প্রতিবন্ধী মানুষের বিকাশে গণমাধ্যমের ভূমিকা

 

শাহাবুদ্দিন আহমেদ দোলন

 

একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ যার কাছে রাত দিন সমান। যিনি বাক প্রতিবন্ধী মানুষ তার সবকিছুর অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও মনের ভাব মুখে প্রকাশ করতে পারেন না। আবার একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষ যিনি সবকিছু দেখতে পেলেও পৃথিবীর কোন শব্দই শুনতে পায় না। আমাদের সমাজে এমন অনেক ধরণের প্রতিবন্ধী মানুষ বাস করেন যারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অবহেলিত। অথচ ক্ষেত্র বিশেষে তারাও যে বিভিন্ন কাজ করতে সক্ষম তা আমরা অনেকেই জানি না। এমন কি হয়তো তারা নিজেরাও জানেন না।

 

তাদের মানসিক ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন কর্মকান্ড, তাদের সামাজিক অবস্থান, অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে সমাজের সামনে তুলে ধরা দরকার। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলো। নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ইত্যাদি নির্মাণের মাধ্যমে। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

এইডস নিয়ে প্রচারণার ফলে যেভাবে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা, যাতায়াত, চলাফেরা ব্যবস্থাপনা তথা তাদের অধিকার বিষয়ক প্রচারণা শক্তিশালী গণমাধ্যমে নাটক-বিজ্ঞাপন এবং লেখালেখি ইত্যাদি মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি সম্ভব। এদেশের মানুষকে ভাবতে বাধ্য করা, তাদের অপ্রতিবন্ধী শিশুটির সাথে প্রতিবন্ধী শিশুটিরও রয়েছে শিক্ষা এবং বিনোদনের সমান অধিকার। সেই সাথে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি আচরণ বা শোভনভঙ্গিতে কথা বলার ধরণ, তাদের উন্মুক্ত চলাফেরা, সহায়ক ব্যবস্থাগুলো এবং প্রবেশগম্যতা বিষয়ে প্রচারণা চালানো দরকার।

 

মাঝে মাঝে সামান্য কিছু সচিত্র প্রতিবেদন দেখা যায় কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কদাচিৎ একটা দু’টো খবর। কিন্তু আরও ব্যাপক ভাবে নিয়মিত তুলে আনা যায় বিষয়গুলো। যেমন প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে মেধাবীদের জীবনাচরণ, ব্যতিক্রমীভাবে সফলদের গল্প অন্যদের উৎসাহিত করতে পারে। বিশেষত প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা বিষয়ে পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টিতে জোর দেয়া প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী মানুষের জন্যে সবক’টি চ্যানেলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলা ইশারা ভাষার ব্যবস্থা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত নিচে সাবটাইটেল থাকলে তাদের জন্যে বুঝতে সুবিধে হয়। কিন্তু ইশারা ভাষার ব্যবহার একমাত্র বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভির সংবাদ প্রচারণা ছাড়া আর কোন অনুষ্ঠানে একেবারেই দেখা যায় না। এদিকে কার্টুন, পাপেট শো ইত্যাদি তৈরির মাধ্যমে শিশুদের সচেতন করার দারুণ উপায় রয়েছে।

 

প্রতিবন্ধী মানুষের আবাসন তাদের জীবনধারার ক্ষেত্রে সহায়ক নানা উপকরণ বা ব্যবহার্য জিনিসপত্র প্রাপ্তির স্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধে অসুবিধে নিয়ে প্রচারণা রাখা যায়। যেমন- শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের জন্যে সহায়ক যাতায়াত উপযোগি মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা র‌্যাম্প বা ঢালু পথ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব টয়লেট, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের মুক্ত চলাচলে ব্রেইল বা টেকটাইল ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম। দেশের স্থাপত্য, স্থাপনা ও ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রকৌশলীরা যেনো প্রতিবন্ধী মানুষের প্রবেশগম্যতা ব্যবস্থাপনা মাথায় রাখেন সে ব্যাপারেও ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন। পত্রপত্রিকাগুলোর বিশেষ কিছু পাতা থাকে যেমন – নারী, স্বাস্থ্য, সাহিত্য ইত্যাদি ফিচার পাতা তেমনি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বিষয়ক তথ্যভিত্তিক একটি বিশেষ পাতা বা ছোট কর্নার প্রতিটি জাতীয় পত্রিকাতে রাখা উচিৎ। যেখানে তারা নিজেদের সমস্যা সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরতে পারবে।

পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নিপীড়িত অবহেলিতদের বঞ্চনার কথাও তুলে আনা প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বিষয়ে কর্মরত কর্তাব্যক্তিগণও এই বিষয়ে দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখতে পারেন।

