স্বপ্নযাত্রায় উনিশ বছর

বিদঘুটে স্বপ্ন ভেঙে গেলে স্বপ্ন ভেবে যে প্রশান্তির ছায়া নেমে আসে তা আসেনি আশরাফুন নাহার মিষ্টির জীবনে। তবু এমনই সব ছোট ছোট বিদঘুটে স্বপ্ন নিজেকে ভেঙে দেওয়ার আগেই তিনি আবার বাঁধতে শুরু করেন নতুন স্বপ্নের ঘর-দুয়োর। এভাবেই নানা বাধা পেরিয়ে প্রতিবন্ধী নারীদের জীবনমান পরিবর্তনে তার দৃপ্ত পদচারণা আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। নির্যাতিত, নিপীড়িত প্রান্তিক প্রতিবন্ধী নারীদের অবস্থা পরিবর্তনে ছুটে চলেছেন প্রান্তর থেকে প্রান্তরে।
বাধা-বিপত্তির মধ্যেই মিষ্টি স্বপ্ন দেখেন ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনসমূহের সক্রিয় ভূমিকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব পরিবর্তন সম্ভব। অপরাজেয়-এর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় উঠে এসেছে স্বপ্ন বাস্তবায়নে মিষ্টির জীবনযাত্রার কথকতা।

অপরাজেয় প্রতিবেদক

আশরাফুন নাহার মিষ্টির জন্ম ১৯৭৭ সালে যশোর জেলায়। এগারো ভাইবোনের মধ্যে তিনি দশম। চৌদ্দ বছর বয়সে বাসার ছাদ থেকে পড়ে মেরুদন্ডে আঘাত পেলে বুকের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায় তার। চিকিৎসকের পরামর্শে কিশোর বেলাতেই বসে পড়েন হুইলচেয়ারে। তবে পৃথিবীকে জানার অদম্য স্পৃহা তাকে হুইলচেয়ারের চাকায় গড়াতে শক্তি জুগিয়েছে প্রতিনিয়ত।

যদিও সমাজ ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাগুলো তখনো বুঝে উঠতে পারেননি মিষ্টি। তাই প্রতি পদে হোঁচট খেয়েছেন। আবার নতুন করে উঠে দাঁড়িয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিকে থাকাকালীন প্রথম লক্ষ করেন হুইলচেয়ারে চলাচল অনেক বড় একটি সমস্যা। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিকে ভালো ফলের কারণে উচ্চমাধ্যমিকের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ তার শ্রেণির পাঠদান প্রক্রিয়া দোতলা থেকে ভবনের নিচতলায় করার ব্যবস্থা করে। যশোরের স্থানীয় কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়তে পড়তেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় প্রবেশের। কিন্তু চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ এবং ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও মৌখিক পরীক্ষায় হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী হওয়ার অভিযোগে ঝরে পড়েন মিষ্টি। হাল ছাড়েননি তবু। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। মিষ্টির বাবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বোঝানোর জন্য তার আরেক ভাইয়ের উদাহরণ দেন, যিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারার ক্ষোভে বাণিজ্য বিভাগ নিয়ে ভর্তি হন যশোরের স্থানীয় কলেজে। ডিগ্রি পাস করার পর কাঁটাবন এলাকার একটি সিএ ফার্মে সুযোগ পান। কিন্তু হোস্টেলগুলোতে প্রবেশগম্যতা না থাকা বিশেষত প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি হোস্টেল কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে বাবা রাজি হলেন না। এরপর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে হিসাবরক্ষণ বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন। প্রিলিতে নবম এবং ফাইনালে প্রথম স্থান অর্জন করে মাস্টার্স পাস করেন তিনি।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক প্রভাব এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবেশগম্যতার অভাব ধীরে ধীরে আরও স্পষ্ট হতে থাকে। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও মৌখিক পরীক্ষা থেকে বাদ পড়েন হুইলচেয়ার ব্যবহারের কারণে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় হুইলচেয়ার নিয়ে চলাচলে সমস্যা। ভবনের সামনে সিঁড়ি বড় ধরনের বাধা। ভেতরে প্রবেশগম্য টয়লেট থাকে না। এ সমস্যা ছাড়াও কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই তাকে চাকরিতে নিতে অস্বীকার করেন। এমনকি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মরত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করলে তারাও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী নারী হওয়ার কারণে অসম্মতি জানায়। বিষয়টি মিষ্টিকে আঘাত করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থায় (বিপিকেএস) চাকরি পেয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যেমন মিষ্টিকে চার দেয়ালের গন্ডিতে আবদ্ধ করতে পারেনি, তেমনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মিষ্টি নানান বাধাকেই শক্তিতে পরিণত করেছেন। নিজের জীবনের প্রতি মুহূর্ত দিয়ে অনুধাবন করেছেন এ দেশের প্রতিবন্ধী নারীর অবস্থান। তৃণমূলে প্রতিবন্ধী নারীদের কণ্ঠস্বর জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে প্রতিবন্ধী নারীদের সংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন মিষ্টি সে সময়। কর্মজীবনের দুই বছর পর থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগোনোর প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। শহরে ও তৃণমূলে কর্মজীবি এবং সাধারণ প্রতিবন্ধী নারীদের একত্র করে তাদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। বিপিকেএস এর উদ্যোগে ২০০৩ সালে শ খানেক প্রতিবন্ধী নারীর অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এক সভায় তিনি লক্ষ করলেন, শহর ও গ্রামাঞ্চলে প্রতিবন্ধী নারীর অবস্থা একই। প্রতিবন্ধী নারীদের নিয়ে কর্মরত সংগঠন রয়েছে এবং তাদের যুক্ত করা হলেও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ কোথাও নেই। কারণ, কোথাও তাদের কণ্ঠস্বর নেই। মূল সমস্যা হলো প্রতিবন্ধী নারী পরিবার ও সমাজ থেকে তেমন সহযোগিতা পায় না। আমাদের দেশে স্বাভাবিক সামাজিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রতিবন্ধী পুরুষেরা ঘরে-বাইরে স্বচ্ছন্দে যে কারও সহযোগিতা নিতে পারে এবং পায়ও। সে তুলনায় প্রতিবন্ধী নারীরা নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অসহযোগিতার শিকার হয় বেশি। এখানেই প্রতিবন্ধী নারীর প্রতি মূল বৈষম্য ঘটে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী নারীদের নেতৃত্বে স্বাধীন সংগঠনের অভাববোধ থেকেই মিষ্টিসহ সাতজন শিক্ষিত প্রতিবন্ধী নারী ২০০৭ সালে গঠন করলেন উইমেন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটি ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডব্লিউডিডিএফ)। তারা তৃণমূলে প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতি বৈষম্য দূর করতে তিনটি ধাপে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমত জাতীয় পর্যায়ে জনওকালতি, দ্বিতীয়ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধী নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং তৃতীয়ত তৃণমূলে প্রতিবন্ধী নারীদের নেতৃত্বে দক্ষতা বৃদ্ধি ও অংশগ্রহণ, তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এই সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন মিষ্টি। তারা আন্তর্জাতিক গ্লোবাল উইমেন কমিউনিকেশন (ডব্লিউআইডিএ) এবং গ্লোবাল ফাউন্ডেশন ফর ওম্যানসহ একসঙ্গে কাজ করছেন।

