ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন আংশিক প্রবেশগম্য

 

সগীর হোসেন খান

 

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার জন্য কমবেশি সব শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে।

আর নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদেরও আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকে এখানে অধ্যয়নের। কিন্তু দেশের অন্যান্য স্থাপনার মতোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের জন্য উপযুক্ত নয়। হুইলচেয়ার নিয়ে ভবনে প্রবেশের উপযুক্ত কাঠামো নেই।

 

বর্তমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব সরকার প্রবেশগম্য দেশ গড়তে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ তারই প্রতিফলন। এই আইনে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ‘প্রবেশগম্য স্থাপনা’ এবং ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপযোগী’ করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পরে হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অবকাঠামোগত প্রবেশগম্যতার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে বলে মনে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার ফলেই কলাভবনের মূল প্রবেশদ্বারে হুইলচেয়ার নিয়ে ওঠার জন্য চমৎকার র‌্যাম্প প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

র‌্যাম্প প্রস্তুতের সময় মান বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট যত্নবান ছিল কর্তৃপক্ষ। এই প্রতিবেদন করার আগে আমি হুইলচেয়ার নিয়ে এতে ওঠানামা করে দেখেছি। খুব সহজে একাই হুইলচেয়ার নিয়ে ওঠা ও নামা যায়। আমি মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিবন্ধী মানুষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।

তবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সরেজমিনে দেখা গেল, সেখানে র‌্যাম্পের সামনে গাড়ি রাখা হয়েছে। ফলে প্রবেশগম্য হয়েও ভবনটি আমাদের জন্য বাধার সম্মুখীন। র‌্যাম্পটি প্রস্তুতের সময় কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট যত্নবান ছিল না। র‌্যাম্পটি মূলত রাস্তা থেকে কিছুটা ওপরে, যা এই প্রতিবেদকের হুইলচেয়ার নিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। কোনো হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তি নিজে নিজে উঠতে চাইলে এই ‘উঁচু’ অংশটি বেশ বাধা সৃষ্টি করবে।

 

 

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে র‌্যাম্পের সামনে গাড়ি  ছবি – মুয়ায বিন জাকারিয়া

আশা করব কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে, যেন বাধাটি সহজেই অতিক্রম করা যায়। তা ছাড়া মূল প্রবেশদ্বারের সামনে একটি দিকনির্দেশনা দেয়ারও প্রয়োজন রয়েছে। যেমন ‘হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য পথ ওই দিকে’। র‌্যাম্পটি মূল প্রবেশদ্বারে না দিয়ে অন্য পাশে হওয়ায় সহজে তা চোখে নাও পড়তে পারে।

আশা করছি ধীরে ধীরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল ব্যবহৃত ভবনগুলোও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্যও প্রবেশগম্য করা হবে, যেন তাদের উচ্চশিক্ষায় আর কোনো বাধা না থাকে।