এসডিজি অর্জনে প্রতিবন্ধী জনগণ-সম্পর্কিত তথ্য নেই সরকারের কাছে

44

 প্রধান প্রতিবেদন

তথ্যের ভিত্তিতে এসডিজি অগ্রগতি পরিমাপ করা হলেও প্রতিবন্ধী জনগণ-সম্পর্কিত কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। এসডিজির স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জাতীয় পর্যালোচনা (ভিএনআর) জাতিসংঘে উপস্থাপনের প্রাক্কালে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা স্বীকার করলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

 

তিনি বলেন, জলবায়ুবিষয়ক,জলজ জীবনের মতো প্রতিবন্ধী জনগণ-সম্পর্কিত কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবিষয়ক সুস্পষ্ট সংজ্ঞায়ন হলে নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে।

এসডিজিবিষয়ক প্রতিবন্ধী নাগরিক ফোরাম, প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ (পিএনএসপি) এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্র্যাক ইন সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে (৩য় তলায়) গত ২৪ মে, ২০১৭ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিএনএসপির সভাপতি এম. ওসমান খালেদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং এসডিজিবিষয়ক প্রতিবন্ধী নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক সাবেক প্রধান বিচারপতি ফজলুল করিম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের উপপরিচালক সাবিরা সুলতানা। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনএসপি এর পরিচালক রফিক জামান এবং সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা জাহিদুল কবির।

 

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী মানুষের মোট সংখ্যা এবং তাদের ধরন নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আলাদা শনাক্তকরণের নামে একটি ত্রুটিপূর্ণ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। প্রতিবন্ধী মানুষের সঠিক তথ্য না থাকায় তাদের নিয়ে পরিকল্পনাও যথাযথভাবে করা যাচ্ছে না। সরকার এ জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় একাধিক আইন ও নীতিমালা করেছে। কিন্তু প্রয়োগ ও পর্যবেক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে তাদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

 

ফজলুল করিম বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষদের উন্নয়ন মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত হতে হলে সামগ্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তন করা দরকার। তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের যথাযথভাবে সহজে নিবন্ধন ও পরিচয় প্রদান করা হচ্ছে না। তাই প্রতিবন্ধী মানুষের সঠিক সংখ্যা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি অতি দ্রুত তথ্যের কাঠামো তৈরির জোর তাগিদ দিয়ে বলেন, বিপুলসংখ্যক প্রতিবন্ধী জনগণের জন্য এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংবেদনশীল বাজেট তৈরি করতে হবে সরকারকে।

 

প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত  গ্রহণে আমাদের মতামত যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তেমনি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করে অ-প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে জাতীয় পর্যায়ে সব ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থপূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই এসডিজি অর্জন সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্টজনেরা।

 

দিনব্যাপী আয়োজিত এ মতবিনিময় সভার দ্বিতীয় পর্বটি ছিল প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে। ঘাসফুল শিশু ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়মা আক্তার দিপ্তীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন জনাব শিবানী ভট্টাচার্য, যুগ্ম সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের পরিচালক চন্দন জেড. গোমেজ। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন পিএনএসপির সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব। সঞ্চালনা করেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. আলমগীর কবির।

কাজী রিয়াজুল হক এসডিজি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ এবং এ বিষয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 

প্রতিবন্ধী শিশুদের বক্তব্যে বলা হয়, আমাদের কোনো মূলধারার বিদ্যালয় ভর্তি নিতে চায় না। এ ছাড়া অবকাঠামোগত ও গণপরিবহনে প্রবেশগম্যতার অভাব, শিক্ষকেরা বাংলা ইশারা ভাষা না জানা, ব্রেইল বইয়ের অপর্যাপ্ততা, শ্রুতলেখক সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকা আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধান বাধা বলেন শিশু বক্তারা।