পাবলিক টয়লেটের খোঁজে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ

12

ইফতেখার মাহমুদ

 

ঘটনাটি ঘটেছে কয়েকদিন আগেই এবং বলতে লজ্জা নেই, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলাম আমি নিজেই। পেটের পীড়া সত্ত্বেও কর্মস্থলে ছুটি পাবার কোন উপায় নেই দেখে সাত সকালে রওনা দিলাম অফিসের উদ্দেশ্যে। কিন্তু পথেই প্রকৃতি ডাক দিয়ে বসল। তখন আমি মধ্য বাড্ডা থেকে ৪০ মিনিটে মেরুল বাড্ডায় পৌঁছেছি। জ্যামের বদৌলতে অফিসে পৌঁছুতে তখনো ৩০-৪০ মিনিট বাকি। উপায়ান্তর না দেখে বাস থেকে নেমে মসজিদ খুঁজতে লাগলাম। কারণ আমি জানি অত্র এলাকায় কোন পাবলিক টয়লেট নেই। কিন্তু ঘটনা চক্রে সেখানে বড় রাস্তার পাশে কোন মসজিদ ছিল না। তাই একটু সামনে একটু সামনে করতে করতে বেশ খানিকটা হেঁটে এক গলির ভেতর ঢুকে তারপর পেলাম মসজিদ।

 

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ হওয়ায় কিঞ্চিৎ রাস্তাও আমার জন্যে হয়ে উঠে সুদূর। আর রাস্তার খানা-খন্দের কথা তো বলাই বাহূল্য। কিন্তু ঘড়িতে বাজে মাত্র সকাল ৯টা। মসজিদ তালা দিয়ে কর্তৃপক্ষ হাওয়া। এদিকে একজন দয়া পরবশ হয়ে অদূরে মেরুল থানা দেখিয়ে দিল। সেখানে পৌঁছে কোন মতে সৎকার করে নাকে খত দিয়ে সিএনজি নিয়ে বাড়ি ফিরে আসলাম, কারণটা বোঝা খুবই সহজ।

জীবনে অনেকবার রাস্তায় চলার পথে মসজিদ, মার্কেট, হোটেল, ব্যাংক, হাসপাতাল, স্টেশন এমনকি মানুষের বাড়িতে ঢুকেছি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে। কিন্তু এবার সব ফেল হয়ে গেল। কাজ করছি নগর দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট নিয়ে, কিন্তু পথে ছুটে চলা নগরবাসী বিশেষত প্রতিবন্ধী মানুষের প্রাকৃতিক কর্ম সাড়ার উপায় কী? তাই মনে হল ওয়াটারএইডের মত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব পাবলিক টয়লেট তৈরির পদক্ষেপ অন্য সংগঠন থেকেও নেয়া উচিত।

 

যদিও ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন চলতি বছরে ৮ কোটি টাকা পাবলিক টয়লেট তৈরির জন্য বরাদ্দ করেছে। প্রত্যাশা সরকারের এই বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দ সঠিক কাজে লাগবে এবং শহরের অন্যান্য পথচারির মত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষরাও তার সুফল পাবে। পাশাপাশি হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষসহ সকল ধরণের প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আরও বেশি প্রবেশগম্য পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।