শেষ ঠিকানা কি ব্যক্তিবৈষম্য

6

 

 আমাদের জীবনের সফলতার মূল নিয়ন্ত্রক আমাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়া। এর জন্য দরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর। নারীদের জন্য যদি সরকারিভাবে আলাদা মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর থাকে, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যদি আলাদা মন্ত্রণালয় থাকে, তাহলে আমাদের জন্য কেন আলাদা অধিদফতর হবে না? আমরা দয়া-ভিক্ষা চাই না।

 

প্রকৌশলী আশীষ চন্দ্র দেবনাথ

 

আমার জন্ম ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নে। ঠোঁট ও তালু কাটা নিয়ে জন্মগ্রহণ করি আমি। বিষয়টি আমার বাবা-মা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। বিশেষত বাবা নাকি তখন আমাকে দেখতেই চাইতেন না। তাই একটু বড় হওয়ার পর মা আমায় মামাবাড়ি রেখে আসেন। সেখানেই কাটে বছর আটেক। আপনজনের কটূক্তিমূলক কথা, রাস্তাঘাটে মানুষদের হাসি-তামাশা আর নানা-নানির ভালোবাসা এসব নিয়েই আমার শৈশব কেটেছে।

 

এরপর স্কুলে ভর্তি হই। ভর্তির পর আমার পড়াশোনার উন্নতি দেখে মা আমাকে তার সঙ্গে নিয়ে যান। যদিও বাবা প্রথমে মেনে নেননি। কিন্তু সন্তানের মায়া আর মায়ের আবেগের কাছে হার মানেন একসময়। গ্রামের স্কুলেই আবার নতুন জীবন শুরু। পাড়া-প্রতিবেশীদের হাসি-তামাশা, স্কুলে যাওয়ার পথে মানুষের তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে আমার স্কুলজীবন শেষ করি। বাবা-মা আমার ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বরিশাল পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায়। আমি সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে যান্ত্রিক প্রকৌশল শাখায় সুযোগ পাই। কিন্তু শিক্ষকদের অবমূল্যায়নে পরবর্তী সময়ে আমার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফল তেমন একটা আশানুরূপ হয়নি। আমার কথা অস্পষ্ট হওয়ার কারণে শিক্ষকেরা আমাকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অবমূল্যায়ন করেন এবং পরীক্ষাগুলোর নম্বর ইচ্ছেমতো কমিয়ে দিয়ে আমার ফল আশানুরূপ হতে দেননি। এত পরিশ্রম করেও শিক্ষকদের মন জয় করতে পারিনি শুধু প্রতিবন্ধিতার কারণেÑ এটা আমার জন্য অনেক যন্ত্রণার। তবু আমি থেমে যাইনি। উচ্চ ডিগ্রিতে আমার মেধার প্রকাশ দেখাব এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই। আমার এক ভাই এবং খালার দেওয়া সাহস ও অনুপ্রেরণায় উৎসাহিত হয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সে সময় ডুয়েটে শুধু উপজাতি ছাড়া কোনো কোটাব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘ ১৮ মাস পড়াশোনা করে ভর্তি পরীক্ষা দিই এবং সবার আশীর্বাদে আমি আমার চেষ্টার পূর্ণতা পাই। ডুয়েটের যান্ত্রিক প্রকৌশল শাখায় অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে যাই।

 

কিন্তু সেখানেও নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয় আমাকে। বাক্প্রতিবন্ধিতার কারণে প্রথমেই আমার ভর্তি আটকে দেন ডুয়েট ভর্তি শাখার মেডিকেল টিম লিডার ডা. মো. এমদাদ। আমি প্রতিবাদ করলাম, নিজের যোগ্যতায় সুযোগ পেয়েছি। তাহলে কেন আমার ভর্তিতে বাধা দেওয়া হবে। তিনি মানছেন না দেখে আমি জানালাম, প্রয়োজনে আমি ওপর মহলের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করব। এরপর তিনি নমনীয় হলেন। সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমায় ডাক্তারের কাছ থেকে ফিট সনদ জমা দিতে বললেন। সঙ্গে এ-ও বলে দিলেন, সময়মতো জমা দিতে না পারলে আমার ভর্তি বাতিল হবে। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ ঘুরে ডাক্তারের সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার পর আমার ভর্তি সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি তেমন কোনো বাধার সম্মুখীন হইনি। কিন্তু ব্যবহারিক বিষয়গুলোতে যখন মৌখিক পরীক্ষা হয়, তখন ব্যবহারিক পরীক্ষকেরা আমায় কিছু জিজ্ঞাসা করতেন না। কারণ, আমার বাক্প্রতিবন্ধিতা। তারা আমার অস্পষ্ট কথা বুঝতে পারতেন না, তাই তারা আমায় মৌখিক পরীক্ষা না নিয়ে অবমূল্যায়ন করেন। যদিও আমায় একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্যায়নে রাখেন। কিন্তু সেখানে আমার কিছু বলার ছিল না। ভেবেছিলাম, পরবর্তী জীবনে এটা নিয়ে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। আমি গর্বের সঙ্গে সবার ভালোবাসা নিয়ে, আমার গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রিসহ প্রকৌশলী হয়ে বের হই। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি সবার মন জয় করেছিলাম। পেয়েছিলাম সবার ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব। আমাকে যারা আপন করে নিয়েছিল, তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। ভেবেছিলাম, আমার মতো করে আমি সবাইকে জীবনযুদ্ধ জয় করতে শেখাব। কিন্তু তখন আমার ধারণাটা ভুল ছিল তা পরে বুঝতে পারি।

