সরকারের সিআরপিডি প্রতিবেদন পাঠানোর অপেক্ষায় ব্লাস্ট

14

 

ব্লাস্ট জেলা পর্যায়ে প্রতিবন্ধী মানুষদের আইনি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি বিচারে প্রবেশগম্যতা নিয়ে কাজ করছে। এ নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদের ছায়া প্রতিবেদনেও তৈরি করেছে তারা। যদিও সরকারের প্রতিবেদন না পাঠানোর কারণে এই উদ্যোগ থেমে আছে। প্রতিবন্ধী মানুষদের অধিকার ভিত্তিক ব্লাস্টের নানা ধরনের কার্যক্রম নিয়ে কথা হয় নির্বাহী পরিচালক (সম্মান) ব্যারিস্টার সারা হোসেনের সাথে। সাক্ষাৎকার ও ছবি মুয়ায বিন জাকারিয়া

 

 

অপরাজেয়ঃ জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদের যে প্রতিবেদনটি রাষ্ট্রপক্ষের পাঠানোর কথা, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

সারা হোসেনঃ সরকারের প্রথম প্রতিবেদনটা ঠিকমত হয় নি, এখন আবার পর্যালোচনা চলছে বলেই জানি। আমাদের ছায়া প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিতে গিয়ে দেখি সরকার এখনও পাঠায় নি। যেহেতু সরকারের প্রতিবেদনের ওপর আমরা মন্তব্য করবো, সরকারের আগে তো আমরা পাঠাতে পারি না। আমাদের ইচ্ছে ছিলো সিআরপিডি এর আলোকে অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো আমরা তুলে ধরবো। এখন মূলত বিচারে প্রবেশগম্যতার বিষয়টি প্রাধান্য দেবার কথা ভাবছি। এনজিডিও ও এনসিডিডব্লিউ এই দুই সংগঠনের সাথে নিয়ে তৈরি করা এই ছায়া প্রতিবেদনটি এখন তৈরি। সরকারের প্রতিবেদনটির পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছি আমরা এখন।

 

অপরাজেয়ঃ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ তে ‘রিজেনেবল একোমডেশন’ সহ বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আইনে আরও যে সুপারিশগুলো রাখা হয় নি বা থাকা প্রয়োজন ছিলো সে স¤পর্কে আপনার মতামত কি?

সারা হোসেনঃ প্রথমত আইনে রিজেনেবল একোমডেশনের বিস্তারিত সংজ্ঞাটাই দেয়া হয়নি। ‘রিজনেবল একোমডেশন বা সঙ্গতিপূর্ণ বন্দোবস্ত’ মানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ছাড় দেয়া বা বিশেষ ধরণের ব্যবস্থা রাখা। আমরা চেয়েছিলাম এ শব্দগুলোর ভেঙ্গে ভেঙ্গে এমনভাবে ব্যাখ্যা যেন আইনের মধ্যেই থাকে যা সবার কাছে সুস্পষ্ট হয়। কিন্তু কমিটির সবার আইন সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট নয়। এমনকি বিচারক এবং আইনজীবিদেরও এ সম্পর্কে ধারণা নেই এবং কোন প্রকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই, বিশেষত বার কাউন্সিলে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও সরকারি পর্যায়ে কিংবা বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবিদের প্রশিক্ষণ হয় নি। সেক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী মানুষেরা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের কাছে এলে আমরা তখন আইনটা নিয়ে বসি।

 

এই আইনের দুটো দিক আছে, প্রথমটি হল প্রতিকারমূলক এবং দ্বিতীয়ত প্রতিরোধমূলক। আইনানুসারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে সকলকে সচেতন হতে বাধ্য করা। সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল আইনের বিভিন্ন দিকগুলো দেখা এবং আইনগুলোকে কার্যকরী করতে পদক্ষেপ নেয়া। শুধু প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার আইন নয় অন্যান্য আইনের ক্ষেত্রেও, যেমন- শিশু আইন ২০১৩ এর অধীনেও অনেক ইতিবাচক ধারণা দেয়া আছে যে প্রত্যেক থানায় শিশুদের জন্য আলাদা একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োপ্রাপ্ত থাকবেন।

ভালো উদ্যোগ সঠিক তথ্য ও সচেতনতার অভাবে অকেজো হয়ে আছে। আইন কার্যকরী করার জন্য একটা ধাক্কার দরকার হয়।

 

অপরাজেয়ঃ আপনার কি মনে হয় ‘লুনাসি আইন’- ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন’ এবং জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদকে লংঘন করছে?

