পূরণ করা ফর্মটাও জমা না নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে সুমাইয়ার বাবা আরও জানালেন, পরিবারের প্রেরণায় সুমাইয়া পরের বছর আবারও একই কলেজে ভর্তির চেষ্টা চালিয়েছে এবং একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে আর কিছু বাড়তি অপমানের যোগ হয়েছে। এবারও কলেজটির উপাধ্যক্ষ বললেন, “জেনারেল লাইনের পড়ালেখা সুমাইয়া পারবে না। এখানে তাকে ভর্তি করানো সম্ভব নয়। ঐ প্রতিবন্ধী আইনটা সাধারণ শিক্ষার জন্য প্রযোজ্য। মেডিকেল লাইনে পড়তে হলে ফিজিক্যাল ফিটনেস লাগবে।”

 

এত অপমান আর সহ্য হয় না বলে দুঃখ করতে করতে সুমাইয়ার মা জানালেন, এত সব ভোগান্তিতে ক্রমেই সুমাইয়া হতাশ হয়ে পড়েছে। হতাশা তাকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যে, সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবুও সম্প্রতি একটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠনের প্রচেষ্টায় শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের দ্বারস্থ হয়েছিলাম আমরা। তিনি উক্ত কলেজের অধ্যক্ষকে ফোনে বিষয়টি জানালে সুমাইয়ার ভর্তি আবেদন গ্রহণ করা হয় ২০১৫ এর শুরুতে। কিন্তু এরপর থেকে হোমিওপ্যাথি বোর্ড অনুমতি দিলে তবেই সুমাইয়াকে ভর্তি করানো সম্ভব এই বলে গত কয়েক মাস যাবত তাদের ঘুরাচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কথাবার্তার এই পর্যায়ে সুমাইয়া একটু উদাসীন আর হতাশ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হয়ত হতাশা নয়ত অধিকার বঞ্চিত প্রতিবন্ধী মানুষগুলোর এই দীর্ঘশ্বাসে তাদের চেপে রাখা অভিমান আর স্বপ্নভাঙ্গনের সুর বাজে। আর সেই দীর্ঘশ্বাসের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে অধিকার থাকতেও অধিকার বঞ্চিত হতে বাধ্য করা সেই মানুষ কিংবা সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জমা আক্ষেপ আরোও ঘনীভূত হয়।

 

 

তবে ছোটবেলাতে সুমাইয়া অনেক হাসিখুশি ছিল। পড়ালেখাতে ভালো ছিল তাই তার শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সহপাঠীদের সহযোগিতা সবসময় পেয়েছে সে। সবাই তাকে ভালোবাসত। সুমাইয়ার প্রতিবন্ধিতার কারণে প্রথম দিকে যা একটু হতাশা ভর করেছিল সময়ের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন তারা। সুমাইয়ার নিজেরও বেশ উৎসাহ ছিল পড়ালেখায়। তাই সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে অভিযোগ না করে নিজেরা নিজেদের সাহস যুগিয়েছেন, একে অন্যকে উৎসাহিত করেছেন তা শক্তভাবে মোকাবেলা করতে। কখনও আক্ষেপ করে কেউ কারো দুর্বলতা বাড়ান নি বরং একজন অন্যজনের চলার পথের সাথী হয়েছেন সুমাইয়াকে শক্তি ও সাহস দিতে।

 

সুমাইয়ার এই বেড়ে ওঠা, তার পড়ালেখা এগিয়ে এতদূর আসার পেছনে শফি উদ্দিন বেশির ভাগ কৃতিত্ব দিলেন তাঁর সহধর্মিণী হেলেনা আক্তারকে। কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করলেন তাঁর প্রতি, যেহেতু চাকরি সূত্রে তিনি পুরোটা সময় সেভাবে দিতে পারেন নি। সুমাইয়ার মা প্রত্যেকটা কাজে তাঁকে এবং সুমাইয়াকে সহযোগিতা করেছেন। পরিবার-সমাজ-সামাজিকতা সামলে সুমাইয়াকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। তবে সুমাইয়ার শিক্ষা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তা হল, হুইলচেয়ার সহায়ক যাতায়াত ব্যবস্থার অভাব। এদেশে প্রতিবন্ধী মানুষদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নেই বললেই চলে। হাতে গোনা কিছু জায়গা ছাড়া হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষদের চলাচলের জন্য সর্বত্র র‌্যাম্প নেই। সুমাইয়াকে তার দোতলার শ্রেণিকক্ষে অনেক কষ্টে কোলে করে তুলে নিয়ে যেতে হত তাদের।

