টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, বাস্তবায়ন ঝূঁকিঃ বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

20

 

এডভোকেট রেজাউল করিম সিদ্দিকী

 

পৃথিবীকে বদলে দেবার অভিলাসে সম্প্রতি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ পনের বছর মেয়াদী টেকসই উন্নয়নের নতুন লক্ষ্যমাত্রা বা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) ঘোষনা করেছেন। সদ্য সমাপ্ত মিলেনিয়াম (মতান্বরে মিনিমাম!) ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি’র পরবর্তী প্রজন্ম খ্যাত নবাগত এসডিজি’র সতেরটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একশত উনসত্তরটি টার্গেটে পৌছুতে ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পৃথিবী মেতে থাকবে নানান লঙ্কাকান্ডে।

 

টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন কর্মকান্ডে এই জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্তকরনের প্রয়োজনীয়তা কিংবা তাদের ক্ষমতায়ন গুরুত্ব সম্পর্কে দেরিতে হলেও বিশ^নেতৃবৃন্দের বোধোদয় হয়েছে। এমডিজি ঘোষণার ছয় বছর পর ২০০৬ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ প্রকাশিত হয়। ফলে এমডিজিতে প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি ঠাঁই পায় নি। পৃথিবীর এক বিলিয়ন মানুষের বিশেষ চাহিদা ও তাদের অপার সম্ভাবনাকে মাথায় না রেখে উন্ন্য়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় পদে পদে হোঁচট খেয়েছে এমডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। ভুল থেকে শিখেছেন বিশ্বনেতৃবৃন্দ। উত্তরসূরি “এসডিজি” প্রণয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সমতা, প্রবেশগম্যতা ও এসডিজি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অন্তত: পাঁচটি গোলের অন্তর্গত সাতটি লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী মানুষের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এটুকুতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে অনেকে বলাবলি করছেন প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর শতভাগ সম্পৃক্তকরন নিশ্চিত করতে এবারও ব্যর্থ হয়েছেন বৈশি^ক উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টাগণ। সমালোচকগণ মনে করেন প্রতিটি গোল ও টার্গেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিতের বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন ছিল। প্রতিটি লক্ষ্য ও টার্গেট অর্জনে তাদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা সমেত একটি পৃথক গোল-ই নির্ধারণ করা যেতো।

 

এসডিজি’র ঠিক কতগুলো লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী মানুষ গুরুত্ব পেয়েছে তার জন্য আমি যতটা উদ্বিগ্ন তার চেয়ে বেশি অন্য কারণে। প্রাণী জগতের হোমো স্যাপিয়েন্স পর্বের সকল সদস্য আইনের দৃষ্টিতে সমান, তা সে সাদা বা কালো, প্রতিবন্ধী বা অ-প্রতিবন্ধী, উচ্চ বা নিম্নবিত্ত যাই হোক। আমাদের সংবিধানে ২৭ অনুচ্ছেদে সমতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্থান দেয়া হয়েছে। ইউডিএইচআর, আইসিসিপিআর, সিআরপিডি, সিডো সহ সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলে সমতা ও সম্মানজনক জীবনের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। বৈষম্য বিলোপ করে সমতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সমতা অর্জনের প্রতিবন্ধকতা দূর করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বাংলাদেশে সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সরকার বিশেষ আইন ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে মূলধারার জনগোষ্ঠীর সমকক্ষ করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও বস্তিবাসী সহ বিভিন্ন পশ্চদপদ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিভিন্ন বিশেষ আইন ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেও। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ কতটা কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে সে আলোচনায় পরে আসছি।

 

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যার প্রশ্নে সরকারের-ই দু’বিভাগের হিসেব দু’রকমের। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে প্রতিবন্ধী মানুষ মোট জনসংখ্যার আড়াই শতাংশের একটু ওপরে, অন্যদিকে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে নয় শতাংশের কাছাকাছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এই সংখ্যার ব্যাপারে পরষ্পর বিরোধী তথ্য দিচ্ছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার আড়াই থেকে ষোল শতাংশ পর্যন্ত দাবী করা হয়ে থাকে। যত দ্রুত সম্ভব সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের মাধ্যমে এ বিতর্কের অবসান ঘটানোর দাবী ছাড়া আমার অন্য বক্তব্য নেই। তবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হলেন তারা। মর্যাদাপূর্ণ জীবন মান এবং বৈষম্যের প্রকোপ বিবেচনায় সকল প্রতিবন্ধী মানুষই প্রান্তিকতার শিকার, বঞ্চনার শিকার। বিত্তবান পরিবারের প্রতিবন্ধী সদস্যটিও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একজন। আদিবাসী, দলিত, তৃতীয় লিঙ্গ, হরিজনসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিবন্ধী মানুষেরা রয়েছেন। আর তাই যদি এই জনগোষ্ঠীকে আড়াই শতাংশ হিসেবেও মেনে নেয়া হয়, তবুও এই বিপুল সংখ্যার ধারে কাছে নেই অন্য কোন প্রান্তিক গোষ্ঠী। তাই অধিকার বা উন্নয়নের যে কোন আলোচনায় তারা অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবী রাখে।

