প্রতিবন্ধী মানুষের সরকারি চাকরি প্রাপ্তির অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস

23

সোহরাব হোসেন মাতবর

 

আমরা যখন খাওয়ার টেবিলে বসে খাই, তখন হয়তো ক্ষুধার্ত অবস্থায় সেভাবে চিন্তা করি না। এই সামান্য সময়ে উদরে চলে যাবে যে খাওয়া, তা তৈরি করতে কত সময় ব্যয় হয়েছে। রান্না করা তো এক মুহূর্তের কাজ নয়। বাজার করতে যেতে হয়। শাকসবজি, সঙ্গে মাছ-মাংস ক্রয় করতে হয়। তেল, পেঁয়াজ, নুন, মসলাও ক্রয় করতে হয়। কাটা-বাছা-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পর পরিমাণমতো মসলা, নুন ইত্যাদি বুঝেশুনে দিয়ে রান্না করতে হয়। যেনতেন প্রক্রিয়ায় রান্না কখনোই খেতে স্বাদ হয় না। ঠিক তেমনিভাবেই সরকারের কাছ থেকে বৈষম্যপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকার বাস্তবায়ন করে তাদের সমাজে সমমর্যাদা দেওয়া এত সহজ কাজ নয়।

 

আমি যে সময়কার কথা বলছি, তখন এখনকার মতো ছিল না এত এত সংগঠন। প্রতিবন্ধী মানুষেরাও এতটা সংগঠিত ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা পড়তাম হাতে গোনা কয়েকজন প্রতিবন্ধী মানুষ। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র কয়েকজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী- শহিদুল হক ভাই, আমি সোহরাব হোসেন মাতবর, এম খলিলুর রহমান, সাইফুল ইসলাম শাহীন, আব্দুল লতিফ বাদল, সাইদুল হক চুন্নু অনুভব করছিলাম ঢাবিতে আমাদের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠুভাবে পড়ালেখা করার পরিবেশ তৈরি করা দরকার। তা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনুভব করলাম শিক্ষাজীবন সমাপ্ত হলে কী হবে, সমাজে আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে সমাজের মাথা ব্যথাই নেই।

 

আমাদের কোনো সংগঠন ছিল না। ১৯৮৮ সালের শেষ দিকে দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী অধিকার আদায় পরিষদ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম আমরা তৈরি করেছিলাম মূলত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নানা দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে। এর আগে দৃষ্টিহীন ছাত্র কল্যাণ সমিতি নামে আমরা বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করি।

তবে চাকরি ও অন্যান্য অধিকার বাস্তবায়নের তাগিদে জাতীয় পর্যায়ে বড় পরিসরে আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়ার শুরুতেই দেখা দিল পর্যাপ্ত অর্থের অভাব। সবাই ছাত্র হওয়ায় আন্দোলন কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ কীভাবে জোগাড় হবে, এটাই বড় বাধা আমাদের। প্রস্তাব এলো চাঁদা তুলে অর্থ সংগ্রহ করে আন্দোলন পরিচালনা করার জন্য। কেউ কেউ সে সময় চাঁদা তুলতে লজ্জাবোধ করছিলেন। কিন্তু নেমেছি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার অর্জনের আন্দোলনে। লজ্জা নিয়ে তো আর আন্দোলন চলে না। অর্থ জোগাড় তো করতেই হবে। এই তাগিদে নিজ খরচে কুপন ছাপিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে গিয়ে চাঁদা তুলে সংগ্রহ করি। যৎসামান্য যা অর্থ সংগ্রহ হয়, তাতেই চলে ব্যানার ফেস্টুনসহ আন্দোলনের নানাবিধ কার্যক্রম। এরপর ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ আরও কিছু শহরে র‌্যালি ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজের প্রতিবন্ধী ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করি আমরা। একেকটি শহরের জেলায় প্রেসক্লাবের সামনে র‌্যালি ও সমাবেশ করে অন্যান্য প্রতিবন্ধী মানুষকে উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা করেছি। সাংবাদিকদের অনুরোধ করতে হতো পত্রিকাগুলোতে এই সংবাদ প্রকাশের জন্য; যেন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যায় আমাদের দাবিগুলো।