 

বাংলাদেশে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে চারটি মাধ্যম খুব ভালো কাজ করতে পারে। রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকা ও চলচ্চিত্র। এই চারটা মাধ্যমেই যদি প্রচারণা চালানো হয় অবিরাম। প্রচারণাটা শুধু একটি বিশেষ দিবস উপলক্ষ্যে করলে হবে না। কারণ বাঙালী হচ্ছে বিস্মরণ প্রিয় জাতি। আমরা খুব দ্রুত ভুলে যাই। তাই লেখালেখি এবং কোন না কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের সামনে নিয়মিতভাবেই তুলে আনতে হবে। তাদের মস্তিষ্কে বিষয়টি ঢুকিয়ে দিতে হবে। মানুষ একে প্রথমে নেবে তার দৃষ্টিতে। তারপর মস্তিষ্কে। তারপর সে যদি তার হৃদয় দয়ে এটি ধারণ করে।

 

এই বিষয়গুলো নিয়ে অপরাজেয় মুখোমুখি হয়েছিলো গণমাধ্যমের বেশ কিছু সফল ব্যক্তিদের সামনে। তাদের বক্তব্যে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রত্যেকেরই বক্তব্য প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কিছু করা উচিত। কিন্তু কেন পারছেন না বা হচ্ছে না তার কারণ হিসেবে তারা জানান বাণিজ্যিক চিন্তাধারার কারণেই এ বিষয়টি নিয়ে নির্মাতারা উদ্বিগ্ন হন না। সরকারি/বেসরকারি সহযোগিতায় হয়তো সামাজিক সচেতনতার জন্য কাজ করা সম্ভব।  কয়েকজন ব্যক্তিত্বের মতামত তুলে ধরা হলঃ

 

নোমান রবিন

চিত্র নির্মাতা 

নোমান রবিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছেন। কিছুদিন আগে তিনি তৃতীয়লিঙ্গ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তৈরি করেছেন ‘কমন জেন্ডার’ নামে একটি টেলিফিল্ম। যা সুধী মহলে প্রসংশিত হয়েছে। তৃতীয়লিঙ্গ মানুষের অবহেলিত জীবন যাপন ও লাঞ্ছনা এই ছবির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। একটি মানুষ যার হাত, পা, চোখ, মুখ সবই ঠিক আছে যে শুধু লিঙ্গ বৈষ্যমের সম্মুখীন সেই মানুষটার সমাজে পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের অধিকার নাই। নোমান রবিন বলেন যাদের টয়লেট ব্যবহার করার অধিকার নাই তারা সমাজের অন্যান্য মৌলিক অধিকারটুকু বঞ্চিত হচ্ছেন। আর প্রতিবন্ধী মানুষের অবস্থাও তেমনই।

 

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পা, ব্ল্যাক, বরফির মতো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের বড় বড় পরিচালকগণ প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বিষয়ক কোন ছবি নির্মাণ না করার পেছনের সবচেয়ে বড় সমস্যাটা অর্থনৈতিক। আমাদের বাণিজ্যিক দিকটা মাথায় রেখে কাজ করতে হয়। তবে সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল মিডিয়া ছাড়া অন্য কোন পন্থা নাই। আর এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কার্পণ্যতা করারও কোন সুযোগ নাই। তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে ছবি নির্মাণের জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্কুলে গিয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতা বিশেষত সাইকোলজিক্যাল; বিজ্ঞানের মাধ্যমে যার সমাধান সম্ভব নয়। সমাধান করতে হবে মানসিক রুচির জায়গা থেকে। সেই পয়েন্ট অব ভিউ থেকে গল্পটা তৈরি করছেন।

 

তুষার আবদুল্লাহ

বার্তা প্রধান, সময় টিভি

তুষার আবদুল্লাহ জানান সময় টেলিভিশন  প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে সচেতন। পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়মিত প্রচার করে যাচ্ছে সময়। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি পূর্বের মনোভাবের এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং বিভিন্ন চ্যানেলগুলো এক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে। প্রতিবন্ধী মানুষের নিজস্ব চিন্তা ভাবনা এবং তাদের মতো করে সমাজকে দেখা এই বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখানো উচিৎ বলে তিনি মনে করেন। কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে শক্ত ভিত্তি তৈরির ব্যবস্থা কেমন হতে পারে মিডিয়ারই দেখানো উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন সময় টিভি যদিও আলাদাভাবে তেমন কোন অনুষ্ঠান করছেন না, তবে খবরে এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামের জায়গাগুলোতে যেভাবেই হোক তারা সুযোগ তৈরি করেন। তাদের অর্জনগুলো, সামাজিক জীবনযাপন এবং আত্ননির্ভশীল ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিবন্ধী মানুষদেরও তুলে ধরেন যারা সুন্দর করে পরিবার পরিচালনা করছেন।

