প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের অবস্থান ধর্মঘট

অপরাজেয় প্রতিবেদক

চাকরির দাবীতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের অবস্থান কর্মসূচি। চাকরি প্রত্যাশী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গ্রেজুয়েট পরিষদ ২২ মে সকাল ৯টা থেকে এই অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন।

৯ম থেকে ২০তম গ্রেডভূক্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চাকরিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে সৃষ্ট বাধা দূরীকরণ প্রসঙ্গে গ্রেজুয়েট পরিষদ প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয় ২৮ এপ্রিল। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে এ অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষেরা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ১নং প্রবেশদ্বারে অবস্থান নিলে প্রশাসন বাধা দিয়ে জানান ৪নং প্রবেশদ্বারে গিয়ে দাবীসমূহ উত্থাপনের জন্য। কিন্তু সেখানেও একইভাবে বাধাপ্রাপ্ত হন। এ সময় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের চাপের মুখে তাদের তিনজন প্রতিনিধিকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক প্রশাসন ৩, অতুল সরকারকে ছয়দফা দাবী প্রদান করেন চাকরি প্রত্যাশী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গ্রেজুয়েট পরিষদের আহবায়ক আলী হোসেন, যুগ্ম-আহবায়ক মাহবুব মোরশেদ ও জাহাঙ্গীর আলম। অতুল সরকার প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে আগামীকাল ২৩ মে এর মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন গ্রাজুয়েট পরিষদকে। পরিষদের সদস্য শাহীন আলম অপরাজেয়কে জানান, কর্মসূচি আপতত স্থগিত হবে তবে আন্দোলন চলমান থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ১০ম গ্রেডভুক্ত ৩৮ নং রিসোর্স শিক্ষক পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় গত ১৭ এপ্রিল। চাকরি প্রত্যাশী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষেরা তা বাতিল করে উক্ত পদে শুধুমাত্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের দাবী তুলেন। তাদের মতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষকগণ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিলেই তা ফলপ্রসু হয়। এছাড়াও সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি চাকরী পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শ্রুতি লেখক নীতিমালার ধারা ২৫ এর বি উপধারা অনুযায়ী শ্রুতি লেখক নিয়োগের দাবী জানান তারা। চাকরিতে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত কমপক্ষে দশ হাজার টাকা মাসিক বেকার ভাতা প্রদান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রতি বছর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরির নিশ্চিয়তায় ছয়টি দাবীতে গত ২৮ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছে।