প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিতে প্রতিবন্ধী মানুষের কোটা নেই

বাংলাদেশ কর্ম কমিশন থেকে গত ৪ এপ্রিল, ২০১৯ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধির একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে । সেখানে ধারা ৮ (গ) এবং (ঘ) তে সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৬০ ভাগ মহিলা কোটা, ২০ ভাগ পোষ্য কোটা এবং ২০ পুরুষ কোটা দ্বারা পূরণ করার কথা বলা হয়েছে এবং এ কোটাসমূহ পূরণের ক্ষেত্রে ধারা ৮ এর ৩ উপবিধি অনুযায়ি, আপাতত বলবৎ অন্য কোন বিধি বা সরকারি সিদ্ধান্তে অন্য কোন বিশেষ শ্রেণির কোটা নির্ধারিত থাকলে উক্ত কোটা বিধান অনুযায়ি প্রয়োগ হবে বলে উল্লেখ করা হলেও কোথাও প্রতিবন্ধী মানুষের কোটার বিষয়ে কোন উল্লেখ নেই।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিবন্ধী মানুষেরা । তারা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মসংস্থানের একটি বড় সুযোগ তারা হারাতে বসেছেন। এমনিতেই তারা লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও প্রায়শই প্রতিবন্ধিতার কারণে ভাইভাতে গিয়ে মারাত্নক বৈষম্যের শিকার হন তার উপর যদি কোটাই না থাকে তাহলে তাদের চাকরির নিশ্চয়তা কে দেবে?

এদিকে ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীপরিষদ বৈঠকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ এর প্রতিবন্ধীবিষয়ক জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনার খসড়া অনুমোদ পায়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং কালে মন্ত্রী পরিষদ সচিব জনাব শফিউল আলম বলেন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিল করা হলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোটা বহাল থাকবে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক আদেশ দিয়ে আইন সুপারসিড করা যায় না।

এখানে উল্লেখ্য যে, কোটা সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সকল কোটা বাতিল করে পুরোপুরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রীসভার সম্মতির প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন থেকে এক পরিপত্র জারি করা হয়। পরে পিএসসি ৪০তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও কোটা না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

তাহলে প্রশ্ন হলো প্রতিবন্ধী মানুষের কোটা নিশ্চিত হবে কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর চান আজ চাকরি প্রার্থী প্রতিবন্ধী মানুষেরা!