স্কুলে যেতে চাই

সুমনা হক

– ক্লাস-বন্ধু-আড্ডাবাজি! কলেজ লাইফ শুনেছি অন্য এক মজার। কিন্তু একটা ক্লাসেও যেতে পারি নি।

– যাও নি কেনো?!

– ক্লাসে ঢোকার অনুমতি পায় নি আমার বাহন হুইলচেয়ারটা!

– কেনো! কেনো?!

– শুধুমাত্র একজনের জন্য নিচতলায় ক্লাস শিফট করার নিয়ম আমাদের দেশে নেই।

– জানো না বুঝি, অনিয়মই এদেশে নিয়ম!

– হু … কিন্তু সরকারি কলেজে আমাদের জন্য নিয়মই নিয়ম!! শিক্ষা পেলাম কি পেলাম না সেটা বড় কিছু নয়।

 

পুনশ্চঃ আমার মেয়ে এমন আফসোস করে জীবনের বাকি সময় কাটিয়ে দিক কিছুতেই চাই না। তাই ইচ্ছে সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে সরকারি কলেজে ভর্তি করানো সম্ভব হয় নি একতলায় ক্লাস ও হুইলচেয়ার প্রবেশগম্য টয়লেট সুবিধা না পাবার কারণে। অনেক অনুরোধের পরেও কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র একজন ছাত্রীর সুবিধার্থে নিচতলায় ক্লাস নামিয়ে আনতে রাজী হন নি। বেসরকারি কলেজে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে ভর্তি করিয়ে এলাম। সরকারি-বেসরকারি বা খ্যাত-বিখ্যাত আসলে কিছুই না। পড়াশোনাটা নিজের কাছে… কিন্তু আমি ভাবছি, বাজেটে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত হাজার হাজার কোটি টাকার মাঝে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট তেমন কিছু নেই বললেই চলে। আর দারিদ্র সীমার নিচে বাস করা এদেশের অধিকাংশ প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা সহায়ক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র তথা সমাজ কি উদ্যোগ নিচ্ছে?