প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর বাস্তবায়িত হোক – ডেপুটি স্পিকার

13

অপরাজেয় প্রতিবেদক

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতরে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

 

আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দিবস ২০১৬ উদ্যাপন উপলক্ষে ‘প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়নে চাই প্রতিনিধিত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি। এ সময়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর উদ্বোধন হওয়ার তিন বছরেও কেন এর বাস্তবায়ন হয়নি? তিনি বলেন, ‘তাহলে কি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে গেছে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা? আমরা কি পাকিস্তানি আমলের আমলাতান্ত্রিক সেই ভূতের মধ্যে রয়ে গেছি?’

 

গত ৩ ডিসেম্বর ২০১৬ রবীন্দ্রসরোবরের মুক্তমঞ্চে দিবসটি উদ্যাপনের উদ্যোগ নেয় প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ (পিএনএসপি)। সভায় সভাপতিত্ব করেন পিএনএসপির সভাপতি এম ওসমান খালেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আলী আহসান, পিএনএসপির সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব, পিএনএসপির পরিচালক রফিক জামান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২ এপ্রিল অটিজম দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে বিলুপ্ত করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতরে রূপান্তরের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ৪ মাস পর আগস্ট ২০১০ এ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফাউন্ডেশনকে অধিদফতরে রূপান্তর করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সাংগঠনিক কাঠামোগত অনুমোদন দেয়। নানা জটিলতায় এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়লেও ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী আবারও সেই ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতরের ফলক উন্মোচন করেন। এরপর ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী অধিদফতর গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করলে অর্থ মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়ে অনুমোদন দেয়।

 

আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দিবস ২০১৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়নে তাদের প্রতিনিধিত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে অবশ্যই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নের মূলধারায় আনতে হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

প্রতিবন্ধী মানুষকে অবজ্ঞা করে সম্বোধন করার অভ্যাস পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘আমরা অনেকেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বিভিন্ন অপমানসূচক বিশেষ নাম ধরে ডাকি। যা ঠিক নয়, এতে প্রতিবন্ধী মানুষের অভিভাবকদের বুকে রক্তক্ষরণ হয়। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপে অংশ নিয়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহের আহ্বানও জানান তিনি। দেশে ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে তিনি প্রতিবন্ধী শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

 

বিশেষ অতিথি আলী আহসান সংসদে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সংরক্ষিত আসন দাবি করেন। কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে তা অবসানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন এবং সাংস্কৃতিক জগতে প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণের প্রতি উৎসাহ দেন।

আলোচনা শেষে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেন সঙ্গীতশিল্পী হৃদয় খান। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সৌজন্যে এই কনসার্ট আয়োজনে আরও সহযোগিতা করে নিউ জিপার কোম্পানি লিমিটেড এবং অদম্য ফাউন্ডেশন।