সিআরপিডি কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত প্রতিবন্ধী মানুষেরা

16

 

অপরাজেয় প্রতিবেদক

 

এই প্রথম বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলো জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদ (সিআরপিডি) এর জাতীয় পরিবীক্ষণ কমিটিতে। দুটি ডিপিও সংগঠন এবং একটি ডিপিও নেটওয়ার্কের তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সাথে সরকারি প্রকল্প এটুআই এর একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কর্মকর্তা অন্তর্ভূক্তির পর এই কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে নতুন বছরের শুরুতে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায় জাতিসংঘ সনদের ৩৩ নং ধারা অনুযায়ী এর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য গঠিত এই কমিটির ১৫তম সভা অনুষ্ঠিত হবে নতুন বছর ২০১৬ এর ১৩ জানুয়ারী।

 

ইতিপূর্বে কমিটিতে মন্ত্রণালয়গুলোর ফোকাল পয়েন্ট প্রতিনিধি এবং সচিবগণের পাশিপাশি প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থার নেতৃবৃন্দের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব ছিল না। জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে সোসাইটি ফর দ্যা সাইন ল্যাক্সগুয়েজ ইউজার্স (এসডিএসএল) এই কমিটিতে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্বের দাবী জানিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে গত দেড় বছর ধরে ডিপিও নেটওয়ার্ক প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ (পিএনএসপি) এসডিএসএল এর দাবীর সাথে একাÍতা প্রকাশ করে বিভিন্ন কর্মসূচী নেয়। এই প্রেক্ষিতে গত ১১ নভেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব তরিকুল ইসলাম সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে এক বৈঠকে এই দাবী মেনে নেন। পরবর্তীতে কমিটিতে শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মস্তিষ্ক পক্ষাঘাত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

 

এতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন এসডিএসএল এর সভাপতি ওসমান খালেদ, পিএনএসপি এর সাধারণ স¤পাদক সালমা মাহবুব, টার্নিং পয়েন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জীবন উইলিয়াম গোমেজ এবং ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ওয়েব এক্সেসিবিলিটি এটুআই প্রোগ্রাম কর্মকর্তা ভাস্কর ভট্টাচার্য।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে সিআরপিডি অনুস্বাক্ষর করার বিগত আট বছর পরেও এর বাস্তবায়নের আলোকে এ পযন্ত দুটি অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর কথা থাকলেও বাংলাদেশ একটি প্রতিবেদনও পাঠাতে সমর্থ হয় নি আমলাতান্ত্রিক নানা জটিলতা কারণে। অন্যদিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহের পর্যাপ্ত ভূমিকা বা তেমন উদ্যোগ না থাকাকেও এর জন্য দায়ী করছেন প্রতিবন্ধী মানুষেরা।

 

জানা যায় সিআরপিডি অনুস্বাক্ষর করার পর ২০১০ এ প্রথমবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছিল বলে গুঞ্জন উঠলেও, পরবর্তীতে সামান্য ভুলের কারণে জাতিসংঘ কর্তৃক সেটি গৃহীত হয় নি। এর প্রায় চার বছর পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রতিবেদন পাঠানোর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় ২০১৪ সালে। এই প্রক্রিয়া ধীর গতিতে চলছে আজ অবধি।