সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রতিবাদ

12

 

অবিলম্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর বাস্তবায়নের দাবিতে চলছে দেশব্যাপী মানববন্ধন। জেলায় জেলায় প্রতিবন্ধী মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের অভিভাবক সংগঠনগুলো রাস্তায় নেমেছে। হাতে হাত ধরে তারা দাঁড়িয়েছে প্রাণের দাবির বাস্তবায়নে। বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধনে স্থানীয় প্রতিবন্ধী মানুষ, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দসহ সর্বস্তরের পেশাজীবীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন এই আন্দোলন কর্মসূচিতে।

অধিদফতরের দাবিতে সোচ্চার তারা সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুকেও। ফেসবুকের পাতায় পাতায় বিভিন্ন জেলার প্রতিবন্ধী মানুষেরা তাদের একান্ত নিজস্ব অনুভূতিগুলো তুলে ধরেছেন। তারই একঝলক অপরাজেয় পাঠকের জন্য!

 

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার এবং ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যের বাস্তবায়ন চাই

 

মুহম্মদ শাহ আলম

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে। অন্যদিকে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ অথবা ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য রেখার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। এসব কি প্রতিবন্ধী জনগণকে বাদ দিয়ে আদৌ সম্ভব?

 

বাংলাদেশের অর্থনীতি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৫ কোটি ৭৯ লাখ মানুষের বসবাস আমাদের বাংলাদেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী বাংলাদেশে ১০% প্রতিবন্ধী মানুষ আছে। সে হিসেবে আমাদের দেশে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার প্রতিবন্ধী মানুষ আছে। এত বিশাল অংশকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। কারণ, বাংলাদেশকে মধ্যম ও উন্নত আয়ের দেশ করতে হলে প্রত্যেক মানুষকে আগে উন্নত হতে হবে। প্রত্যেক মানুষের জীবনমান আগে উন্নত করতে হবে। তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত। আর এই বিশাল প্রতিবন্ধী জনগণের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিদফতর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ জন্য ২০১০ সালের ২ এপ্রিল অটিজম দিবসের আলোচনায় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতরে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী আবারও সেই ঘোষণার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ২০১৬ সালে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতরে রূপান্তরের আহ্বান জানান।

 

কিন্তু এর বাস্তবায়ন আমরা এখনো দেখতে পারিনি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যের বাস্তবায়ন চাই। আমরাও দেশের উন্নয়নের সম-অংশীদার হতে চাই।

 

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা।  

 

 

শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের দাবি; অধিদফতর

 

আশরাফুল আলম অনিক

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের সংগঠিত হওয়া দরকার। শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগণ ক্ষমতার শিখরে উঠুক তা চায় না, যারাÑ প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে দোকান খুলে বসেছে।

তাই আমাদের শ্রবণ প্রতিবন্ধী ভাইদের একত্র হতে হবে।

শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি

চাকরিজীবী, ঢাকা।

 

দলে দলে আন্দোলনে যোগ দিন

বাপ্পী

 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর বাস্তবায়নের দাবি কোটি প্রতিবন্ধী মানুষের প্রাণের দাবি। এ দাবি আদায়ের আন্দোলন আমাদের প্রতিবন্ধী মানুষের। কোনো এনজিও বা কোনো ব্যক্তিগত সংগঠনের নয়। সুতরাং, সকল প্রতিবন্ধী মানুষকে এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আন্দোলন মানেই যে রাস্তা দখল, ভাঙচুর এমনটা নয়। আপনি যদি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিদফতরের দাবিতে বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির যেকোনো অধিকারের দাবিতে জোর গলায় সোচ্চার হয়ে দুটি কথা বলতে পারেন, তাহলেই আপনি একজন স্বয়ংক্রিয় আন্দোলনকারী। কিন্তু ঘরে বসে এই আন্দোলন অনেক হয়েছে। এবার সময় হয়েছে আমাদের অধিকার অর্জনের আন্দোলনকে জোরদার করার।

 

আমি সকল প্রতিবন্ধী মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি, এই আন্দোলনকে সফল করতে এগিয়ে আসুন। যে যেভাবে পারেন সাহায্য করুন। যদি আপনার সময় থাকে, সময় দিন। যদি আপনার অর্থ থাকে, অনুদান দিন। যদি আপনার পরামর্শ থাকে, পরামর্শ দিন। যদি আপনার কিছুই না থাকে, তাহলে একটি লাইক ও একটি শেয়ার দিন।