 

মাস সাতেক এই ধারায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পর একপর্যায়ে সেপ্টেম্বরের দিকে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিলাম। ঠিক হলো রাজধানীতে র‌্যালি করে সরকারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হবে। তারিখটা ঠিক স্মরণে আসছে না। প্রথম দিকে সবাইকে সংগঠিত করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরশাদ সরকারের আমল বলে রাজপথে নামতে সবারই মনে ভয়। ধীরে ধীরে সাড়া পাওয়া গেল। এক হাজার মানুষের সমাবেশ হয়েছিল সেদিন। কিন্তু বাংলামোটর পর্যন্ত এসে পুলিশের বাধার মুখে পড়লাম। এত মানুষকে একত্রে যেতে দেওয়া হবে না। সবাইকে অপেক্ষমাণ রেখে পাঁচজন গেলাম রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে। জানা গেল, রাষ্ট্রপতি এরশাদ বিদেশি ডেলিগেটদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত। সিদ্ধান্ত নিলাম, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা না করে যাব না। রাষ্ট্রপতিকে একসময় বের হতেই হবে, এই ভেবে লনে গিয়ে বসে পড়লাম। এদিকে নানা দিক থেকে নির্দেশনা আসতে লাগল আমাদের বের করে দিতে। পুলিশ এলো। সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সচিব। তিনি বললেন স্মারকলিপি জমা দিয়ে যেতে। আমরা পাঁচজনেই একসঙ্গে প্রতিবাদ জানালাম। বললাম, আমরা প্রতিবন্ধী মানুষেরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাতে এসেছি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা না করে আমরা কোনোভাবেই যাব না।

 

এ সময় সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা সেদিন দুরুদুরু বুকে অমন নাছোড়বান্দার মতো আচরণ করেছিলাম। কারণ, জানতাম, এত দূর এসে দেখা না করে ফিরে যাওয়ার অর্থ আমাদের এত দিনকার প্রচেষ্টা বৃথা যাওয়া। যদিও এত চেষ্টা বিফল হয়েছিল সেদিন। অনেক চেষ্টা করেও আমাদের সরানো সম্ভব না হওয়ায় পুলিশ একপর্যায়ে আমাদের হাত-পা ধরে চ্যাংদোলা করে ভেতরের একটি এসি কক্ষে নিয়ে বসিয়ে দিলেন। প্রখর রোদের তপ্ত গরম থেকে এসির শীতল বাতাসে প্রতিবন্ধী মানুষদের ঠান্ডা করার চেষ্টা। কক্ষের দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দেওয়া হলো। অনেকটা সময় পরে যখন দরজা খোলা হলো, তখন রাষ্ট্রপতি বেরিয়ে গেছেন। বুঝলাম, ফাঁকি দেওয়া হয়েছে আমাদের। স্মারকলিপিটি রাষ্ট্রপতির হাতে সরাসরি দেওয়ার ইচ্ছে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় ভেবে সেটি ফেরত নিয়ে বেরিয়ে এলাম।

 

এদিকে দীর্ঘক্ষণ ধরে বাংলামোটরে অপেক্ষামান সবাই। ফিরে এসে আমরা জানালাম, সরকার প্রতিবন্ধী মানুষের সঙ্গে হঠকারিতা করেছে। আলোচনা শেষে সেদিনই সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারকে এক মাসের আলটিমেটাম দেওয়ার মাধ্যমে ঘোষণা করা হলো কঠোর কর্মসূচির। সরকার এক মাসের মধ্যে প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার পূরণের দাবি মেনে না নিলে আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাব এমনটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।

ইতোমধ্যে মাসজুড়ে ছোট ছোট কর্মসূচি এবং নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কার্যালয়ে গিয়ে জানানো হলো বিষয়টা। ডাকসু, বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ আরও বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা সমর্থন দিলেন।

