মন্ত্রণালয় ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনে বাধ্য করতে হবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে

অপরাজেয় প্রতিবেদক

প্রতিবন্ধী নারীর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বাধ্য করার বিষয়ে বলেন গৃহায়ন ও ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব উম্মে সালমা তানজিয়া। তিনি বলেন,অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলো যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিষয়ে কাজ করে।তার জন্য প্রয়োজনে বাধ্য করতে হবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে। গত বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে ‘অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে প্রতিবন্ধী নারীর অংশগ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এমন বক্তব্য দেন তিনি। এছাড়াও তিনি নিজের দায়িত্বরত মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রবেশগম্য ভবনের সংখ্যার তালিকা তৈরি এবং অনুষ্ঠানে উত্থাপিত দাবীগুলোর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানটি প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ‘গার্লস অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স’ প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস আয়োজন করে।

বর্তমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চললেও এই উন্নয়ন ধারায় প্রতিবন্ধী নারীরা এখনো বেশ পিছিয়ে। তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। আলোচনা সভায় বক্তারা প্রতিবন্ধী নারীর অংশগ্রহণে প্রধানবাধা হিসেবে প্রবেশগম্যতা, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বিষয়ে দৃষ্টিপাত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর যুগ্ম সচিব গাজীউদ্দীন মোহাম্মদ মুনীর বলেন, অনেক প্রকল্প আছে যেগুলো প্রতিবন্ধী নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধিতা কোনো বাধা নয়।সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিষয়ে যে সকল কার্যক্রম চলছে তা যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ করেন বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব। সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, বেশির ভাগ প্রকল্পগুলো সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায়। প্রতিবন্ধী নারীকে কর্মদক্ষ ও ক্ষমতায়িত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তাছাড়াও মুক্তআলোচনায় অংশ নেওয়া ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভলাপার সগীর হোসেইন খান বলেন, নারী বিষয়ক বাজেটে প্রতিবন্ধী নারীদের অন্তর্ভুক্ত নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবন্ধী নারীদের ওয়ান টু ওয়ান প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং যে সকল কর্মজীবি প্রতিবন্ধী নারী আছেন তাদের সন্তানের জন্য কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র তৈরি করা অতিব জরুরি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে ডিসএ্যাবল চাইল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন জাহান বলেন, মহিলা ও নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রকল্পে চার বছর কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন প্রতিবন্ধী নারীর সংখ্যা আশংকাজনক ভাবে কম।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বি-স্ক্যানের সমন্বয়কারী ইফতেখার মাহমুদ এবং প্ল্যান ইন্টারনেশন্যাল বাংলাদেশ এর ক্যাপাসিটি ব্লিডিং স্পেশালিস্ট সাব্বির আহমেদ।মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন বি-স্ক্যানের  রিসার্চ এণ্ড এ্যাডভোকেসি কর্মকমর্তা নিশাত আফরোজ।

এছাড়াও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এর উপসচিব ডাঃ এস এম আবুল কাশেম বক্তব্যপ্রদান করেন। আলোচনা চলাকালীন সময়ে সরকারি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠন (ডিপিও), এনজিও এবং পেশাজীবিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ।

আলোচনায় বি-স্ক্যান প্রতিবন্ধী নারীর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ তুলে ধরে। তা নিম্নে দেওয়া হল,

  • মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিবন্ধী নারীর জন্য ১০% কোটার ব্যবস্থা করা।
  • বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে প্রতিবন্ধী নারীর জন্য ১০% কোটার ব্যবস্থা করা।
  • নারীদের জন্য চালুকৃত সকল বাসে প্রতিবন্ধী নারীর জন্য ব্যবস্থা রাখা।
  • প্রতিবন্ধী নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য নিশ্চিতে বিশেষ চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা রাখা।
  • প্রতিবন্ধী নারীর বিচারগম্যতা নিশ্চিত করতে ইশারাভাষার সহায়তাসহ সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ।
  • সামাজিক নিরাপত্তাখাতে সাধারণ নারীদের জন্য নির্ধারিত সকল স্কীমে প্রতিবন্ধী নারীর জন্য ব্যবস্থা রাখা।