যে যেখানে আছেন, বাংলার প্রতিবন্ধী মানুষেরা সোচ্চার হোন। নিজ অধিকারের জন্য জোর গলায় বলতে শুরু করুন। বেরিয়ে আসুন ঘর ছেড়ে। অধিদফতরের দাবি পূরণ করতে, আন্দোলনে হোক দলে দলে।

শিক্ষার্থী,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

প্রতিবন্ধী মানুষের নেতৃত্ব অ-প্রতিবন্ধী মানুষকেই কেন দিতে হবে?

জাহেদ খান  

 

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর হওয়ার পর সারা দেশে নারীর কী উপকার হয়েছিল, তা নিশ্চয়ই কারও অজানা নয়। উপজেলা, থানা ইউনিয়ন পর্যায়ের নারী সংগঠনের নারীরা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শিখেছিল, তা-ও অনেকেরই জানা। সরকারি অনুদান, ঋণ, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা-স্বনির্ভর প্রকল্পসহ আরও কত যে নতুন স্বপ্নের দ্বার খুলে গিয়েছিল নারীদের সামনে!

 

নারীর ক্ষমতায়ন আজ মুখে মুখে। আমাদের অধিদফতর বাস্তবায়িত হলে তাই হবে। প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর গঠনের বিকল্প নেই। জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদে (সিআরপিডি) একই নির্দেশনা রয়েছে। যা অনুযায়ী সিআরপিডির অনুসমর্থনকারী বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে এ ধরনের সমন্বয়কারী সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠন করেছে। ভারত ২০১২ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ক্ষমতায়ন অধিদফতর গঠন করে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে আমাদের অধিদফতর অনুমোদন পায় কয়েক বছর আগে। তাহলে প্রধানমন্ত্রী ফলক উন্মোচন করার তিন বছর পরেও কেন অধিদফতর বাস্তবায়ন হলো না, প্রতিবন্ধী মানুষ তা জানতে চান। এই অধিদফতর গঠনের পেছনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিসের?

 

কাদের বাধায় বারে বারে আটকে যাচ্ছে আমাদের অধিদফতর গঠনের প্রক্রিয়া? কাদের স্বার্থে আঘাত হানে প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে? সারা দেশের বিশেষত উপজেলা থানা তৃণমূলের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনগুলো সরকারি অনুদান থেকে কেন বঞ্চিত হয় বারে বারে?

সরকারি-বেসরকারি অনুদানের অর্থ কাদের হাতে যায়? প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করতে গিয়ে আসলে কাদের জীবনমান উন্নয়ন হয়? গাড়ি-বাড়ির মালিক কারা হয়? প্রতিবন্ধী মানুষের নেতৃত্ব অ-প্রতিবন্ধী মানুষকেই কেন দিতে হবে?

 

এসব প্রশ্নের উত্তর আপনাকে আর আমাকেই খুঁজে নিতে হবে।

 

চাকরিজীবী

বন্দর, চট্টগ্রাম।

 

 

 

প্রতিবন্ধী জনগণ ক্ষমতার শিখরে উঠুক তা চায় না, যারা প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে দোকান খুলে বসেছে।

কাদের বাধায় বারে বারে আটকে যাচ্ছে আমাদের অধিদফতর গঠন প্রক্রিয়া? কাদের স্বার্থে আঘাত হানে প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে? সারা দেশের বিশেষত উপজেলা থানা তৃণমূলের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনগুলো সরকারি অনুদান থেকে কেন বঞ্চিত হয় বারে বারে ?? প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করতে গিয়ে আসলে কাদের জীবনমান উন্নয়ন হয়?

১৯৮৯ সালে মাত্র ২০ জন প্রতিবন্ধী মানুষের লাগাতার আন্দোলনের ফলে তৎকালীন সরকার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে ১০% কোটা দিতে বাধ্য হয়। তাহলে সরকারের সর্বোচ্চ ঘোষণা সত্ত্বেও কেন আমরা আলাদা অধিদফতর পাব না ?

