মিরপুর সমাজসেবায় চলছে দেদারসে উৎকোচ

10

 

অপরাজেয় প্রতিবেদক 

 

উৎকোচের বিনিময়ে প্রতিবন্ধী মানুষের কাজ করে দেয়া হচ্ছে মিরপুর ১০ সমাজসেবা কার্যালয়ে। ৫০০, ১২০০, ১৫০০ টাকা করে উৎকোচ না দিলে হুমকি দেয়া হচ্ছে ভাতার বই বাতিল করে দেয়া হবে।

 

সমাজসেবা কার্যালয়ের দুই অফিস সহকারী লুতফুর রহমান ও নুর ইসলাম এই প্রতিবেদকের সামনেই ১৫ জন প্রতিবন্ধী মানুষের কাছ থেকে ৫০০, ১২০০, ১৫০০ টাকা করে উৎকোচের বিনিময়ে কাজ করে দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৫ ও ২৬ অক্টোবর, ২০১৫।

সরেজমিন তদন্তে জানা যায়, প্রতিবন্ধী মানুষদের সহযোগিতার নামে উৎকোচ নেয়া এবং হুমকি প্রদানের ঘটনা ঘটছে আরও আগে থেকেই। জরিপে অন্তর্ভুক্ত প্রতিবন্ধী মানুষেরা অনেকেই রশিদ নাম্বার হারিয়ে সমাজসেবার শরণাপন্ন হলে, তাদের প্রথমে ভাতার বইসহ কার্যালয়ে আসতে বলা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী মানুষের অভিযোগ, ভাতার বই নিয়ে আসার পর ক¤িপউটার থেকে তথ্য বের করে দেয়ার বিনিময়ে উৎকোচ নেন এই কর্মকর্তা। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে হুমকি দেয়া হয় ভাতার বই বাতিল করে দেবেন তিনি। ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার ফর দ্যা ব্লাইন্ড (বিটিসিবি) এর অনেকেই নাম না প্রকাশের শর্তে একই অভিযোগ করেন।

এই বিষয়ে এ প্রতিবেদক দুইজন অফিস সহকারীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান তারা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জানালেন এখানে দালালের মাধ্যমে জরিপ ও ভাতা বইয়ের কাজ হয়ে থাকে। দালাল হিসাবে একজন মহিলাও জড়িত। মিরপুর-১ এর দারুস সালাম এলাকার অধিবাসী ফারুক নামে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বললেন এম.পি এর মাধ্যমে এসেছি তাই আমার টাকা কম লেগেছে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সাজিয়া ও মজনু জরিপের রিসিট পুনঃ উদ্ধারের জন্যে ১০০০ টাকা দাবী করা হয়। তারা এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা তো গরীব মানুষ, এত টাকা কিভাবে দেব। শেষ পর্যন্ত ৩০০ টাকা দিতেই হয়।

 

মোঃ জাহাঙ্গীর সিকদার ও তার সহধর্মিনী খাদিজা আক্তার আঁখি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিরপুর চিড়িয়াখানার মুক্তিযুদ্ধপট্টিতে থাকেন। দুজনেরই শনাক্তকরণ জরিপের ¯ি¬প চুরি হয়ে গেছে। সমস্যা সমাধানের জন্য মিরপুর ১০ এর সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে পিওন নুর ইসলাম দুই জনের রশিদ পুনঃউদ্ধারে ১০০০ টাকা উৎকোচ দাবী করেন। এত টাকা কোথা থেকে কিভাবে দেবেন বললে উক্ত পিওন জানান, তাহলে বাসায় চলে যান।

পরবর্তীতে আরেকজন প্রতিবন্ধী মানুষের পরামর্শে মিরপুর ১০ কার্যালয়ের মাঠকর্মী আরিফুল ইসলাম এর কাছে রশিদ পুনঃ উদ্ধারের বিষয়ে জানালে তিনি থানায় জিডি করে পিওন নুর ইসলামের সাথে দেখা করার পরামর্শ দেন।

 

নুর ইসলাম বিষয়টি জেনে তাদের বলেন আপনারা দুজনেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ থানায় যাওয়া আসা সমস্যা, তাছাড়া যাতায়াত খরচাও হবে। আপনারা আমাকে ৮০০ টাকা দেন আমি রশিদ বের করে দেই। জাহাঙ্গীর অনেকের কাছেই শুনেছেন ৩০০ টাকায় কাজ হয়ে যায় তাই সেটাই দিলেন শেষমেষ। কিন্তু এই দম্পত্তি দুইজনের জন্য ৬০০ টাকা দিয়েও কাজ উদ্ধার করতে পারেন নি নুর ইসলাম এর কাছ থেকে। তাদেরকে কয়েকদিন ঘুরিয়ে রশিদ উদ্ধার করা সম্ভব নয় জানান তিনি। তারা টাকা ফেরত চাইলে নুর ইসলাম টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।