সারা হোসেনঃ বছর কয়েক আগে ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ থেকে ‘লুনাসি- আইন’ টিকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করা হলেও এখনও এর নিষ্পত্তি হয় নি। ইতোমধ্যে ‘বাংলাদেশ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট’ থেকে নতুন আইনে মানসিক স্বাস্থ্য যোগ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে এর খসড়া দুই বছর আগে শেষ হলেও কেন আটকে আছে সেটাই প্রশ্ন। লুনাসি আইনের কিছু ধারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন এবং সিআরপিডিকে লংঘন করে। তবে এই ধারাগুলোকে নতুন করে সাজালে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো থাকবে না এবং আইন অনুযায়ী ২০০ দিনের বেশি কাউকে হাসপাতালে ঘরবন্দি করে রাখা যায় না। এই ধারাগুলোকে প্রয়োগ করেও আইনটিকে বাঁচিয়ে রাখা যায় অন্যথায় এটি বাতিলের তালিকায় চলে যাবে।

 

অপরাজেয়ঃ মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কেন সবচেয়ে বেশি অবহেলিত?

সারা হোসেনঃ আইন মন্ত্রণালয় ও মানবাধিকার কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব হল আন্তর্জাতিক আইনের সাথে দেশের আইনগুলোর সামঞ্জস্য রক্ষা করা। এ বছর ‘নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ’ এর পর্যালোচনা সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে। মানবাধিকার কমিশনের দেখা উচিৎ বাংলাদেশে সকলের সমান সুযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে কিনা। এ বিষয়গুলো দেখতে গেলেই লুনাসি- আইনের বিষয়টা প্রথমে দেখতে হয়। আসলে নতুন আইন হওয়ার সাথে সাথে এ আইনটি বাতিল হয়ে যাওয়া দরকার ছিল। অনেককে পাগল বলে আটকে রাখা হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। অথচ তাদের হয়ত বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধিতা রয়েছে যার জন্য চিকিৎসা কিংবা সহায়তার ব্যবস্থা করা উচিৎ। মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাথে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞগণ যারা কাজ করেছেন তাদের থেকেও সহযোগিতা আশা করা যায়।

 

অপরাজেয়ঃ সিআরপিডি সনদের আলোকে ‘অধিকার ও সুরক্ষা’ আইনসহ অন্যান্য আইনগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হচ্ছে?

সারা হোসেনঃ আমি মনে করি সেক্ষেত্রে খুব একটা অগ্রগতি এখন পর্যন্ত হয়নি। আইন বিষয়ক একটি হস্তলিপি প্রকাশ করেছে ব্লাস্ট। ম্যানুয়ালটির প্রত্যেক অধ্যায়ে ভূমির অধিকার, চলাফেরার অধিকার, শিক্ষার অধিকার ইত্যাদি প্রাসঙ্গিক আইন রয়েছে। এতে সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন কোনটি তাও জানা যাবে।

 

অপরাজেয়ঃ ২০০৮ সালে ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা’ হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় তারা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, এক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার কি?

