দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ব্রেইল বই; একটি প্রশ্ন

23

 

প্রথমবারের মতো দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ব্রেইল বই ছাপিয়ে দিচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের বিনা মূল্যের এই বই নতুন বছরের শুরুতে হাতে পাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা।

 

আসন্ন শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের বিনা মূল্যের ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি পাঠ্যবই ছাপানো হয়েছে এবার। পাঁচটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুরাও নিজেদের মাতৃভাষায় প্রথমবারের মতো বই পেতে যাচ্ছে। তন্মধ্যে এই পাঁচটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষার্থীকে বই দেওয়া হবে। সারা দেশে ৯ হাজার ৭০৩ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে এই ব্রেইল বই বিতরণের জন্য সরকারকে অভিনন্দন।

তবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য এই বই পর্যাপ্ত নয়। অতি সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, তথ্যের অভাবে সব দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বই দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে জরিপ চলছে। সে অনুযায়ী পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অন্যদিকে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়নরতদের অবস্থা আরও সঙ্গীন। কখনো কখনো একটা বই পাঁচ থেকে ছয়জন ভাগাভাগি করে পড়তে হয়। সরকারি কোনো ওয়েবসাইটে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের প্রবেশগম্যতা নেই। সরকারি ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারি না। আমরা আমাদের আইনি অধিকার সম্পর্কেও জানতে পারি না। নিশ্চিত হয় না আমাদের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার।

গত শিক্ষাবর্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৯ হাজার কপি ব্রেইল বই ছাপায়। এবার তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে হচ্ছে। ধীরে ধীরে আমরা মূলধারায় আসছি। একে অনেকখানি অগ্রগতি বলা যায়। কিন্তু এই অগ্রগতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে স্বাধীনতার পর থেকেই। দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নের নামে নানা কার্যক্রম চলেছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও বছরের পর বছর আমাদের নিয়ে কার্যক্রম চালায়। কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ হয়, তবুও তেমন ব্যাপক কোন পরিবর্তন চোখে পড়ে না।

 

সরকারের কাছে প্রশ্ন, সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব হবেন কবে?

 

অনন্য,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।