 

দ্বিতীয় জীবনযুদ্ধের শুরু

আমার প্রিয় একজন শিক্ষক ড. কামরুজ্জামান স্যারের সহযোগিতায় দেশের একটা প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করি। এখানে আমার পরিশ্রম ও কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয় কিন্তু বেতন বৃদ্ধির সময় সবার চেয়ে ভালো কাজ দেওয়া সত্ত্বেও আমার বেতন না বাড়িয়ে উল্টো আমার বাক্প্রতিবন্ধিতাকে ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হয়। শুধু তা-ই নয়, ওই কারখানার একজন উচ্চপদস্থ শিক্ষিত ব্যক্তি আমার বাক্প্রতিবন্ধিতা নিয়ে প্রায় সময়ই খারাপ আচরণ করেছেন। রাগ, ক্ষোভ, অপমানবোধে ছটফটিয়ে উঠেছি আমি। কিন্তু আমার প্রিয় শিক্ষক, যার সহযোগিতায় আমার চাকরি, তার সম্মানার্থে প্রতিবাদ করার দিকে যাইনি। সততার সঙ্গেই কাজ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু চাকরি জীবনের দুই বছর অতিক্রম করার পর অনুভব করলাম, আমার ঊর্ধ্বতন সেই ব্যক্তির মানসিক অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলেছে। সব সহ্যের বাঁধ ভেঙে প্রতিবাদ করি।

 

ইতোপূর্বে আমার প্রতিবন্ধিতা নিয়ে মানুষের কটূক্তি আমার বুদ্ধি ও সহনশীলতা দিয়ে প্রতিহত করতাম। কিন্তু কর্মক্ষেত্র হিসেবে নমনীয় মনোভাব নিয়ে চলতাম। কিন্তু আমার এই নমনীয়তাকে সম্ভবত তিনি আমার দুর্বলতা ভেবেছিলেন। ফলে তিনি আমার ওপর মানসিক নির্যাতনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। আমি খেটে খাওয়া মানুষ, তাই করে খাই। এই অস্বাভাবিক আচরণ মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছিল বলে একদিন রাগ করে চাকরিটাই ছেড়ে দিই। চাকরি থেকে অব্যাহতিপত্রে আমার ওপর মানসিক নির্যাতনের বিষয়ে উল্লেখ করে আমি সেই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বিভাগে জমা দিই। কিন্তু এই পত্র গৃহীত হয়নি, কারণ আমার ঊর্ধ্বতন সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপস্থাপন ছিল তাই। শক্তিশালী প্রশাসনের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠলাম না। বাধ্য হলাম নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা দেখিয়ে অব্যাহতিপত্র জমা দিতে। কিছুদিন পর আরেকটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিই। সেখানে আমার দিন ভালোই যাচ্ছিল। এখানে বছর দুয়েক কাজ করে প্রয়োজনের তাগিদে ক্রনি গ্রুপ নামে অন্য এক প্রতিষ্ঠানে যোগ দিই। ভাগ্য এতটাই খারাপ ছিল, সেখান থেকে শুরু হয় আমার পথে পথে কূল হারানোর কষ্ট। কারণ, মাত্র পনেরো দিন কাজ করার পর প্রতিষ্ঠানের (ক্রনি গ্রুপ) স্বত্বাধিকারী এ এইচ আসলাম সানির নির্দেশে আমাকে অব্যাহতিপত্র জমা দিতে হয়। আমাকে অব্যাহতিপত্র কেন দিতে হবে জানতে চাইলে জানানো হয়, আমার শারীরিক ও বাক্প্রতিবন্ধিতাই মূল কারণ। আমি তখন অব্যাহতিপত্রে এই কথাই উপস্থাপন করি। কিন্তু এই পত্র মেনে নেওয়া হলো না। জোর করে আমার ব্যক্তিগত সমস্যা লিখিয়ে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু এর কিছুদিন আগেও আসলাম সানি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন। কিন্তু এই সবই লৌকিকতা। বাস্তবের তিক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী তো আমি নিজেই।

 

এ দেশের শিক্ষিত সমাজ আমাকে বাস্তবতা দেখিয়ে দিয়েছিল। একটা সময় পথে পথে প্রায় ভিক্ষুকের বেশে ঘুরে বেড়াতাম। নিজের পিতা, মাতা, ভাইও আমাকে বুঝতেন না। কী করি, কী খাই, কীভাবে দিন কাটাই কোনো খবর কেউ রাখতেন না। সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উল্লেখ থাকলেই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। কিন্তু অনেক ভালো করার পরও মৌখিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শখানেক প্রতিষ্ঠানে মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু সব জায়গাতেই মৌখিক পরীক্ষায় আমাকে বাদ দেওয়া হয়। একই অজুহাত আমার বাক্প্রতিবন্ধিতা। এমনও হয়েছে, আমার লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখে অন্য একজন সাধারণ মৌখিকের সুযোগ পেলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আমি পাইনি। এই হলো আমাদের দেশের নীতি, আমার থেকে কম নম্বর পেয়েও অন্য কোটায় মৌখিকের ডাক পায় কেউ, সেখানে আমি বাদ। অযোগ্যতা কি প্রতিবন্ধিতা? কেন এই বৈষম্য? যদি মুক্তিযোদ্ধা বা অন্য কোটাগুলোতে লিখিত থেকে মান বণ্টন হারে মৌখিকে সুযোগ পায়, তাহলে আমরা কেন পাব না? সরকারি নীতিমালা থাকলেও মালিকানা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন আমাদের নিয়ে মঞ্চ কাঁপিয়ে দেয়, তাহলে বাস্তবে কেন আমাদের অবমূল্যায়িত হতে হয়। দেশ এগিয়ে গেলেও এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যেসব পদক্ষেপ নেয়, তা শুধু ওই মঞ্চ কাঁপানোতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ তেমন দেখি না। বঞ্চনা, বৈষম্য আর হাহাকারে অসম্ভব এক জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছি। কারণ, তারা আমাদের মতো নয়, আমাদের দুঃখ তারা কীভাবে বুঝবে, আমাদের দুঃখ আমাদেরই বুঝতে হবে। হয়তো আজ আমি একজন প্রকৌশলী কিন্তু এই সমাজের কিছু শিক্ষিত নিচু মন-মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য আমি বেকার। আমার বেকারত্বের জন্য আমি দায়ী নই, এই সমাজ দায়ী, দায়ী আমাদের প্রতি তাদের বৈষম্যবোধ। এই প্রতিষ্ঠিত শিক্ষিত সমাজের কিছু নিচু মনের মানুষ আছেন বলেই আজ আমরা নিঃস্ব।

 

তারপরেও আমি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। এখনো বলতে পারি হেরে যাইনি। আমি আমার দিশায় চলছি নিশানার জন্য। হয়তো কেউ আমার পাশে নেই, তাই একা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। তবু আমরা ভিক্ষুক নই। এক সমাজের মানুষ। এ সমাজের জন্য লড়াই করতে জানি, যা অন্যদের বোধগম্য নয়। বাস্তবে যতই বঞ্চিত হই না কেন, লড়াই করে যাওয়ার মানসিকতা আছে। দেখতে চাই জীবন কোথায় গিয়ে থামে। আমাদের জীবনের সফলতার মূল নিয়ন্ত্রক আমাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়া। এর জন্য দরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর। নারীদের জন্য যদি সরকারিভাবে আলাদা মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর থাকে, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যদি আলাদা মন্ত্রণালয় থাকে, তাহলে আমাদের জন্য কেন আলাদা অধিদফতর হবে না? আমরা দয়া-ভিক্ষা চাই না। নিজেদের যোগ্যতার বিনিময়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে নিজেদের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে চাই। আমরা সততার সঙ্গে কাজ করে যাব। দেশ আমায় যা দিয়েছে, তা নিয়ে না ভেবে আমি দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, তাই লড়াই চালিয়ে যেতে চাই। আমরা প্রতিবন্ধী মানুষ হলেও আমরা দেশকে এমন অনেক কিছুই দিতে পারি, যা দেশের উন্নয়নে কোনো অংশেই কম নয়।

 

আমরা আমাদের শারীরিক সমস্যা কাজের মাধ্যমেই ঢেকে রাখি এবং জীবনের সর্বস্ব দিয়ে আমার, আপনার ও দেশের মান রাখার চেষ্টা করি। এই দেশের জন্য প্রতিবন্ধী মানুষেরাও যুদ্ধ করেছে। তাহলে একজন প্রতিবন্ধী মানুষ যদি সক্ষমতার সঙ্গে যুদ্ধে সফল হয়ে দেশকে কিছু দিতে পারে, স্বাধীনতার অংশীদার হতে পারে, তাহলে আমাদের নিয়ে কেন এই সংশয়? আমরা যদি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারি, তাহলে আপনাদের অবিশ্বাসের কারণটা কোথায় বুঝি না। আজ যদি আপনার পরিবারে আমাদের মতো কেউ থাকত অথবা যদি ভবিষ্যতে কেউ আসে, তাহলে কি তার বুদ্ধি সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বন্দি করে রাখা হতো? আপনার অপ্রতিবন্ধী সন্তান এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের মধ্যে কেন এই পার্থক্য?

 

আমাদের প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের জানাতে চাই, এই দেশ ও দেশের নিচু মন-মানসিকতা বা শিক্ষিত সমাজের ছদ্মবেশী অবস্থান দূরীকরণে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। নিজেদের এগিয়ে যাওয়ার স্বার্থেই এই কাজটা আমাদের দৃপ্ত পদক্ষেপে করতে হবে।