সারা হোসেনঃ ইমারত নির্মাণ আইনটি আসলে পিতামাতাহীন অবস্থায় রয়েছে। এর বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ স্থাপনের প্রয়োজন থাকলেও তা হয় নি। এ বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলাও করা হয়েছিল। এ প্রেক্ষিতে ইমারত বিধিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু তবুও কিছুই হয়নি। পরবর্তীতে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর সবার টনক নড়ে। তখন হাইকোর্ট আবারও নির্দেশনা জারী করে এর সাথে সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হবে। সে সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবরা একত্রিত হয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রক্রিয়া শুরু করেন যা আজও চলছে এবং এরপর আরও আড়াই বছর সময় গড়িয়েও এটি গঠন হয়নি।

 

অপরাজেয়ঃ তার মানে কি প্রতিবন্ধী মানুষেরা সর্বত্রই অবহেলিত?

সারা হোসেনঃ খানিকটা অবহেলিত বটে। আবার এও বলা যায় সরকারের স্বদিচ্ছা আছে। নতুবা আইন তৈরি হত না। তবে, স্বদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি ইস্যু ভিত্তিক নিবিড় পর্যবেক্ষণ থাকতে হবে…

 

অপরাজেয়ঃ সেক্ষেত্রে সরকার প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ে একজন করে ফোকাল কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন যিনি ইস্যু ভিত্তিক প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কাজ করবেন, তারপরেও কেন এই অবস্থা বলে আপনি মনে করেন?

সারা হোসেনঃ এক্ষেত্রে আমি বলবো সরকারকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। অনেক কাজই হচ্ছে- সাবমেরিন কিনছে, ফ্লাইওভার তৈরি হচ্ছে ইত্যাদি নানা কার্যক্রমে ঢেলে সাজানো হচ্ছে দেশ অথচ প্রতিবন্ধী মানুষের মৌলিক চাহিদা গুরুত্ব পাচ্ছে না। এটা দুঃখজনক!

 

অপরাজেয়ঃ বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব প্রবেশগম্য কোন যানবাহন নেই। যোগাযোগ আইনে কিভাবে অগ্রগতি আনা যায় সে বিষয়ে আপনার কোন পরামর্শ আছে কি? 

সারা হোসেনঃ সরকারের স্বদিচ্ছা বা নীতিগত সমর্থন থাকা সত্ত্বেও মৌলিক অধিকারগুলো অনেক সময় অবহেলিত থেকে যায়। আমরা আবদারের মত বিষয়গুলোকে তুলে ধরি। সরকারের মনোভাবও এমন, অনেক কিছুই তো করে দেয়া হচ্ছে। তবে এভাবে অধিকার অর্জন সম্ভব নয়।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যানবাহন নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকা উচিৎ। এমনকি সড়ক দুর্ঘটনার ফলে সৃষ্ট প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা নেই। দুর্নীতিজনিত নানা কারণে তারা মাফ পেয়ে যাচ্ছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জীবনভর চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ছে, পরিবারের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে তৎক্ষনাৎ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশে এ প্রক্রিয়া চলে রীতিমত মন্থর গতিতে। সরকারের নতুন সড়ক পরিবহন খসড়া আইনের ওপর প্রায় চার বছর আগে থেকে কাজ চলছে যা এখনও বাস্তবায়ন হয় নি। গাড়ির চালক বিশেষত বাস চালকেরা দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে বেশ জোর প্রতিরোধ চালাচ্ছে। কারণ কঠোরভাবে ক্ষতিপূরণের আদেশ হলে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।

 

অপরাজেয়ঃ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উপোযোগী প্রবেশগম্য পরিবহন বিষয়ে আপনার মতামত কি?

সারা হোসেনঃ সত্যি বলতে কি প্রবেশগম্য পরিবহণ ব্যবস্থা বিষয়ে আমি আগে ভাবি নি। হয়তো আমার মত অনেকেরই অজানা বিষয়টি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনগুলো তাদের এ সংক্রান্ত সুপারিশগুলো বিভিন্ন মানবাধিকার আইন সংস্থার কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। তারা নিজেদের দাবী দাওয়ার মধ্যে সেগুলো নিয়ে এলে, সবার সম্মিলিত কন্ঠে এই দাবী জোরদার হবে।

 

অপরাজেয়ঃ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ নানান ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যে বৈষম্য এবং অবহেলার শিকার হচ্ছে, বিশেষত তৃণমূলের যারা তাদের প্রতিকার কি? ব্লাস্ট সম্পর্কে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কিভাবে কতটুকু জানতে পারছে ?

সারা হোসেনঃ ব্লাস্টের ওয়েবসাইটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নামক একটা বিভাগ আছে। প্রথমত আমাদের ওয়েবসাইটটির অধিকাংশ ইংরেজীতে। সেজন্য আমরা সবার কাছে পৌঁছাতে পারছি না। দ্বিতীয়ত জেলা পর্যায়ের আদালতের সাথে সম্পৃক্ত কার্যালয়গুলোতে আসতে পারলে আমাদের সম্পর্কে জানা সম্ভব। কিন্তু যারা আসতে পারছেন না তারা জানতেও পারছেন না। তবে আমার মনে হয় ত্রৈমাসিক ‘অপরাজেয়’ চমৎকার একটি উদ্যোগ। তৃণমূলের অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনের সাথে এর মাধ্যমে ভালো যোগাযোগ তৈরি করা সম্ভব। আমাদের সকলের মূল চেষ্টা হচ্ছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তাদের সংগঠনের কাছে যাওয়া। ব্লাস্ট ইউনিয়ন কিংবা থানাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে না, শুধু জেলা আদালত পর্যন্ত সীমিত এখনও। আমরা চেষ্টা করছি ডিপিওগুলোতে আমাদের নূন্যতম তথ্য পৌঁছে দিতে। এজন্য আমাদের হটলাইন নাম্বার দেয়া আছে। তাছাড়া জেলা প্রশাসনগুলো আইনগত সহায়তা বা এলাকাভিত্তিক সালিশের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। সেখানেও আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে সচেতন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে অল্প কয়েকজন হলেও নিজেদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে জেনে অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে বেশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিতে পারি আমরা। তারাই আইন বিষয়ে প্রাথমিক পরামর্শগুলো দিতে সক্ষম হলে, দেশব্যাপী অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ কার্যকরের জন্য একটি বড় কাজ হতে পারে।

 

অপরাজেয়ঃ প্রতিবন্ধী নারীরা যে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সেক্ষেত্রে তারা কতটুকু ন্যায় বিচার পাচ্ছে? ব্লাস্টের কাছে তারা কতটুকু পৌঁছুতে পারছে?

সারা হোসেনঃ এক্ষেত্রে আমি বলবো আমাদের দেশের নির্যাতিত নারীদের শতকরা দুভাগ প্রতিকার চান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবন্ধী বা অপ্রতিবন্ধী নারী কেউই আসছেন না প্রতিকারের জন্যে। সামাজিক প্রতিকূলতা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী দায়ী। যৌন নির্যাতনের শিকার নারীর বিয়ের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাওয়া, তাকে কলঙ্কিত করা, তার পরিবারকে ছোট করে দেখা এসব কারণে নারী নির্যাতনের শিকার অনেকেই ভব্যিষৎ নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে বিষয়টা প্রকাশই করতে চায় না। পারিবারিক প্রতিকূলতাও একটি কারণ। দ্বিতীয়ত প্রতিকার চাওয়ার জন্যে যাদের কাছে যাওয়া হয় তারাও অনেক সময় সহানুভূতিশীল হন না।

 

অপরাজেয় ব্লাস্টের থানা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যালয় গঠনের পরিকল্পনা আছে কি?

সারা হোসেনঃ সারা দেশে অনেকগুলো অফিস স্থাপন করা আর্থিক ব্যয়সাধ্য। আমাদের অধীনে প্রায় ২০০/২৫০ জন কাজ করছেন যাদের অধিকাংশ আইনজীবী। আরও ২৫০০ এর মত আইনজীবি দেশব্যাপী কাজ করছেন যারা সবাই স্বেচ্ছাসেবক। আমরা বরং ভাবছি ভ্রাম্যমান একটা ব্যবস্থা নিয়ে সবার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করব।

 

অপরাজেয়: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সারা হোসেন: অপরাজেয়কেও ধন্যবাদ।