আমাদের ভেতর থেকে কয়জন প্রতিবন্ধী মানুষ দিন শেষে পরিবর্তনের জন্য যুক্তি দিয়ে জোরালো কণ্ঠে আওয়াজ তুলি? দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা অধিকাংশ প্রতিবন্ধী মানুষই চাই আমরা ঘরে বসে থাকব আর আলাদিনের প্রদীপের দৈত্য এসে সব জাদুর মতো পরিবর্তন করে দেবে।

 

 

অধিকার কেড়ে নিতে হয়, অধিকার লড়ে নিতে হয়

 

প্রণব পাল

অনেক পুরোনো এবং একটি প্রচলিত সত্য কথা হচ্ছে, অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। অধিকার কেড়ে নিতে হয়। এ বিষয়ে গণসংগীতের জাগরক হিসেবে খ্যাত সলিল চৌধুরীর লেখা এবং প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সুবির সেন এর কন্ঠে সেই বিখ্যাত গানটির কথা মনে পড়ে গেলো:

 

অধিকার কে কাকে দেয়?

পৃথিবীর ইতিহাসে কবে কোন অধিকার বিনা সংগ্রামে শুধু চেয়ে পাওয়া যায়?

কখনোই নয়। কোনদিনও নয়।

অধিকার কেড়ে নিতে হয়, লড়ে নিতে হয়।

মুক্তির অধিকার, মানুষের মতো করে বাঁচবার অধিকার।

শিক্ষার অধিকার। হক কথা সোচ্চারে বলবার অধিকার।

শান্তির অধিকার। শিশু শিশু কুঁড়িদের ফুটবার অধিকার।।

এসব তো আমাদের জন্মগত।। তবে কেন এত হাহাকার!

ঘরে বসে বসে ক্রন্দনে নয়, অধিকার চিনে নিতে হয়। রক্তে কিনে নিতে হয়।।

পৃথিবীর ইতিহাসে কবে কোন অধিকার বিনা সংগ্রামে শুধু চেয়ে পাওয়া যায়?

কখনোই নয়। কোনদিনও নয়।

অধিকার কেড়ে নিতে হয়, লড়ে নিতে হয়।

 

এই গান এবং যুগে যুগে হয়ে আসা অধিকার বা স্বাধীকারের লড়াই তো তাই বলে। লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এবং স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরাই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমরা ছিনিয়ে এনেছিলাম আমাদের ভাষাকে, আমাদের আত্মপরিচয় এবং মহান স্বাধীনতাকে।

আচ্ছা, একটুখানি ভাবুন তো, আজ আমরা যারা প্রতিবন্ধী জনগণ তারা প্রায় বলি, আমার শিক্ষার পরিবেশ নেই। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী নয়। নতুবা বলি, ইশ্, এ জায়গায় র‌্যাম্প থাকলে ভালো হতো, আমি ভেতরে যেতে পারতাম (বিশেষত হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ) এককথায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব পরিবেশ চাই আমরা।

 

কিন্তু কথা হচ্ছে, আমাদের ভেতর থেকে কয়জন প্রতিবন্ধী মানুষ দিন শেষে পরিবর্তনের জন্য যুক্তি দিয়ে জোরালো কণ্ঠে আওয়াজ তুলি? দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা অধিকাংশ প্রতিবন্ধী মানুষই চাইÑ আমরা ঘরে বসে থাকব আর আলাদিনের প্রদীপের দৈত্য এসে সব জাদুর মতো পরিবর্তন করে দেবে। এ ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষের কথা নাই-বা বললাম।

বন্ধু, ভুলে যাবেন না, আপনি বাইরের কোনো জগৎ থেকে আসেননি, আপনি এই সমাজেরই অংশ। আর আপনার অধিকারের কথা আপনাকেই জানান দিতে হবে সকলের মাঝে। বন্ধু, সন্তান না কাঁদলে মা কিন্তু তাকে দুধ পান করান না, এটি মনে রাখবেন অবশ্যই! আজ যেমন করে নারী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের মূল উৎস এবং নারী আন্দোলন সংগ্রামের ফসল মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। তেমনি করে ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতরের উদ্বোধন করেন।

 

আমরা প্রতিবন্ধী জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতরের বাস্তবায়ন দাবি করছি।

 

শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া।

 

প্রতিবন্ধী মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের আহ্বান

 

শাকিলা মিতু

প্রতিবন্ধী মানুষ মানেই এটা পারবে না, ওটার দরকার নেই, ওখানে যেয়ো না! বর্তমান সমাজের এমন অবস্থায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষমতায়নের কথা শুনে অনেকেই চমকায়! কিন্তু এসব আর কত দিন?

