অবশেষে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে প্রবেশগম্য টয়লেট

43

 

অপরাজেয় ডেস্ক

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তাদের একটি সাধারণ টয়লেটকে প্রতিবন্ধী মানুষ, বিশেষত হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের প্রবেশগম্যতা বিবেচনায় সংস্কার করেছে।

 

অধিদপ্তর ভবনের ৫ম তলার এই টয়লেটকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব করতে গত ১৮ এপ্রিল, ২০১৭ গণপূর্ত বিভাগ থেকে অনুমোদন দেয়। টয়লেটের কাজ সম্পন্ন হয় ১৩ জুলাই। তবে জানা যায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠন বি-স্ক্যান এই টয়লেট সংস্কার করার অনুরোধ জানিয়ে জনওকালতি শুরু করে প্রায় এক বছর আগে।

এ বিষয়ে বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব বলেন, সামান্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কাজ শুরু বছর গড়ালেও অধিদপ্তরের মহা পরিচালক সাহিন আহমেদ চৌধুরীর আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই এই প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেছে।

 

সালমা মাহবুব আরও বলেন, মহিলা অধিদপ্তর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভা-সেমিনারগুলোতে প্রতিবন্ধী মানুষের দীর্ঘক্ষণ থাকতে বেশ সমস্যা হতো। বিশেষত প্রতিবন্ধী নারীদের সমস্যাটি অবর্ণনীয়। এই টয়লেটটির সংস্কার কাজের জন্য মহিলা অধিদপ্তরের সবার সহযোগিতাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব মহলের জন্যই অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা।

 

জানা যায়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহিন আহমেদ চৌধুরীকে প্রতিবন্ধী মানুষের সমস্যার বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভবনের একটি টয়লেটকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব করে সংস্কার করার অনুরোধ জানিয়ে গত ২৮ জুলাই, ২০১৬ তে চিঠি প্রেরণ করে বি-স্ক্যান। অধিদপ্তরের অবকাঠামোগত পরিবর্তনের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের ওপর ন্যস্ত হওয়ায় এই বিষয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেয়। মহিলা অধিদপ্তর থেকে গণপূর্ত বিভাগকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ৩০ আগস্ট, ২০১৬ অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু কাজের কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত না হওয়ায় পরবর্তীতে জানুয়ারি ২০১৭-এর দিকে বি-স্ক্যান গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. কামাল হোসেনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে। এরপর কামাল হোসেনসহ মহিলা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে এক বৈঠকের উদ্যোগ নেয় বি-স্ক্যান। চলতি বছরের ৬ মার্চ, ২০১৭ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবেশগম্য টয়লেটটি গণপূর্ত থেকে অনুমোদন পায়।

 

এই বৈঠকে বি-স্ক্যানকে নকশা তৈরিসহ তত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হলে বি-স্ক্যান এরপর বুয়েটের সিভিল ও স্থাপত্য বিভাগের প্রকৌশলীদের একটি কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান আইডেন্টিটি বাংলাদেশ এর সঙ্গে সমন্বয় করে নকশা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে।

আইডেন্টিটি বাংলাদেশ সরেজমিন পরিদর্শন করে টয়লেটটির পরিমাপ অনুযায়ী নকশাটি তৈরি করে। বি-স্ক্যান গত ৯ এপ্রিল মহিলা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে নকশাটি হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে অবিলম্বে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নকশার একটি কপি গণপূর্ত উপবিভাগ-৫-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আল আমিন মোহম্মদ নুরুল ইসলাম বরাবর প্রদান করা হয় ১২ এপ্রিল।

 

উল্লেখ্য, বি-স্ক্যান চিঠি প্রেরণের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব করতে জনওকালতিমুলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।