 

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই অগ্রাধিকার সাম্প্রতিক সময়ে কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে সে আলোচনার সুবিধার্থে চলুন একনজরে দেখে নিই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলো-

১.   সকল প্রকার দারিদ্র দূরীকরণ

২.   ক্ষুধা দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, পুষ্টি ও কৃষির উন্নয়ন

৩.   স্বাস্থ্যসম্মত জীবনমান নিশ্চিতকরণ এবং সকল বয়েসি সকল মানুষের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ

৪.   সকলের জন্য ন্যায্যতাভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষা ও জীবনব্যাপি শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ

৫.   সকল নারী ও বালিকার ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা অর্জন

৬.  সকলের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন এর টেকসই ব্যবস্থা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা

৭.   সকলের জন্য সহজলভ্য, সুবিধাজনক, নির্ভরযোগ্য, স্থিতিশীল ও আধুনিক জ¦ালানি বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা

৮.  স্থিতিশীল ও অন্তর্ভূক্তিমূলক/অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি তরান্বিতকরণ এবং পূর্ণকালীন ও উৎপাদনমূলক কর্মসংস্থান ও সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য ও ভাল কর্ম

৯.   দৃঢ় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, অন্তর্র্ভূক্তিমূলক ও স্থিতিশীল শিল্পায়ন করা এবং উদ্ধাবনকে উৎসাহিত করা

১০.  রাষ্ট্র সমূহের অভ্যন্তরীণ ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যকার বৈষম্য বিলোপ

১১.  মানব বসতি ও শহরগুলোকে অন্তর্ভূক্তিমূলক, দৃঢ়, নিরাপদ ও স্থিতিশীল করা

১২.  টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়া ও ভোগ-পদ্ধতি নিশ্চিত করা

১৩.  জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ

১৪.  টেকসই উন্নয়নের জন্য সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষন এবং এগুলোর টেকসই ব্যবহার

১৫.  স্থলভূমির বাস্তু-সংস্থানগুলোর সুরক্ষা, পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা ও উন্নীত করা, টেকসই বন ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ প্রশমন করা, ভূমি-ক্ষয়রোধ ও জীববৈচিত্রের ক্ষতি কমানো

১৬.  টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ গঠন, সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সর্বস্তরে কার্যকর, জবাবদিহিতামূলক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা

১৭.  টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন লক্ষ্য সমূহের বাস্তবায়নের উপায় সমূহকে মজবুত করাও বৈশি^ক অংশীদারিত্বের নবায়ন

পিপল, প্ল্যানেট, প্রসপ্যারেটি, পিস এবং পার্টনারশিপ – এই পাঁচ “পি” কে মাথায় রেখে সাজানো হযেছে এসডিজি’র ডালি। ভেবে দেখুন এই সতেরটি লক্ষ্যের কোনটি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য নিশ্চিত না হলেও চলবে? অন্যভাবে ভাবুন এই লক্ষ্যগুলোর কোনটি এক বিলিয়ন প্রতিবন্ধী মানুষের সহযোগিতা ছাড়াই অর্জন করা সম্ভব? নিশ্চয়ই এতমত হবেন সব লক্ষ্যই প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য এবং কোনটিই তাদের সম্পৃক্ততা ব্যতীত অর্জিত হবে না। এসডিজির স্পিরিটও তাই। একারণেই প্রতিটি লক্ষ্যে “সকলের জন্য” এবং “অন্তর্ভূক্তিমূলক-ইনক্লুসিভ” শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই “সকলের” মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের “অন্তর্ভূক্তি” সম্পর্কে সুষ্পষ্ট দিক-নির্দেশনা না থাকলে তারা “সকলের” পেছনে পড়ে থাকবে, হারিয়ে যাবে অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি। তাই সকল লক্ষ্য ও টার্গেটে তাদের অগ্রাধিকারের বিশেষ নির্দেশনা খুবই কাঙ্খিত ছিল।