প্রতিবন্ধী নারীর ঘর থেকে বের না হওয়ার প্রবণতা কাটিয়ে তুলতে ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে গিয়ে ডব্লিউডিডিএফ অনুধাবন করল, নির্যাতিত প্রতিবন্ধী নারীদের নিয়ে কাজ করা দরকার। আইনি প্রবেশগম্যতা নিয়ে জনওকালতি করতে গিয়ে খানিকটা প্রতিবন্ধী নারীদের বোঝাতে সক্ষম হন, চাইলে নিজেরাই আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন তারা। তবে পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না থাকার ফলে আইনি সহায়তা দিতে গিয়ে প্রায় সময়ই আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় সংগঠনকে। কারণ, আইনি জটিলতায় মামলাগুলো দ্রুত ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার কোনো উপায় না থাকায় বিচারের মাধ্যমে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। প্রসঙ্গক্রমে মিষ্টি বলেন, প্রতিবন্ধী নারী ও শিশু নির্যাতন কেসগুলোকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনতে বিভিন্ন বার কাউন্সিলর এবং জজের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের খসড়া অনুমোদন পায় ২০০৩ সালে, তখন থেকেই প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুর বিষয়ে এই আইনে আলাদাভাবে উল্লেখ রাখার জন্য আমরা জোর প্রচেষ্টা চালালেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ব্যর্থ হয়েছি। তবে পূর্বের অভিজ্ঞতায় প্রতিবন্ধী নারীর নির্যাতনের কেসে থানা কোনো উদ্যোগ নিতে চাইত না। গুরুত্ব দিত না। দীর্ঘদিন এ নিয়ে কাজ করার ফলে অন্তত আমাদের কর্ম এলাকায় থানায় কোনো কেস নিয়ে গেলে এখন পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, ওসিসি সেন্টারসহ সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রম এবং কেন্দ্রগুলোতে প্রতিবন্ধী নারী ভুক্তভোগিদের সহায়তা সহজতর করার জন্য আমরা ২০০৬ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আইনি প্রবেশগম্যতা নিয়ে ২০১৭-২০১৮ তে বগুড়া জেলায় কাজের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী নারীর আইনের আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ আশপাশের থানাগুলোকে একত্র করে আমাদের বিভিন্ন জনওকালতিমূলক সভা হয় এবং এতে সচেতনতা বাড়ে। তবে নির্যাতিত প্রতিবন্ধী নারীর পুনর্বাসনের জন্য আরও বড় পরিসরে সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন মিষ্টি। বিশেষ করে তৃণমূলের প্রতিবন্ধী নারীরা সরকারি সেবাগুলো সঠিকভাবে পাচ্ছে না।