 

সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ২৯ অক্টোবর ১৯ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ অর্থাৎ আমরা বিশজন জাতীয় প্রেসক্লাবে আমরণ অনশন শুরু করলাম। অন্য আরও অনেক শিক্ষার্থী যারা তখনও প্রাথমিক বা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন, তারা আমাদের সাথে থাকতো তবে আমরণ অনশনে তাদের অংশগ্রহণ  প্রথম দিনেই পুলিশের বাধা। তাদের বক্তব্য, আমরা অনুমতি ছাড়া এভাবে বসতে পারি না। আমাদের পাল্টা জবাব, আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক। অনুমতির দরকার নেই আমাদের।

 

সমস্যার যেন শেষ নেই। আমাদের সঙ্গে কোনো সংগঠন নেই, মানুষ নেই। আমাদের দাবিদাওয়াগুলো নিয়ে টানা মাইক চালিয়ে যাওয়ার কেউ নেই। মাত্র বিশজন আমরা, আমরাই মাইক সরগরম রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। দ্বিতীয় দিনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া এলেন। তৃতীয় দিনে এলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এলেন আরও অনেকে। সবাই অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সমাজসেবার ডিজি নিজেরাই অনশন ভাঙাতে চাইলেন। আমরা কারও কথাই মানলাম না। আমাদের একটাই বক্তব্য ছিল সরকারের দায়িত্বশীল কেউ এসে যদি বলে, আমাদের দাবি বাস্তবায়িত হবে, তাহলে মানা যায়। আমাদের মধ্যে দু-একজনকে অতিরিক্ত দুর্বলতার কারণে হাসপাতালে নেওয়া হলো। গলায় জোর কমে আসছে, তবু আমরা অল্প কয়েকজনই চিৎকার চালিয়ে যাচ্ছি। দুর্বল শরীরে নিজ দাবিতে অবিচল থাকা বেশ দুরূহ। এই দুরূহ কাজটাই করতে হচ্ছিল আমাদের।

 

৩১ অক্টোবর তৃতীয় দিন রাত ৮টার পর স¦রাষ্ট্রমন্ত্রী এলেন। তিনি আশ্বাস দিলেন দাবি মেটানোর। আমরা বললাম, আপনি একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন মাত্র, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে কী হবে। তখন আশ্বাস পাওয়া গেল, আমরা সরকারের সঙ্গে বসতে পারব। তিন বা চার দিনের মধ্যেই সরকারের সঙ্গে বসার আশ্বাস নিয়ে অনশন ভাঙলাম আমরা। সে রাতে আমাকে ছাড়া অন্য সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো।

নভেম্বরের ৪/৫ তারিখের দিকে আমরা ডাক পেলাম সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। প্রতিবন্ধী মানুষের তত্ত্বাবধানে যেহেতু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, তাই সেখানেই মন্ত্রী, সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে বসলাম। তৎকালীন সমাজসেবার মহাপরিচালক ওমর ফারুক প্রথমেই আমাদের দিকে আক্রমণাত্মক বক্তব্য ছুড়ে দিলেন। এই, তোমরা সমাজসেবা বিদ্যালয়গুলোর ছাত্র ছিলে না? আমাদের এখান থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছ না? আমাদের কাছে আগে না এসেই আন্দোলনে নেমেছ কেন? ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে চাও? এসব অনশন-টনশন করে হইচই ফেলার আগে তোমরা আমার কাছে আসোনি কেন?

 

তিনি বলেই চলেছেন, ১০% কোটা মানে বোঝো? নারীরাও এত কোটা পায় নাই।

আমাদের পাল্টা প্রশ্ন ছিল, নারী কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, আদিবাসী কোটা সবার আছে অথচ প্রতিবন্ধী মানুষের নেই। তার মানে কি রাষ্ট্রের কোনো দায় নেই প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি?

