বাস্কেটবল ম্যাচের অপেক্ষায় মেয়েদের দল

9

কামরুনাহার শম্পা, যশোর থেকে

 

নানা বাধা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজ অপ্রতিবন্ধী মানুষের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষেরাও খেলাধুলা করছে; ক্রিকেট, বাস্কেটবল, টেবিল টেনিস, হুইলচেয়ার দৌড়, গোলক নিক্ষেপ এ রকম আরও অনেক ধরনের খেলাতেই পারদর্শী প্রতিবন্ধী মানুষেরা। প্রতিবন্ধী ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও অংশ নিচ্ছে খেলাধুলায়।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) তে মহিলা হুইলচেয়ার বাস্কেটবল দল উদ্বোধন করা হয়। আইসিআরসির সাহায্যে বাংলাদেশে এই প্রথম মহিলা হুইলচেয়ার বাস্কেটবল দল গঠিত হয়। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শম্পা, সোনিয়া, মারজানা, মলিনাসহ আরও ১৬ জন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মেয়েকে এক মাসের এই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

আমি ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা খুব ভালোবাসি। টিভিতে যখন মেয়েদের ক্রিকেট খেলা দেখতাম, তখন ভাবতাম, যদি আমিও খেলতে পারতাম। আমি যশোরের প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করি। গ্রামের মেয়ে বলে কখনো বল ধরতে পারিনি। প্রতিবন্ধিতার সম্মুখীন হবার পরে খেলাধুলা যেন দুঃস্বপ্নই হয়ে ছিল, যা আজ সুখের স্বপ্নে রূপান্তরিত হয়েছে। ক্রিকেট খেলতে পারিনি তাতে কি, বাস্কেটবল বল তো খেলেছি। আমার খুব ভালো লাগছে। কারণ, খেলতে এসে মানসিক যাতনা, পুরোনো কথা সব ভুলে গেছি। মনেই পড়েনি আমার যন্ত্রণাময় অতীতের কথা, বা ভবিষ্যতের চিন্তা মাথা খুঁড়ে খায়নি। দিনরাত শুধু খেলা নিয়ে ভেবেছি।

কারণ, সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, সবাই মিলে একসঙ্গে ব্যায়াম করা, সময়মতো নাশতা করা এবং মাঠে খেলাসবকিছু নিয়মমাফিক হওয়ায় শরীর ভালো ছিল।

 

খেলতে আসা আমরা সবাই একটি পরিবারের মতো ছিলাম। অন্যদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তাদেরও একই অবস্থা। ব্যস্ত থাকার কারণে বাড়ির কথা মনে পড়েনি কারোরই। মিতু, মারজানা সবাই স্বপ্ন দেখছি আমরা সুযোগ পেলেই বিদেশে নিজের প্রতিভার ছাপ রেখে আসার। দীর্ঘ এক মাসের প্রশিক্ষণ শেষে আমরা বাড়িতে ফিরেছি। তবে ভবিষ্যতে ম্যাচ খেলার প্রতীক্ষায় কাটছে আমাদের দিন। জানি না, আর কখনো আমাদের খেলানো হবে কি না! আশঙ্কা হচ্ছে, দেরি হলে খেলার সঠিক পদ্ধতি ভুলে যাব। সব সময় অনুশীলন না করলে তো আসলেই সবকিছু ভুলে যাব!

 

সরকারও যদি আমাদের পাশে এসে দাঁড়াত, তাহলে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে খেলার সুযোগ পেতাম নিশ্চয়ই। প্রতিবন্ধী নারী হয়েও আমরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাইছি। আমরা ষোলোজন মেয়ে চাইছি আমাদের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যেতে।