 

ব্রাত্য আমিন

নাট্য নির্মাতা

তরুণ নাট্য নির্মাতা ব্রাত্য আমিন মনে করেন বিভিন্ন ধরণের ভূমিকাই রাখা যেতে পারে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য। শ্রবণ-বাক-দৃষ্টিসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত, আচার ব্যবহার ইত্যাদি নিয়ে অনুষ্ঠান তৈরি যেতে পারে । এছাড়া প্রতিবন্ধী মানুষেরাই সরাসরি অভিনয় করতে পারে। তাদের অভিনীত ডকুমেন্টারি বা চলচ্চিত্র নির্মাণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সম্পদে পরিণত করতে হবে। প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে সমাজ-পরিবারের লজ্জাবোধ দূর করতে সচেতনতা সৃষ্টিতে  বা প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা, ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদিও কাজে লাগানো যেতে পারে।

 

ফারজানা ব্রাউনিয়া

উপমহাব্যবস্থাপক (প্রোগ্রাম), চ্যানেল আই

বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সচেতনতার ভূমিকায় চ্যানেল আই এর উপমহাব্যবস্থাপক (প্রোগ্রাম) ফারজানা ব্রাউনিয়া বলেন অনেকেই হয়তো মনে করেন বেসরকারি চ্যানেলগুলো প্রত্যক্ষভাবে কোন দায়িত্ব পালন করে না। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে চ্যানেলের পরিচালকের কোন দায়িত্ব হয়তো নেই কিন্তু স্বতন্ত্র প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিছু দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের এই পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়িত করা প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে চ্যানেল আই শুরু থেকেই তাদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের নিয়ে বিভিন্ন গান রচনা করা হয়েছে, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়ে নাটকও তৈরি করা হয়েছে। এরকম ছোট বড় অনেক কাজই করে যাচ্ছে চ্যানেল আই। এই সময়ে আর একটি বড় ধরনের কাজ হচ্ছে ‘স্বর্ণ কিশোরী’। আমাদের দেশে প্রায় ৪ কোটি কিশোর কিশোরী আছে। তার মধ্যে প্রতিবন্ধী, উপজাতি সহ অনেকেই রয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় ৪ লাখ কিশোর কিশোরীর মাঝে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। এতে আমরা যে বিষয়গুলো তুলে আনছি তারমধ্যে পুষ্টি, খাদ্য জাতীয় ৬টি বিষয়ে আমরা আলোচনা করি যাতে করে প্রতিবন্ধী কিশোরীসহ সকলেই এ বিষয়ে সচেতন হয়। যেমনঃ একজন মা হয়তো জানলেনই না শিশুর জন্ম বাড়িতে না হাসপাতালে দেবে। তিনি জানেন না সন্তান জন্ম নেয়ার সাথে সাথে তার পর্যাপ্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় যা বাড়িতে ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। অক্সিজেনের অভাবে শিশুটির মস্তিস্কের বিকৃতি হতে পারে। ফলে শিশুর শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

 

জেরিন আলতাফ

হেড অব প্রোগ্রাম, এসএ টিভি

জেরিন আলতাফ প্রতিবন্ধী এই শব্দটা দিয়ে এই ছেলেমেয়েদের আলাদা করে দেখতে চান না। তারমতে সারা পৃথিবীতে যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে তাতে কারো যদি কোথাও শারীরিক অক্ষমতা থাকে তাকে আমরা প্রতিবন্ধী না বলি। কারণ এইসব ছেলেমেয়েরা এখন লেখাপড়া করছে, কাজ করছে, অফিস আদালতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকারও বিভিন্ন প্রকার কার্যক্রম গ্রহণ করছে। টিভি বা মিডিয়াগুলোর কথা যদি বলেন সেক্ষেত্রে আমরা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমরা বিভিন্ন প্রোগ্রাম বিশেষত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি খবর-অনুষ্ঠান ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে প্রচারের চেষ্টা করি এবং মিডিয়া পার্টনার হিসেবে কাজ করি। এছাড়া তাদের তুলে ধরার জন্য আলাদা কোন অনুষ্ঠান নাই কারণ আমরা তাদের আলাদা করে দেখি না। তবে দেশের যে কোন জায়গায় এই সব ছেলেমেয়েদের নিয়ে কিছু হলে আমরা সেগুলো আগ্রহের সাথে প্রচার করে থাকি।