প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কঠোর আন্দোলনে সরকারি চাকরিতে ১০% কোটা

67

অপরাজেয় প্রতিবেদক

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর একটি ছোট্ট দল লাগাতার কঠোর আন্দোলনে করেছিল আজ থেকে প্রায় ২৬ বছর আগে। ১৯৮৯ সালে মাত্র বিশজন প্রতিবন্ধী মানুষের লাগাতার সেই আন্দোলনের সফলতায় তৎকালীন সরকার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ১০% কোটা দিতে বাধ্য হয়।

 

প্রতিবন্ধী মানুষের মর্যাদা ও অধিকার বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পেতে প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদের (পিএনএসপি) উদ্যোগে গত ২৬ আগস্ট ২০১৬ ‘প্রতিবন্ধী মানুষের সরকারি চাকরি প্রাপ্তির অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস’ শীর্ষক পাঠচক্রের আয়োজন করা হয় পিএনএসপির সম্মেলনকক্ষে। এই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং সেই সময়ের ছাত্রনেতা সোহরাব হোসেন মাতবর এই প্রজন্মের প্রতিবন্ধী মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে তার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি নানাবিধ বাধার সম্মুখীন হয়েও দৃপ্ত পদক্ষেপে তাদের এগিয়ে যাওয়া এবং আন্দোলন-পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

 

মিরপুর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জাতীয় পর্যায়ে আন্দোলন শুরু করেন তারা ১৬ দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। তার মধ্যে অন্যতম দাবিগুলো হলো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধিদফতর, প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা ও অন্যান্য অধিকার সুরক্ষায় ট্রাস্ট গঠন, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া, এবং সরকারি চাকরিতে ১০% কোটাব্যবস্থা চালু করা, জাতীয় সংসদে আসন সংরক্ষণ, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, টেক্সটাইল মিলসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় চাকরির সুযোগ ইত্যাদি।

বছরজুড়ে এই আন্দোলন চালিয়েছেন তারা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় র‌্যালি, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি প্রদানের চেষ্টা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী মানুষেরাই সমাজকে জানান দিয়ে যাচ্ছিলেন তাদের অস্তিত্ব তথা অধিকারের বিষয়ে। সরকার তাদের দাবি মেনে না নিলে একপর্যায়ে আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শুরু হয় আমরণ অনশন। নানা বাধার মুখেও চালিয়ে যান অনশন কর্মসূচি। তাদের এই অনড় অবস্থানের কারণে তৎকালীন সরকার বাধ্য হয়েছিল দেশের প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ কোটাপদ্ধতি চালু করতে।

 

সোহরাব হোসেন ছাড়াও এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিরা হলেন টঙ্গী সমাজসেবার ব্রেইল প্রেসের কর্মকর্তা প্রয়াত শহিদুল হক, ভিউ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম খান শাহীন, জাতীয় অন্ধ সংস্থার মহাসচিব প্রয়াত এম খলিলুর রহমান, রাজশাহী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল লতিফ বাদল, বার্ডোর নির্বাহী পরিচালক সাইদুল হক চুন্নু, এনএসবিপির চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সাবেক সহসভাপতি হারুন রশিদ খান, লালমনিরহাট সমন্বিত বিদ্যালয়ের রিসোর্স শিক্ষক (বর্তমানে সমাজসেবা মেডিকেল কর্মকর্তা) এরশাদ, আজাহার, কিশোরগঞ্জ সমাজসেবা প্রভিশন কর্মকর্তা মহসিন, বোরহান উদ্দিন ভুইয়া, জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও অনেকে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ ছাড়া সে সময়কার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী শুক্লা বিশ্বাস এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে অংশ নেন।