অবিলম্বে অধিদফতর বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

21

 

প্রধান প্রতিবেদন

 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী মানববন্ধন চলছে। অবিলম্বে অধিদফতরের কার্যক্রম শুরু না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন জেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রতিবন্ধী জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনসমূহের জাতীয় নেটওয়ার্ক প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদের (পিএনএসপি) আহ্বানে চলতি মাসে শুরু হয়েছে প্রতিবন্ধী মানুষের সমন্বিত এই আন্দোলন।

 

পিএনএসপির সমন্বয়ে জেলা পর্যায়ের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনগুলো যৌথভাবে এ কর্মসূচি পালন করছে। গত ৪ মার্চ খুলনা থেকে শুরু হয়ে একে একে যশোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং রাজবাড়ীতে এ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় সংগঠনগুলো। প্রতিটি জেলা শহরেই এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অভাবনীয় সাড়া পড়ে প্রতিবন্ধী মানুষ, তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন, অভিভাবক সংগঠনসহ স্থানীয় পেশাজীবী এবং সমমনাদের মধ্যে।

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে জানা যায়, মানববন্ধনগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে অভিযোগ আনেন, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অধিদফতর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদানের শুরু থেকেই সরকারি কর্মকর্তাসহ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের বেসরকারি সদস্য ও এনজিও নেতৃবৃন্দ এবং তাদের নেটওয়ার্ক জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম এই অধিদফতরের বিরোধিতা করে আসছে। এ প্রসঙ্গে বক্তারা নারী সনদ সিডো বাস্তবায়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, জেলা-উপজেলায় দেশের নারী সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনুদান প্রদান করে নারীর জন্য গঠিত মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। কিন্তু জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন শুধু সেবাদানকারী এনজিওগুলোকে অনুদান প্রদান করছে। অন্যদিকে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী ডিপিওগুলোকে সরকারের সব কার্যক্রম ও অনুদান থেকে বঞ্চিত করা হয়।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদ সিআরপিডি মেনে চলা হচ্ছে না ফাউন্ডেশনের কর্মকান্ডেও। তাদের কার্যক্রমে ডিপিওদের অগ্রাধিকার নেই। তাছাড়া আইন অনুসারে ডিপিওদের তালিকা প্রণয়নে আজ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এমন অভিযোগ করে মানববন্ধনগুলোতে বক্তারা আরও বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের অধিদফতর তৃণমূল পর্যায়ের ডিপিওগুলোর এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানসমূহের পৃষ্ঠপোষকতায় ভূমিকা রাখবে। তা ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়ন, কর্মসূচি তদারকি, সমন্বয় ও পরিবীক্ষণ করতে এ অধিদফতরের কার্যক্রম শুরু করা দরকার।

পিএনএসপির পরিচালক রফিক জামান বলেন, সর্বস্তরে প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর গঠনের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন পালন করা হবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর আওতায় জাতীয় সমন্বয়, নির্বাহী ও জেলা কমিটিকে এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সব সংসদ সদস্যকে এবং সব রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে লিফলেট ও পত্র প্রেরণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

 

উল্লেখ্য, বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৪ উপলক্ষে সে বছরের ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতরের ফলক উন্মোচন করেন। বাংলাদেশ সরকার অনুসমর্থিত সিআরপিডির ধারা ৩৩-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এই অধিদফতর গঠনের যৌক্তিকতা রয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ফলক উন্মোচনের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। এদিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে পিএনএসপি দেশব্যাপী মানববন্ধন আহ্বান করলে স্থানীয় সংগঠনগুলো স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়ে নিজ এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করে।