এ জন্য প্রতিবন্ধী নারীর কণ্ঠ শক্তিশালী করতে তাদের সর্বস্তরে অংশগ্রহণ জোরালো করতে তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রতিবন্ধী নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে ডব্লিউডিডিএফ থেকে উৎসাহ দেওয়া হয়। তবে প্রতিবন্ধী নারীদের ক্ষমতায়ন ও সমতাতে রয়েছে বিস্তর বৈষম্য। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কিছুটা সচেতনতা বা প্রচেষ্টা দেখা গেলেও হচ্ছে না জাতীয় পর্যায়ে। ২০১৫ সালের নির্বাচনে একজন প্রতিবন্ধী নারী মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে অপমানিত হন। জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা, ২০১১-এর জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’র খসড়া প্রণয়ন কমিটিতে সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন সংক্রান্ত ধারা ৩২.৭ এ আলাদাভাবে প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য দুটি আসনের উল্লেখ আমরা নিশ্চিত করেছি। তবে এখন পর্যন্ত এই দুই আসনে প্রতিবন্ধী নারীর অংশগ্রহণ প্রক্রিয়ার ভেতরে না সরকার পৌঁছাতে পেরেছে, না প্রতিবন্ধী নারীরা পৌঁছাতে পেরেছে। তিনি জানান, পারিবারিক-সামাজিক চাপ ও ভীতি উপেক্ষা করে প্রতিবন্ধী নারী এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে এই প্রত্যাশায় কাজ করে যাচ্ছে তার সংগঠন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবিষয়ক ভিন্ন ভিন্ন এ ধরনের সমস্যাগুলো ২০০৮-২০১৮ পর্যন্ত নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ সনদ সিডও এবং ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে, তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন মিষ্টি। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরও বলেন, সরকারের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বিষয়ক পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয় উঠে আসছে অথচ তৃণমূলের নারীরা এসডিজি কী, সেটা এখন পর্যন্ত জানেন না। বিষয়গুলো অনেকটা প্রহসন যেমন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রেরিত জাতীয় স্বেচ্ছাপ্রণোদিত পর্যালোচনা (ভিএনআর) প্রতিবেদনেও প্রতিবন্ধী নারীর বিষয়টি একেবারেই আসেনি। সরকারের কাছে প্রতিবন্ধী নারীর বিষয়টি তাই আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রবেশগম্যতা বিষয়ে মিষ্টি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবিষয়ক ফোকাল মন্ত্রণালয় হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রত্যাশা অনেক। তাদের অবহেলার কারণেও সমষ্টিগতভাবে যেটুকু কাজ হওয়া দরকার, প্রতিবন্ধী মানুষের বিষয়ে তার এক শ ভাগের এক ভাগও কাজ হয়নি বলে মনে করেন তিনি। জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় সর্বজনীন প্রবেশগম্যতা বাধ্যতামূলক হলেও খোদ সচিবালয়ের অধিকাংশ ভবন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব নয়। র‌্যাম্প বা টেকটাইল ব্লকের ক্ষেত্রেও সঠিক নিয়ম মানা হচ্ছে না। হুইলচেয়ার প্রবেশগম্য একটি গণপরিবহনের জন্য বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। কিন্তু তাতেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সারা পৃথিবী বলছে
Leave NO One Behind বা কাউকে বাদ রেখে নয় কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখতে পাচ্ছি “Everyone is living behind who have disabilities ” বিশেষ করে আমাদের প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সরকারের নিজস্ব কোনো উদ্যোগ নেই।

প্রতিবন্ধী নারীর উন্নয়নে আশরাফুন নাহার মিষ্টি কাটিয়ে দিয়েছেন উনিশটা বছর। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন উইমেন্স ফোরাম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা। তিনি স্বপ্ন দেখেন সাধারণ মানুষের ইতিবাচক মনোভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে সমাজে আমূল পরিবর্তন আসবে। শিক্ষাঙ্গনে প্রতিবন্ধী কন্যাশিশুদের উপস্থিতি থাকবে চোখে পড়ার মতো। প্রতিবন্ধী নারীরা স্বাবলম্বী হবে। যাতায়াত ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থায় শতকরা পঞ্চাশ ভাগ সর্বজনীন প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নির্যাতিত প্রতিবন্ধী নারীরা আইনি সহায়তা পাবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকায় এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।