সৈয়দপুরে সরকারি ভাতা বঞ্চিত প্রতিবন্ধী মানুষেরা

20

সৈয়দপুর প্রতিনিধি

 

সৈয়দপুর উপজেলার জরিপে অনুযায়ী নারী ও পুরুষ মিলে ৩শ ২০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তারা কোন সরকারি ভাতা পাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। জীবনের সাথে যুদ্ধ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। নিয়ামতপুর চামড়া গুদাম এলাকায় মৃত সগির উদ্দিনের ৬ ছেলে মেয়ের মধ্যে ৩ ছেলে শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। পিতামাতা হারা ৩ ভাই সোহেল, এরশাদ ও পাপ্পু একটি স মিলে জীবন বাজী রেখে কাজ করছে। কিন্তু সরকারি ভাতা জোটে নি।

 

অন্যদিকে কামারপুকুর গুচ্ছ গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে ‘ইনসান পাগলা’ বলে পরিচিত। তিনি শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে। যাত্রীদের ইশারায় ডেকে বাসে ওঠান তিনি। সুপারভাইজারের কাছে ৫ টাকা করে পান। কামারপুকুর দলুয়া মুন্সিপাড়ার রশিদ ও তার স্ত্রী দুজনেই শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষ। পরিবারের চাহিদা মেটাতে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন রশিদ। কিছু দিন আগে তার রিক্সাটি চুরি হয়ে যায়। এখন তিনি হোটেলে মেচিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। তার ধারণা ছবি তুলে পত্রিকায় দিলে হয়তো তার রিক্সাটি পাওয়া যাবে। তার ভাগ্যেও জোটেনি সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতা।

শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী জনি সৈয়দপুর শহরেই তিনি ভিক্ষা করেন। মিঠুন কাজ করছেন কামারপুকুর আফজাল অটো রাইস মিলে। ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন ভাবনা নেই তার। সৈয়দপুর শহরে কয়া গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আব্দুল্লাহ আল মামুন জীবনের সাথে যুদ্ধ করে মাস্টার্স পাশ করার পরেও বিভিন্ন দফতরে পরীক্ষার পরেও তার চাকরি হয় নি। কোটা অনুসরণ করা হয় নি তার ক্ষেত্রে। এ ব্যাপারে মামুন বলেন, আমি রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেছি। চাকরির জন্য হন্য হয়ে দৌড়াদৌড়ি করেছি। কিন্তু কোটা মানা হয় না।

 

তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হাফেজ মতিউর রহমান। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। খাতামধুপুর হাজারীহাটে একটি জমিরিয়া সুলতানুল উলুম মাদ্রাসায় বোর্ডিং করেছেন। ইচ্ছে ছিল এলাকার অসহায় দরিদ্র ছেলেমেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা দেবার। এই আশা বর্তমানে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এই মাদ্রাসায় বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩শ’র বেশি। তার উদ্যোগে এই মসজিদের পাশেই নির্মিত হচ্ছে আরেকটি তিন তলা বিশিষ্ট মসজিদ। হাফেজ মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার জীবনের যা চাওয়া পাওয়া ছিল তা আজ পুরণ হয়েছে। আমি এলাকার ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা দিতে পেরেছি। এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। মাদ্রাসার উন্নয়ন ও রক্ষার জন্য সবার সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছি।

 

সৈয়দপুর শহরের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ‘দিশারী স্ব-ল্যাম্ব দল’ নামে একটি সংগঠন আছে। যেটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয় না অভিযোগ এলাকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের। তারা বলেন, ‘এ রকম সংগঠন থাকার চেয়ে না থাকাই ভাল। সংগঠনের নাম করে অনেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে এমন ঘটনাও রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্ম ও পুর্নবাসনে সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।’