 

বাংলাদেশে এসডিজি অর্জনে সম্পদ স্বল্পতা ও আর্থিক তহবিল গঠন নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। কখন মধ্য আয়ের সমৃদ্ধশালী দেশ হবে, রাষ্ট্রের আর্থিক সামর্থ বৃদ্ধি পাবে, কখন বৈদেশিক অর্থ সহায়তা আসবে, কত পরিমাণে আসবে-এসবের উপর ঝুলে যেতে পারে এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। এদেশের প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য এটি খুব দুশ্চিন্তার কারণ হবে না। বাংলাদেশি আইনি কাঠামো প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অনূকূলে থাকায় এসডিজি অর্জনে কাঙ্খিত পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রের উপর ঐচ্ছিক নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্যকরী। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩ এবং এগুলোর বিধিমালা সহ বিভিন্ন আইনি উদ্যোগ ইতোমধ্যে সরকার গ্রহণ করেছে। প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য স্বতন্ত্র অধিদফতর উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রত্যেক সচিবালয়ে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। চাকরিতে কোটা সংরক্ষিত আছে। শিক্ষায় বৃত্তি ও কোটা দু’টোই আছে। মাসিক ভাতার ব্যবস্থা আছে। প্রবেশগম্যতা ও রিজনেবল এ্যাকোমোডেসন সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কর্ম-পরিকল্পনা আইনের অংশ হিসেবে তফশিলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলোও নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার। এর ব্যতয় ঘটলে আদালতের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে এইসব অধিকার প্রতিপালনে বাধ্য করা যায়। সংবিধানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, যা আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করা যায় না। এই সব অধিকার রাষ্ট্রের সামর্থ্য থাকা সাপেক্ষ্যে পূরণীয় এবং রাষ্ট্র যথারীতি সম্পদ স্বল্পতার অজুহাতে এই অধিকারগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে থাকে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ আর্থ-সামাজিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তাও দিয়েছে। ট্রাস্ট আইনের সুবাদে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ নিজগৃহে বা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা-খাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা বা নূন্যতম জীবন মানের মত অধিকারগুলোও আইনি প্রক্রিয়ায় আদায় করে নেয়া সম্ভব।

 

আইন ও আইন-সৃষ্ট নানান সুযোগ-সুবিধায় এ মূহূর্তে ভাসছেন এদেশের প্রতিবন্ধী মানুষেরা। অন্যকোন প্রান্তিক বা সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে এত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে অবস্থার উন্নতি হয়নি এই জনগোষ্ঠীর, বরং উপচেপড়া সুবিধাদিতে ডুবে সলিল সমাধির উপক্রম হয়েছে তাদের!! সমুদ্রে ভাসমান জাহাজে সুপেয় পানি না থাকলে চারদিকের অথৈ জলরাশি দেখে নাবিকের খুশি হবার কারণ নেই। প্রতিবন্ধী মানুষেরা হাজারো সুযোগ-সুবিধার কিছুই ঠিকভাবে ভোগ করতে পারছেন না। কেন পারছেন না, সেদিকে মনোনিবেশ করাই শ্রেয়তর। আইন প্রয়োগের প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো অপসারণ করতে হবে। সরকারের নির্বাহী বিভাগের নেতিবাচক ভ্রান্ত মনোভাব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সুবিধা অর্জনে বাধা প্রদান করছে। ভিক্ষা না চেয়ে, কুকুর তাড়ানোর দাবীই এখন সময়োপযোগী। কিন্তু দাবীটি করতে পারছি না আমরা। আমার উদ্বেগ এখানেই।

 

এসডিজির ১৬ নম্বর গোল বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। এতে প্রতিবন্ধিতার কথা উল্লেখ না থাকলেও অনুকূল আইনি কাঠামোর কারণে এ লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধী মানুষেরা অগ্রাধিকার পাবে। প্রচলিত আইনগুলো যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায় তাহলে অন্যান্য গোলগুলোতে এমনিতেই তারা অগ্রাধিকার পাবে। আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সাপেক্ষে এসডিজি’র লক্ষ্যগুলোয় প্রতিবন্ধী মানুষের কথা উল্লেখ না থাকলেও তা অর্জিত হবে।

 

লেখক: সিনিয়র গবেষক,  বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)