আমার দেখা ‘স্কলিওসিস’

43

 

মোঃ জাহিদুল ইসলাম

 

বর্তমান সময়ে অসংখ্য মানুষ পিঠে ব্যথা বা কোমর ব্যথায় ভুগছেন। আর এটি শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ বিশেষত হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। মূলত দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা এবং সঠিক নিয়মে না বসলেই এটা বেশি হয়। আমরা অনেকেই এই ব্যথা নিয়ে দিন যাপন করি। খুব একটা গুরুত্ব দেই না। কিন্তু এ থেকে অনেক সময় স্কলিওসিস বা মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে যাওয়ার রোগ হতে পারে। বিশেষত শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে স্কলিওসিস হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।

 

স্কলিওসিস বা মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে যাওয়ার রোগ কতটা ভায়াবহ হতে পারে তার উদাহরণ আমি নিজেই। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে করতে একটা সময় আমার মেরুদন্ড – ইংরেজী অক্ষর “এস” এর মত বাঁকা হয়ে যায়। আমার লাম্বার অংশে ৮৫ ডিগ্রী বাঁকা এবং ডরসাল অংশে ৭৫ ডিগ্রী বাঁকা হয়। ফলে আমার প্রচন্ড ব্যথা ও শ্বাস কষ্ট হত। সিঙ্গাপুরে উন্নত থেরাপি চিকিৎসার মাধমে প্রায় ৩০ ডিগ্রী বাঁকা কমে আসে। কোন প্রকার ঝুঁকিহীন এই থেরাপি। কিন্তু সমস্যা হল এই চিকিৎসা অত্যন্ত  ব্যয়বহুল এবং একবার চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মেরুদন্ডের বাঁকা কমে আসে, পুরোপুরি নয়। এই চিকিৎসা করানোর পর যে কারণগুলোর জন্য মূলত বাঁকা হয়েছিল, যেমন – সোজা হয়ে না বসা, নিয়ম মত ব্যায়াম না করা ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। অনিয়মের কারণে আগের চাইতেও বেশি বাঁকা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ এই ট্রাকশন থেরাপির মাধ্যমে ভাইব্রেশন দিয়ে মেরুদন্ড স্বাভাবিকের চাইতে বেশি নমনীয় করা হয়। তাই সোজা হয়ে না বসলে বা নিয়ম মত ব্যায়াম না করলে তা আবার বাঁকা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানোর আগে আমি বাংলাদেশে অনেক ফিজিওথেরাপিস্ট ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো আমার জানামতে স্কলিওসিস বা মেরুদন্ড বাঁকা রোগের কোন চিকিৎসা নেই। সিঙ্গাপুরে মূলত স্কলিওসিস বা মেরুদন্ড বাঁকা রোগের চিকিৎসা করেন যারা “চিরুপ্রেক্টিক” বিশেষজ্ঞ। কিন্তু বাংলাদেশে “চিরুপ্রেক্টিক” চিকিৎসা আমার জানা মতে নেই। স্কলিওসিস চিকিৎসার জন্য মূলত চিরুপ্রেক্টিক এবং কিছু অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে মেরুদন্ড টেনে সোজা করা হয়। এই মেশিনগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আমার মেরুদন্ড এখনো ৫৫ ডিগ্রী বাঁকা রয়ে গেছে। তাই এখনও আমার বেশি সময় বসে থাকলে ব্যথা হয়। আমাকে প্রতিদিন নিয়মিত ২ বেলা বাসায় থেরাপি নিতে হয়।

 

মূলত মাংশপেশীগুলোকে সক্রিয়  রাখা খুব বেশি প্রয়োজন। কিন্তু আমরা যারা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারি তাদের শারীরিক পরিশ্রম অনেক কম। তাই পেশীর কাজও হয় খুব কম। তাই পেশী একটা সময় দুর্বল হয়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে মাংশপেশী শক্তিশালী রাখাটাই স্কলিওসিস বা মেরুদন্ড বাঁকা রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে।