সাংস্ক¡তিক দল বিনিময়ে উপেক্ষিত প্রতিবন্ধী মানুষ

18

 

অপরাজেয় প্রতিবেদক

 

ভারত সরকারের আমন্ত্রণে প্রতি বছর বাংলাদেশের একশ জন তরুণের প্রতিনিধি দল সফরে গেলেও সেখানে প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণ নেই। বেশ কিছু তরুণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, কর্মজীবিদের সাথে কথা বলে জানা যায় এই সফরে প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণের ব্যাপারে তারা আগ্রহী। ভবিষ্যতে এই সফরে প্রতিবন্ধী মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করতে ভারত সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি স্নাতকোত্তর শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আহসান হাবীব, সর্বত্র বঞ্চনা বৈষম্যর কারণে মূলধারায় অংশগ্রহণ থেকে ঝড়ে পরা রোধে কাজ করতে হবে। অবশ্যই ভারত সরকারের এই প্রতিনিধি দলে প্রতিবন্ধী মানুষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের উদ্যোগ নিতে হবে।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তরুণ এক সাংবাদিক ক্ষোভের সাথে অপরাজেয়কে বলেন, বাংলাদেশের এই প্রতিনিধিদলে থাকেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার তরুণ। তাহলে প্রশ্ন জাগে, প্রতিনিধিদলে প্রতিবন্ধী মানুষেরা কেন থাকবেন না! তাদের মধ্যে আছে প্রতিভা, আছে মেধা। দেশ গঠন ও দেশের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারাও সমান অংশীদার। তাদের বাদ দিয়ে, তাদের অবহেলা করে কেউ সামনে এগোতে পারে না, পারবেও না। তাদের বাদ দিয়ে কোনো কাজ পূর্ণতা পেতে পারে না।

উল্লেখ্য, ভারত সরকার ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশি তরুণদের এমন আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছে বলে জানা যায়। এই সফরে ভারতের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান বাংলাদেশের তরুণেরা। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বহুলকাঙ্খিত হলো ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ।

 

সফরকালে প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি, আগ্রা, জয়পুর, রাজস্থান, কলকাতাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যান। ঘুরে দেখেন রেড ফোর্ট, ইন্ডিয়া গেট, কুতুব মিনার, তাজমহলসহ ভারতের অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন। এছাড়াও থাকে মতবিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। ভারত সরকারের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সফর তরুণদের অভিজ্ঞতার ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করছে। দুই দেশের মধ্যে হচ্ছে সাংস্কৃতিক বিনিময়। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হচ্ছে। পাখা মেলছে দুই বিশ্বস্ত প্রতিবেশীর সমৃদ্ধির স্বপ্ন।