 

উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হতে লাগল। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব তখন সমাজসেবার মহাপরিচালককে দেখিয়ে বললেন, তোমরা কেন তার সঙ্গে এভাবে কথা বলছ, তিনি কে জানো তোমরা? আমরা বললাম, জি স্যার, জানি। খানিকক্ষণ আগে তিনি নিজেকে আমাদের অভিভাবক দাবি করে বলছিলেন, আমরা রাস্তায় আন্দোলনে নামার আগে কেন স্যারের কাছে এসে আমাদের দাবি জানাইনি। স্যার, আমরা না হয় ছাত্র মানুষ, আমরা ভুল করেছি। কিন্তু তিনি অনেক জ্ঞানী মানুষ হয়েও সাধারণ মানুষের কোটা পূরণ করে আমাদের বঞ্চিত করতে চাইছেন কেন?

 

সচিব তখন বেশ রেগে উঠে বললেন, তোমাদের কোটা দিলে সাধারণ মানুষ বা নারীরা কেউ চাকরি পাবে না। তখন সাধারণ মানুষ আন্দোলনে গেলে তোমরা কি থামাতে আসবে?

আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য, আপনারা তবে প্রতিবন্ধী মানুষদের আন্দোলন থামিয়ে আশ্বাস দিলেন কেন? আমাদের অনশন ভাঙা হলো কেন? এরশাদ সরকার দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দাবি পূরণের নাম করে ডেকে এনেছেন?

 

কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আমরা বললাম, এসব তামাশার মধ্যে আমরা নেই। প্রয়োজনে আমরা আবার আন্দোলনে যাব এই বলে আমরা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম।

এবার মন্ত্রী মহোদয় বলে উঠলেন, রাগ করেন কেন আপনারা? বসেন সবাই। একটু ভাবেন, ১০ শতাংশ কোটা চাওয়া কি বাস্তবসম্মত হয়? আমরা বললাম, আমরা এটা চাইতেই পারি কিন্তু আপনারা প্রতিবন্ধী মানুষদের একেবারেই না দিয়ে বঞ্চিত করবেনÑ এটা আমাদের সঙ্গে অন্যায়।

 

সেদিনকার বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হলো না। আমরা চলে এলাম। দ্বিতীয় বৈঠকে আমাদের সঙ্গে অন্ধ সংস্থার সচিব আবদুল হালিম সাহেবকে নিয়ে গেলাম। কারণ, আমরা মাথা গরম করে ফেলি, তিনি বেশ ঠান্ডা মাথার মানুষ। এই বৈঠকে আলোচনার একপর্যায়ে আমরা বললাম, অন্তত আমাদের শিক্ষা ও চাকরির অধিকার নিশ্চিত করা হোক। বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হোক। আমাদের ১৬ দফা দাবির মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান যা আজকের ফাউন্ডেশন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চাকরির ক্ষেত্রে ১০% কোটা ইত্যাদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

দীর্ঘ সময় বাগ্বিতন্ডার পর অবশেষে আমরা পেলাম সরকারি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কোটা। তবে প্রজ্ঞাপন জারির পর আমরা দেখলাম, ৫ শতাংশ এতিমদের দিয়ে বাকি ৫ শতাংশ আমাদের প্রতিবন্ধী মানুষদের দেওয়া হয়েছে। তবু দীর্ঘ এক বছরের লাগাতার প্রচেষ্টা অবশেষে খানিকটা সফলতার মুখ দেখল। এই আমাদের প্রাপ্তি।

 

যদিও এসব করতে গিয়ে আমরা যারা আন্দোলনের মূল কার্যক্রমের সঙ্গে ছিলাম, তারা অনার্স পরীক্ষায় কিছুটা খারাপ করলাম। বিশেষত আমি ও শহীদ ভাই দিনরাত এসব কার্যক্রম নিয়ে পড়ে থাকার কারণে দুজনের ইনকোর্স পরীক্ষাগুলো দেওয়া হয়নি। নিয়মিত পড়ালেখাও ঠিকভাবে চালিয়ে যেতে পারিনি। তবে চাকরি জুটেছে আমাদের এবং আরও অনেকের।