সরকারি কোটি টাকার অনুদান ভোগ করে এনজিওগুলো

13

 

সুমনা হক 

 

প্রতিবন্ধী জনগণ ক্ষমতার শিখরে উঠুক, তা অনেকেই চায় না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মরত সংস্থাগুলো (এনজিও) স্বীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার স্বার্থে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনগুলোকে (ডিপিও) পিছিয়ে রাখতে চায়। বিশেষ করে তৃণমূলের ডিপিওগুলো বঞ্চনা-বৈষম্যের শিকার হয় বেশি।

 

সরকার প্রতিবন্ধী মানুষদের উন্নয়নের জন্য হাজার কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ করে, অনুদানও দেয় কিন্তু বেশির ভাগই ভোগ করে এনজিওগুলো। ডিপিওদের দেওয়া হয় না আবেদন করা সত্বেও। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে অনুদানের জন্য আবেদন করলেও ডিপিওদের বাদ দিয়ে অনুদান দেওয়া হয় এনজিওদের। কাদের যোগসাজসে এসব হয় আমরা কী কিছুই বুঝি না! প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ইচ্ছা সত্ত্বেও প্রতিবন্ধী মানুষের প্রাণের দাবি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বছরের পর বছর কেন আটকে থাকে আমরা সবই বুঝি।

 

একসময়ে নারীদের অক্ষম, দুর্বল মনে করা হতো। সেখান থেকে সম-অধিকার অর্জনের লড়াইয়ে সোচ্চার হয়েছিল তারা। নারী অধিকার আন্দোলন এবং দীর্ঘ সময়ের লাগাতার প্রচেষ্টা তাদের ক্ষমতায়িত করেছে। আমাদেরও সোচ্চার হতে হবে নিজের অধিকার অর্জনের জন্য। যেভাবে নারীর সোচ্চার হওয়ার ফলে আজ নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন শহর থেকে গ্রাম, থানা, ইউনিয়ন সব স্তরেই। সে লক্ষ্যে আমাদেরও সমন্বিতভাবে অধিকার অর্জনের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি আহ্বান ভেবে দেখুন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কারণে আজ বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান বিশ্বের দরবারে কেন প্রশংসনীয়? নারী অবলা, নারী অসহায়, নারী অক্ষম ইত্যাদি এমন কথা কি তাদেরকে শুনতে হয়নি? আজ যা প্রতিবন্ধী মানুষকেও প্রতি পদে পদে শুনতে হয়? পুরুষের তুলনায় নারীর শক্তি কম, তাই তার বুদ্ধিও কম? ভেবে দেখুন, একই কথা একজন প্রতিবন্ধী মানুষকেও বলা হয়, প্রতিবন্ধিতার বিচারে হয় তার মেধা যাচাই।

 

কে আছে এসব নিয়ে কথা বলার? আমাদের কথা আমাদেরই বলতে হবে। আর একটি স্বতন্ত্র অধিদফতর আমাদের কথা বলার এবং অভিযোগ দায়ের করার সেই স্থান হবে। নারী সংগঠনগুলোকে যেমন মহিলা অধিদপ্তর অনুদান প্রদান করছে, তেমনি ডিপিওসমূহকে অনুদান দেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর। আজ যেমন নারীর প্রতিনিধিত্ব পুরুষ করতে পারে না, তেমনি প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্ব কোনো অপ্রতিবন্ধী মানুষ করতে পারবে না। সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করবে আমাদের অধিদফতর। আমাদের প্রতিবন্ধী মানুষের আশ্রয়, ভরসা, দাবি পূরণের হাতিয়ার হবে এই অধিদফতর। তাই আর নয় চুপ করে থাকা, এবার নিজেদের অধিকার নিজেরাই বুঝে নেওয়ার পালা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আসুন দেশব্যাপী নিজেদের প্রাণের দাবি তুলে ধরি।

 

শিক্ষার্থী, ঢাকা।