 

বাংলাদেশ ২০০৮ সালে জাতিসংঘ প্রণীত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সনদ (সিআরপিডি) সমর্থন করেছে। সিআরপিডির আলোকে প্রণীত হয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩। এ ছাড়া নিউরো ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩। এসব আইনের বিধিমালা প্রণয়নের পরও তা বাস্তবায়নে আদতে আমরা কতটা পিছিয়ে রয়েছি?

সারা বিশ্বে প্রতিবন্ধী মানুষের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ও সিআরপিডি বাস্তবায়নে “International disability day” এই নাম পরিবর্তন করে নির্ধারণ করা হয়েছিল “International day for person with disabilities” নামটি। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে আজ অবধি আগের সেই পুরনো নাম- ‘আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস’ নামেই তা পালিত হয়। এই হলো আমাদের বাংলাদেশ, যেখানে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নাকি পশু নাকি ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী, তা-ও নির্ধারণ করতে পারে না আমাদের সরকার। তবু নাকি আমরা সুবর্ণ নাগরিক!

 

একবিংশ শতাব্দীতে এসে বাংলাদেশ এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে যখন এসডিজি অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে তখনো প্রতিবন্ধী মানুষ অবহেলা আর বৈষম্যের শিকার। ব্যাপক আন্দোলনের পর আজ নারী অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন দিবসে নারীদের ব্যাপক পদচারণ তারই প্রমাণ। নারীদের জন্য গঠিত হয়েছে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর। আজ নারীদের সকল কার্যক্রমের প্রতিনিধিত্ব করছে নারীরাই।

কিন্তু প্রতিবন্ধী মানুষের কার্যক্রমের প্রতিনিধিত্ব করে কারা? অপ্রতিবন্ধী মানুষেরা।

 

অপ্রতিবন্ধী মানুষের কার্যক্রম পরিচালনা ও সমস্যা নিরসনে যখন আলাদা মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে, তখন প্রতিবন্ধী মানুষের সবকিছুর জন্য দ্বারস্থ হতে হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে, যেখানে তারা অবহেলিত ও বঞ্চিত।

সিআরপিডির আলোকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ২০১২ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ক্ষমতায়ন অধিদফতর চালু করেছে। প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে এই অধিদফতর; কিন্তু বাংলাদেশে এর প্রতিফলন দেখুন…

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা অধিদফতর গঠনের ঘোষণা দেন। ২০১৪ সালে অটিজম সচেতনতা দিবসে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিদফতরে রূপান্তরের জন্য আবারও ঘোষণা দিয়ে ঘটা করে ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের ঘোষণা সত্ত্বেও আজও স্থবির অধিদফতর বাস্তবায়নের কাজ।

 

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে মাত্র ২০ জন প্রতিবন্ধী মানুষের লাগাতার আন্দোলনের ফলে তৎকালীন সরকার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে ১০% কোটা দিতে বাধ্য হয়। তাহলে সরকারের সর্বোচ্চ ঘোষণা সত্ত্বেও কেন আমরা আলাদা অধিদফতর পাব না। অধিকার কেউ কাউকে দেয় না, লড়াই করে অর্জন করতে হয়। সকল প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি আজ তাই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই। আসুন, সবাই একসঙ্গে মিলে, আরও একটিবার আন্দোলনে নামি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব এক নতুন সমাজ গড়ি।

শিক্ষার্থী, দুর্গাপুর, রাজশাহী।

 

 

সরকারকে জবাব দিতে হবে

 

সুমাইয়া বিন্তে শফি

নারীর ক্ষমতায়নের জন্যে সরকারি ও বেসরকারি বহু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের বাস্তবায়নও আমরা দেখতে পাই।

কিন্তু প্রতিবন্ধী মানুষকে ক্ষমতায়িত করার জন্য সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোগ কতটুকু নেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে?

 

প্রতিবন্ধী জনগণের ক্ষমতায়ন বিষয়ে আদৌ কারো ভাবনা আছে কি?!! সরকারকে জবাব দিতে হবে।

শিক্ষার্থী, নারায়নগঞ্জ।