 

ঘরের বাইরে সুমাইয়াকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশে যাতায়াত নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই আগেই বলেছি। কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করলেই মনে আসে সুমাইয়াকে নিয়ে যেখানে যাচ্ছি সেখানে প্রবেশগম্যতার ব্যবস্থা, র‌্যাম্প কিংবা টয়লেটের সুব্যবস্থা আছে কি নেই। খোঁজ খবর নিয়ে যেতে হয়। সময়ে-অসময়ে নানান সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি যানবাহন সমস্যা তো আছেই। এদেশে প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য সুযোগ-সুবিধা অনেক কম। সেক্ষেত্রে যা করার নিজেদেরই করতে হয়েছে, তবুও সুমাইয়াকে সব জায়গায় নিয়ে যাবার চেষ্টা করি আমরা। আর এক্ষেত্রেও কৃতিত্বের দাবীদার সুমাইয়ার মা।

পিতামাতার অনুপস্থিতিতে প্রতিবন্ধী সন্তানের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে আলাদাভাবে ভাবা হয় নি। তার শিক্ষার জন্য যা প্রয়োজন আমরা সামর্থ অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছি। শিক্ষিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হলে আমাদের অনুপস্থিতিতে তার জন্য আর চিন্তা কি? সে নিজেই আশা করি নিজেকে সামলে নেবে। যেহেতু আমি ছোটখাট সরকারি চাকরিজীবী। তবু আমার দুই সন্তানের মাঝে ভেদাভেদ আমি একেবারেই করি না। প্রসঙ্গক্রমে সুমাইয়ার মা জানালেন, তাদের ছোট মেয়ের কোন প্রতিবন্ধিতা নেই। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে সুমাইয়াকে একেবারেই হেয় করে দেখে না সে। যতটুকু সম্ভব পড়ালেখা ও বিভিন্ন কাজে সাহায্য করার পাশাপাশি বড় বোন হিসেবে যথেষ্ট সম্মান করে তাকে।

 

 

‘প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য আলাদা যত্ন দরকার’ এ প্রসঙ্গে সুমাইয়ার বাবা বলেন, পিতামাতা হিসেবে আপনার প্রতিবন্ধী সন্তান কি চাইছে সেটা অনুভব করতে হবে। তাদের বোঝার চেষ্টা করতে হবে। সবক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে হবে। প্রতিবন্ধী পিতামাতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন,আপনার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিজের কাছে রেখে নিজ দায়িত্বে স্বাবলম্বী করে তুলুন। প্রতিবন্ধী-অপ্রতিবন্ধী সন্তানের মধ্যে কোন পার্থক্য করবেন না। আপনি আপনার প্রতিবন্ধী সন্তানকে অতি যত্নে লালনপালন করুন, তাদেরকে সকল ক্ষেত্রে উৎসাহিত করুন, তাদের সাথে ভালো আচরণ করুন, তাদেরকে লুকিয়ে রাখবেন না বরং বাইরের আলোতে নিয়ে আসুন। তিনি মনে করেন, দেশের আর্থিক সংকটাপন্ন  প্রতিবন্ধী সন্তানদের অভিভাবকদের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে অবশ্যই সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন (ডিপিও) সমূহ, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সকলকে  প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা, যাতায়াত, স্বাবলম্বিতার জন্য সকল রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

যদিও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কাজটি মোটেই সহজ নয় তবুও পত্র-পত্রিকায়, রেডিও-টিভি বা গণমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন সমাজ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান বা আলোচনার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। কুসংস্কারমুক্ত হতে হবে আমাদের। সকলের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পরিবর্তন আনতে পারব, অন্যথায় নয়।