যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ দাবী

70

 

প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারীর ঋতুকালীন পরিচর্যা ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটেও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ চায় প্রতিবন্ধী নারীরা। জাতীয় পর্যায়ের হাইজিন বেজলাইন জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী নারীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে সরকারের পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবী জানান তারা।

আজ বৃহস্পতিবার প্রান্তিক কিশোরী ও নারীর মাসিক পরিচর্যা ও বাধাসমূহ; না বলা কথামালা শীর্ষক জাতীয় পর্যায়ের এক মতবিনিময় সভায় প্রতিবন্ধী নারীরা এ দাবী জানান। মাসিক বিষয়ে শিক্ষা, বদলে দেবে জীবনধারা এই প্রতিপাদ্যে ২৮ মে বিশ্ব মাসিক পরিচর্যা দিবস ২০১৭ পালন উপলক্ষ্যে এলজিইডি ভবনের আরডিইসি মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এনডিসি। ওয়াটারএইড এর দেশীয় পরিচালক জনাব ডা. খায়রুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ আয়োজন বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. আশরাফি আহমেদ, সমাজসেবা অধিদফতরের উপসচিব (প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ), ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), ড. ফাহমিদা হোসেন, উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠন বি-স্ক্যান এর সমন্বয়ে কনসার্ন উইমেন ফর ফ্যামিলি ডেভলপমেন্ট (সিডব্লিউএফডি), ডর্প, প্র্যাকটিক্যাল একশেন বাংলাদেশ, ওয়াশ এল্যায়েন্স বাংলাদেশ, ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশেন কোলাবরেটিভ কাউন্সিল (ডব্লিউএসএসসিসি), সেনোরা এবং ওয়াটারএইড যৌথভাবে এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্র্যাকটিক্যাল একশেন এর দেশীয় পরিচালক হাসিন জাহান।

 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৪৯০টি উপজেলায় কিশোরী ক্লাবে প্রতিবন্ধী কিশোরীদের অন্তর্ভুক্তি এবং স্বল্পমূল্যের স্যানিটারি প্যাড তৈরির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী নারী উদ্যোক্তা তৈরির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সভার প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এনডিসি। সভায় অন্যান্য বক্তারা জাতীয় শিক্ষাক্রমে প্রতিবন্ধী নারীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্তিসহ সরকারের এ বিষয়ক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী নারীর অংশগ্রহণ ও মতামত প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিক্ষা ভবনসহ সকল ক্ষেত্রে প্রবেশগম্য টয়লেট এবং স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

যারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা, পোষাক পরিধান এবং টয়লেট ব্যবহার করতে পারে না বা সমস্যার মুখোমুখি হয় তাদের বিশেষত আরও বৈষম্যপীড়িত – বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী, অটিস্টিক নারী, মনো-সামাজিক প্রতিবন্ধী নারী, মস্তিষ্ক পক্ষাঘাত নারী, ডাউনসিন্ড্রোম নারীদের ঋতুকালীন পরিচর্যা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য, পরিচ্ছন্ন থাকার পদ্ধতি বিষয়ে রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নেওয়ার দাবী জানানো হয় মুল প্রবন্ধে। মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন বি-স্ক্যান এর সভাপতি সাবরিনা সুলতানা। বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী নারী ও শিক্ষার্থীরা ছাড়াই অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অলোক মজুমদার, দেশীয় প্রতিনিধি, ওয়াশ এ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, ইয়াকুব খান, জাতীয় আহবায়ক, ফানসা, রফিক জামান, পরিচালক, পিএনএসপি, সালমা মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক, বি-স্ক্যান, আসিফ সিদ্দিকী, সভাপতি, প্যারেন্টস ফোরাম প্রমূখ।